ঢাকা : ১০ ডিসেম্বর, ২০১৬, শনিবার, ১০:৪৮ অপরাহ্ণ
A huge collection of 3400+ free website templates JAR theme com WP themes and more at the biggest community-driven free web design site

আব্বাসের প্রস্তাবিত কমিটি আটকে দিলেন খোকা

anaojanabd-600x330আহ্বায়ক মির্জা আব্বাসের প্রস্তাবিত ঢাকা মহানগর বিএনপির উত্তর ও দক্ষিণের দুটি কমিটি আটকে দিয়েছেন সাবেক আহ্বায়ক সাদেক হোসেন খোকা। খোকাপন্থিদের বাদ দিয়ে একচ্ছত্রভাবে নিজের অনুসারীদের শীর্ষ পদে এনে নতুন কমিটি গঠন করে চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার কাছে জমা দিয়েছিলেন মির্জা আব্বাস। শিগগির নতুন ওই কমিটি দুটি ঘোষণা দেওয়ারও কথা ছিল। এ খবর পেয়ে ব্যাপক তদবির-লবিং করে কমিটি ঘোষণা আটকাতে সক্ষম হন খোকাপন্থিরা। একই সঙ্গে পাল্টা দুটি কমিটি অনুমোদনের জন্য খালেদা জিয়া ও দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কাছে জমা দিয়েছেন তারা। এ পরিস্থিতিতে বিএনপির রাজনীতিতে ঢাকা মহানগরের এ দুই প্রভাবশালী নেতার অনুসারীদের সমন্বয় করেই কমিটি ঘোষণা করবে দলের হাইকমান্ড। এ ক্ষেত্রে কমিটি গঠনে কিছুটা বিলম্ব হতে পারে বলে জানা গেছে।

সূত্র জানায়, গত ১৩ নভেম্বর মহানগরের আহ্বায়ক মির্জা আব্বাস, যুগ্ম আহ্বায়ক আবদুল আউয়াল মিন্টুসহ শীর্ষ নেতারা খালেদা জিয়ার সঙ্গে গুলশান কার্যালয়ে সাক্ষাৎ করেন। ওই সময় খালেদা জিয়ার হাতে ঢাকা মহানগরকে উত্তর ও দক্ষিণে দুই ভাগে বিভক্ত করে বিএনপির দুটি প্রস্তাবিত কমিটি জমা দেন তারা। কমিটিতে মহানগর উত্তরে সভাপতি হিসেবে আবুল খায়ের ভূঁইয়া এবং সাধারণ সম্পাদক পদে তাবিথ আউয়ালের নাম প্রস্তাব করা হয়েছে। দক্ষিণের সভাপতি হিসেবে প্রস্তাব করা হয়েছে কাজী আবুল বাশার ও সাধারণ সম্পাদক পদে ইউনুস মৃধাকে। একই সঙ্গে মহানগরের শীর্ষস্থানীয় নেতাদের নামের তালিকাও দেওয়া হয়। ওই তালিকা থেকে দুটি শাখায় প্রথম শীর্ষ পাঁচ নেতার নাম ঘোষণা করার প্রস্তাব করা হয়। পরে প্রস্তাবিত তালিকা থেকে পূর্ণাঙ্গ কমিটি করার কথা ছিল।

অন্যদিকে, সাদেক হোসেন খোকা দক্ষিণের তার অনুসারী আবদুস সালামকে সভাপতি ও নবীউল্লাহ নবীকে সাধারণ সম্পাদক এবং উত্তরে আবদুল কাইয়ুমকে সভাপতি ও আহসান উল্লাহ হাসানকে সাধারণ সম্পাদকের নাম প্রস্তাব করে পাল্টা কমিটি দেন। একই সঙ্গে ৭০-৭৫ জন সম্ভাব্য নেতার নামের একটি তালিকাও দেওয়া হয়। ওই তালিকা থেকে গুরুত্বপূর্ণ পদ বণ্টন করার অনুরোধ জানান তিনি।

সূত্র জানায়, স্থায়ী কমিটির সদস্য ও মহানগর বিএনপির আহ্বায়কের জমা দেওয়া প্রস্তাবিত কমিটিতে মির্জা আব্বাসের অনুসারীদের আধিক্য ছিল। ক্ষুব্ধ খোকার অনুসারীরা যুক্তরাষ্ট্রে চিকিৎসাধীন বিএনপির সহসভাপতি সাদেক হোসেন খোকাকে বিষয়টি অবহিত করেন। এ পরিস্থিতিতে সাদেক হোসেন খোকা দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও লন্ডনে অবস্থানরত সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করেন।

