Mountain View

তের মাস পর মায়ের কোলে ফিরলো ফরিদপুরের রোকসানা

প্রকাশিতঃ নভেম্বর ২৭, ২০১৬ at ৮:৪৮ অপরাহ্ণ

dsc_0024
দীর্ঘ তের মাস পরে বাবাকে হারিয়ে মায়ের কোলে ফিরলো রোকসানা খাতুন (১৫)। রোকসানা খাতুন ফরিদপুর সদর উপজেলার ঈশান গোপালপুর ইউনিয়নের ফতেপুর গ্রামের মৃত শাহাদাত শেখের একমাত্র কন্যা। এদিকে মেয়ের শোকে নিজ কন্যাকে শেষ দেখাও দেখতে পারলেন না বাবা মৃত শাহাদাত শেখ। ১ নভেম্বর নিজ বাড়িতে মেয়ের শোকে মৃত্যুবরণ করেন শাহাদাত। রোকসানাও বাবাকে একনজর দেখতে পারেনি।
 
বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড এন্ড সার্ভিসেস ট্রাষ্ট ফরিদপুর জেলা শাখা এবং ঈশান গোপালপুর ৪ নং ওয়ার্ড ইউপি মেম্বার রেজাউল করিম বাচ্চুর সহযোগিতায় রোকসানাকে মায়ের কোলে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। 
 
জানা যায়, মৃত শাহাদাত শেখ ঢাকায় রিকসা চালিয়ে সংসার পরিচালনা করতেন। অভাবের সংসার ছিলো তার। একটু সাচ্ছন্দ্যে থাকার জন্য গত বছর ২০১৫ সালের অক্টোবর মাসে ঢাকার নিজের একমাত্র কন্যাকে অভাবের তারনায় ফরিদপুর থেকে নিয়ে পুরান ঢাকার গেন্ডারিয়ায় আলামিনের বাড়িতে ঐ বাড়ির কেয়ারটেকার হাবিবের স্ত্রী পারভীনে মাধ্যমে ৩ হাজার টাকা বেতনে গৃহকর্মির কাজে পাঠান। মৃত শাহাদাত প্রথম মাসে বেতন ও মেয়ের সাথে দেখা কারার সুযোগ পায়। পরের মাস থেকে মৃত শাহাদাত মেয়েকে দেখেতে চাইলে তাকে আর দেখেতে বা তার মেয়ে রোকসানার সাথে কোন প্রকার যোগাযোগ করতে দেয়না। পরে তাকে আরো দুই মাসের বেতন পরিশোধ করে আলামিন। 
 
এরপর থেকে আলামিনের পরিবার রোকসানার সাথে আর দেখা করতে দেয় না। তিনি নিজ মেয়েকে না দেখতে পেয়ে ধীরে ধীরে অসুস্থ হয়ে পরে। এক পর্যায়ে ঈশান গোপালপুর ৪ নং ওয়ার্ড ইউপি মেম্বার রেজাউল করিম বাচ্চুর কাছে মৃত শাহাদাত (তখন জীবিত) সাহায্যেও জন্য গেলে মেম্বার ফরিদপুরের ব্লাস্ট অফিসে নিয়ে আসেন। ব্লাস্ট অফিসে এ্যাডভোকেসি অফিসার হাসিনা মমতাজ লাভলী গত ২৪  অক্টোবর একটি রোকসানার মায়ের নামে একটি অভিযোগ গ্রহণ করেন। পরে হাসিনা মততাজ লাভলী ঢাকার বাংলাদেশ ইউনিয়ন অব লেবার স্টাডির সহযোগিতায় ২৪ নভেম্বর রোকসানাকে আলামিনের বাড়ি থেকে উদ্ধার করে কোর্টের মাধ্যমে ফরিদপুরে মায়ের কোলে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। এদিকে নিজ মেয়ে বাড়িতে ফিরে আসার আগে মেয়ের শোকে গত ১ নভেম্বর মৃত্যু বরণ করেন বাবা।
 
 
রোকসান বলেন, আমাকে আলামিন ও তার স্ত্রী তুনাজ্জিনা আমাকে বাড়ির সকল কাজ করাতেন। আমাকে বিভিন্ন ভাবে নির্যাতন করতো তারা। অনেক সময় না খাইয়ে রাখতেন। অনেক মারধোর করতো। আমাকে বাড়ির নিচের নামতে দিতেন না। কারও সাথে কথা বলতে দিতেন না।
এ্যাডভোকেসি অফিসার হাসিনা মমতাজ লাভলী বলেন, আমরা রোকসানকে এক মাসের মধ্যে উদ্ধার করে মায়ের কোলে ফিরিয়ে দিয়েছি। দুঃখজনক ঘটনা হলো রোকসানার বাবা রোকসানাকে শেষ দেখাও দেখে যেতে পারলেন না। আমার রোকসানার বাকি  ১০ মাসের বেতন আলামিনের পরিবারের কাছ থেকে উঠানোর ব্যাবস্থা করবো।
 
ঈশান গোপালপুর ৪ নং ওয়ার্ড ইউপি মেম্বার রেজাউল করিম বাচ্চু বলেন, আমি ব্যাপারটা শোনার সাথে সাথে রোকসাকে উদ্ধারের ব্যাবস্থা গ্রহণ করতে ব্লাস্টের সহযোগিতা নেই। এদিকে কিছুদিন আগে রোকসানার বাবা মারা যাওয়ার পরিবারটা এখন অসহায় অবস্থায় পরেছে। আমি তাদের পাশে আছি। তাদের সংসার পরিচালনা করার জন্য আমার আমার যা যা করণীয় আমি তাই করবো।

এ সম্পর্কিত আরও