পাওনা টাকা আনতে গিয়ে আমি ঢাকায় অপহরণ হই : মিন্টু আলী খান

প্রকাশিতঃ নভেম্বর ২৭, ২০১৬ at ৭:০৬ অপরাহ্ণ

আমি ২০১২ সালে লিবিয়া যাই। সেখানে ব্যাকিং সিসটেম না থাকায় নোয়াখালীতে বাড়ি একজনকে আমি মামা বলে ডাকতাম। তার কাছে আমি দুই লাখ ১৩ হাজার টাকা রেখে চলে আসি। তিনি আমাকে বলেন, এখান থেকে টাকা পাঠানোর ব্যবস্থা হলে আমি বাড়িতে টাকা না পাঠিয়ে তোমাকে টাকা পাঠাবো। ওই পাওনা টাকা নিতে এসে গত মাসের ১২ তারিখে আমি ঢাকায় অপহরণ হই। পরে আমাকে চট্রগ্রাম থেকে পাসপোর্ট দিয়ে প্রথমে দুবাই পরে আম্মান এবং ইস্তাম্বুল হয়ে লিবিয়া পাঠিয়ে নির্যাতন করে আমার পরিবারের কাছ থেকে এক লাখ ১০ হাজার টাকা আদায় করে অপহরণকারী চক্রের সদস্যরা।full_135138721_1480250467

আজ রোববার বিকেল সাড়ে ৩টার সময়ে রাজধানীর কারওয়াবাজারের বিএসইসি ভবনের ১০ম তলায় র‌্যাবের গণমাধ্যম শাখায় এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন র‌্যাবের কাছে উদ্ধার হওয়া নাটোরের মিন্টু আলী খান।

তিনি আরও বলেন, আমাদের বিমানবন্দর থেকেই খেতে না দিয়ে, ভয়ভীতি দেখিয়ে লিবিয়ায় নিয়ে যায়। সেখানে নিয়ে গ্যাসের পাইপ, প্লাস, হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে নির্যাতন করে আমার বাড়িতে ছোট ভাইকে ফোন করায়। পরে আমার প্রাণের বিনিময়ে আমার ছোট ভাই তার দোকান বিক্রি করে অপরহণকারী চক্রের সদস্যদের এক লাখ টাকা দেয়। কিন্তু এতেও নিস্তার মেলেনি আমার।

এরআগে লিবিয়ায় বাংলাদেশি প্রবাসীকে জিম্মি করে বিকাশের মাধ্যমে মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগে দুই লিবিয়া প্রবাসীসহ পাঁচজন বাংলাদেশিকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। এ সময়ে মিন্টু আলী খান নামের একজন ভিকটিমকেও উদ্ধার করা  হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন-  আবদুল কুদ্দুস মোল্লা (২৫), মো. হান্টু মোল্লা (৪০), বেল্লাল মাতুব্বর (৩৩), লিটন খান (২৮), এবং  মো. নুর মোহাম্মদ ওরফে দুলাল (২৮)।

সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাব-৩ অধিনায়ক লে. কর্নেল খন্দকার গোলাম সারোয়ার বলেন, প্রবাসীদের কষ্টার্জিত আয় বাংলাদেশের একটি অর্থনীতির চালিকা শক্তি। লিবিয়ায় বাংলাদেশি দূতাবাসের মাধ্যমে জানা যায়, বাংলাদেশি প্রবাসী ও বিদেশিদের সমন্বয়ে একটি অপহরণকারী চক্র লিবিয়ায় বাংলাদেশিদের অপহরণ করে এবং তাদেরকে নির্যাতন করে মোটা অংকের মুক্তিপণ আদায় করছে। এরপর চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ থানার শ্রীকালিয়া গ্রামের মোমিন উল্লাহর ছেলে আচান উল্লাহও এসে র‌্যাব-৩ এর কার্যালয়ে এমন একটি অভিযোগ করেন।

র‌্যাবের এই কর্মকর্তা বলেন, লিবিয়ায় অবস্থানকারী প্রবাসী মো. বেলাল মাতুব্বরের নেতৃত্বে জাকির হোসেন ওরফে সাজু এবং তার বাবা লিবিয়া প্রবাসী হান্টু মোল্লা আন্তর্জাতিক মানব পাচারকারি চক্রের সদস্যরা মিলে লিবিয়ায় অবস্থানকারী কিছু বাংলাদেশিদের অপহরণ করে বিকাশের মাধ্যমে তাদের পরিবারের কাছ থেকে টাকা আদায় করছে।

কর্নেল গোলাম সারোয়ার বলেন, ভিকটিম ফয়েজ বাংলাদেশে তার ভাই আচান উল্লাহর মাধ্যমে মুক্তিপণের টাকা পরিশোধ করে গত ১২ সেপ্টেম্বর মুক্তি পেয়ে ফয়েজের অভিযোগ ফয়েজসহ আরো দুইজনকে জিম্মি করে বেনগাজীতে বেলাল, জাকির এবং জাকিরের বাবা হান্টু মোল্লা বাংলাদেশে প্রত্যেকের পরিবারের কাছে এক লাখ ২০ হাজার টাকা আদায় করে। মুক্তিপণ আদায়ের সাপেক্ষ তাদের পাসপোর্ট ছিনিয়ে নেয়া হয় এবং টাকা আদায় করা হয় বাংলাদেশের বিকাশ নম্বরে।

র‌্যব জানায়, প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে র‌্যাবের উপ-সহকারী পরিচালক শাহআলমের নেতৃত্বে অভিযান পরিচালনা করে ফরিদপুর জেলার সদরপুর থানার উজির খার কান্দি এলাকায় মুক্তিপণের টাকা লেনদেনের বিকাশ নম্বরের মালিক আবদুল কুদ্দুস মোল্লা এবং হান্টু মোল্লাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা র‌্যাবকে জানায়, চক্রের প্রধান বেলাল লিবিয়া প্রবাসী বর্তমানে বাংলাদেশে অবস্থান করছে এবং লিবিয়ায় চলে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। পরে ২৭ নভেম্বর রাজধানীর তেজগাঁও এলাকা থেকে বেলালকে গ্রেপ্তার করা হয়। ভিকটিম ফয়েজ, মফিজ এবং রাসেল বর্তমানে বাংলাদেশি দূতাবাসের হেফাজতে রয়েছে।

র‌্যাব-৩ এর অধিনায়ক আরো বলেন, অন্যদিকে র‌্যাব-১ মিন্টু আলী খানের ভাই রেন্টু খানের অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে বাংলাদেশে অপহরণকারী চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়। এই অপহরণকারী চক্রের সদস্যরা মিন্টুকে লিবিয়ার ত্রিপোলীতে আটক রেখে তার পরিবারের কাছ থেকে এক লাখ ১০ হাজার টাকা মুক্তিপণ আদায় করে। বাংলাদেশে ফিরে আসার পরে ভিকটিমকে আবারও অপহরণের চেষ্টা চালায়। এ সময়ে র‌্যাব-১ এর সদস্যরা মো. লিটন খান নুর মোহাম্মদ ওরফে দুলালকে গ্রেপ্তার করে।

সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাব-১ জেষ্ঠ সহকারী পরিচালক মঈনুল আহসান এবং র‌্যাব-৩ মেজর ফাহিম।

এ সম্পর্কিত আরও