সূত্র জানায়, তারেক রহমান মা ও দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে আব্বাস এবং খোকা দুই গ্রুপের নেতাদের সমন্বয়ের মাধ্যমে কমিটি গঠনের অনুরোধ জানান। একই সঙ্গে তিনি বলেন, শুধু মির্জা আব্বাসের বলয়ের নেতাদের দিয়ে কমিটি গঠন করলে খোকার অনুসারীরা নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়বেন। এতে দল সাংগঠনিকভাবে দুর্বল হয়ে যাবে।

বিএনপির একজন সিনিয়র নেতা সমকালকে জানান, তারেক রহমানের পক্ষ থেকে মির্জা আব্বাসকে নতুন কমিটি গঠনের ব্যাপারে ‘বিশেষ বার্তা’ পাঠানো হয়েছে। ওই বার্তার বিষয়টি মির্জা আব্বাস দলের চেয়ারপারসনকে অবহিত করেন। তারেক রহমান মির্জা আব্বাসকেও কমিটি গঠনে সব পক্ষের নেতাদের সমন্বয় করে গুরুত্বপূর্ণ পদ-পদবিতে আনার পরামর্শ দেন।

একটি সূত্র জানায়, খালেদা জিয়া আবদুল আউয়াল মিন্টুর ছেলেকে মহানগরের রাজনীতিতে জড়িত না করার পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, তাবিথকে তিনি অন্য জায়গায় কাজে লাগাবেন। মহানগরের নেতৃত্বে আনলে দলের অন্য ‘গুরুত্বপূর্ণ’ কাজ করানো কঠিন হবে।

দক্ষিণের সভাপতি পদপ্রত্যাশী ও বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুস সালাম বলেন, দলের চেয়ারপারসন যোগ্য নেতাদের নেতৃত্বেই নতুন কমিটি গঠন করবেন বলে তারা আশাবাদী। একই সঙ্গে তিনি বলেন, যারাই শীর্ষ পদে আসুন তাদের নেতৃত্বে সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করবেন।

সূত্র জানায়, হাইকমান্ডের এ মনোভাবের খবরে ক্ষুব্ধ হয়েছেন মির্জা আব্বাসের অনুসারীরা। বিশেষ করে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ও মহানগর বিএনপির অন্যতম উপদেষ্টা গয়েশ্বর চন্দ্র রায় সম্প্রতি প্রেস ক্লাবে এক আলোচনা সভায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। দলের চেয়ারপারসন ও সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যানকে উদ্দেশ করে তিনি বলেছেন, চাটুকারদের কাছ থেকে রাজনীতিবিদরা কখনই রেহাই পান না। দুর্দিনে যারা আপনাকে ফেলে যাবেন না, তাদের হাত-পা দুর্বল করে দেবেন না। যারা সুবিধাবাদী তাদের কথা শুনলে ক্ষতি হবে। দলে এমন কিছু রাজনীতিবিদ আছেন যারা সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখেন, আবার বিএনপিকে খুশি রাখেন। সুবিধাবাদীরা এত তৎপর যে তারা দেশে-বিদেশে অবারিত সুবিধাও নেন।

২০১৪ সালের ১৮ জুলাই দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসকে আহ্বায়ক করে ঢাকা মহানগর বিএনপির নতুন আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়। কমিটিকে এক মাসের সময় দিয়ে মহানগরের সব ওয়ার্ড ও থানা কমিটি গঠন করতে বলা হয়েছিল। অবশ্য গত প্রায় আড়াই বছরেও তা করতে পারেননি তারা। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি নির্বাচন বাতিলের দাবিতে আন্দোলন এবং ২০১৫ সালের জানুয়ারি থেকে বিএনপির টানা আন্দোলনে এ কমিটি ছিল নিষ্ক্রিয়।

সূত্র জানায়, সাদেক হোসেন খোকার নেতৃত্বাধীন কমিটির বিরুদ্ধে ব্যর্থতার অভিযোগ আনায় আব্বাসের নেতৃত্বে নগর কমিটি ঘোষণা করা হয়েছিল। অথচ আজ পর্যন্ত রাজধানীর রাজপথে কোনো সভা-সমাবেশ ও মিছিল করতে পারেনি মির্জা আব্বাসের নেতৃত্বাধীন কমিটিও।

এ সম্পর্কিত আরও

Check Also

দলের বিদ্রহী প্রার্থী হয়ে নির্বাচনে অংশ নিলে, দল থেকে তাদের বহিস্কার :মোশারফ

মাদারীপুর প্রতিনিধি : আগামী ২৮ ডিসেম্বর জেলা পরিষদ নির্বচনে দলের বিদ্রহী প্রার্থী হয়ে নির্বাচনে অংশ নিলে, …

Mountain View

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *