ঢাকা : ৯ ডিসেম্বর, ২০১৬, শুক্রবার, ৩:৪০ অপরাহ্ণ
A huge collection of 3400+ free website templates JAR theme com WP themes and more at the biggest community-driven free web design site

মিরাজের অলরাউন্ড নৈপুণ্যে রাজশাহীর বিশাল জয়

miraz

ব্যাটিংয়ে এমন জাদু দেখানোর পর ম্যাচটি না জিতলে তা হতো বড় আক্ষেপের কারণ। সেই আক্ষেপ জমতে দিলেন না বোলাররা। রাজশাহীর এই বিজয়ে ব্যাট হাতে ফরহাদ রেজা আর মেহেদী মিরাজের ভূমিকা যেমন, তেমনই বোলারদের দাপটে মুখ থুবড়ে পড়ল রংপুর। দলের বিপদের সময় ফরহাদ রেজার সাথে দারুণ পারফর্ম করা তরুণ ক্রিকেটার মেহেদী হাসান মিরাজ বল হাতেও জ্বলে উঠলেন। জ্বলে উঠলেন নাজমুল ইসলাম। ফলে রংপুর রাইডার্সকে হারিয়ে ৪৯ রানে ম্যাচ জিতে নিল রাজশাহী কিংস। রাজশাহীর টানা চতুর্থ জয়ের বিপরীতে রংপুরের এটি টানা তৃতীয় পরাজয়।

টসে হেরে ব্যাট করতে নেমে ৪৩ রানে ৭ উইকেট হারানো রাজশাহী শেষ পর্যন্ত আর কোনো উইকেট না হারিয়ে ১২৮ রান সংগ্রহ করেছিল! রাজশাহীর দেওয়া এই মাঝারি টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে দলীয় ১৫ রানে প্রথম উইকেট হারায় রংপুর। শিকারী মেহেদী হাসান মিরাজ। তার বলে উইকেট কিপার উমর আকমলের হাতে ক্যাচ দেন ব্যর্থতার বৃত্তে ঘুরতে থাকা সৌম্য সরকার (১)। দলীয় ২৫ রানে আবারও উইকেট পতন। ১১ বলে ১২ রান করে মোহাম্মদ শামির বলে ড্যারেন স্যামির হাতে ধরা পড়েন মোহাম্মদ শেহজাদ। এরপর আবারও মেহেদীর আঘাত। নিজের বলে নিজেই দুর্দান্ত ক্যাচ নিয়ে ফিরিয়ে দেন ১ রান করা নাসির জামসেদকে।

দলীয় ২৯ রানে পতন ঘটে রংপুরের চতুর্থ উইকেটের। নাজমুল ইসলামের বলে এলবিডব্লিউয়ের ফাঁদে পড়েন অধিনায়ক লিওন ডসন। ব্যাট হাতে এরপর ক্রিজে আসেন বল হাতে দারুণ পারফরমেন্স দেখানো শহীদ আফ্রিদি। কিন্তু দলের আশা-ভরসার প্রতীক হয়ে থাকতে পারেননি তিনি। ৭ রান করে নাজমুল ইসলামের দ্বিতীয় শিকারে পরিণত হন তিনি। উইকেটের একপ্রান্ত আগলে পড়ে থাকা মোহাম্মদ মিথুন উমর আকমলের হাতে ক্যাচ দিয়ে সামিট প্যাটেলের শিকার হন। ২১ বলে ২ বাউন্ডারিতে তিনি করেন ২০ রান। ৫০ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে ধুঁকতে থাকা রংপুরের তখন রাজশাহী কিংসের মতো ম্যাজিক্যাল একটি জুটি দরকার ছিল। কিন্তু স্কোরবোর্ডে ৮ রান যোগ হতেই সেই বোলার নাজমুল ইসলাম আর উইকেট কিপার উমর আকমল জুটির শিকারে পরিণত হয়ে ফিরে যান জিয়াউর রহমান(৭)।

রাজশাহীর জন্য জয় ছিল তখন কেবলই সময়ের ব্যাপার। দলীয় ৬৬ রানে সোহাগ গাজীকে (৮) ফেরালেন আবুল হাসান রাজু। রাজুর দ্বিতীয় শিকারে পরিণত হন আরাফাত সানি (৯)। এরপর ৭৯ রানেই গুটিয়ে যায় রংপুরের ইনিংস।

এর আগে ব্যাট করতে নেমে দলীয় ২ রানেই প্রথম উইকেটের পতন ঘটে রাজশাহীর। রুবেল হোসেনের বলে উইকেটকিপার মোহাম্মদ শেহজাদের গ্লাভসে ধরা পড়েন জুনায়েদ সিদ্দিকী (২)। এরপর জুটি গড়ার চেষ্টা করেন মমিনুল

হক এবং সাব্বির রহমান। দুজনে মিলে ২৩ রান যোগ করতেই আরাফাত সানির ঘূর্ণিতে প্যাভিলিয়নে ফিরেন মমিনুল। ১২ বলে ১ বাউন্ডারিতে ৯ রান করা মমিনুল আরাফাত সানির হাতেই ক্যাচ দেন। দুই রানের ব্যাবধানে আবারও সানির আঘাত। শেহজাদের হাতে ক্যাচ দিয়ে বিদায় নেন সামিট প্যাটেল (২)।

এখানেই শেষ নয়, দলীয় ৩৩ রানে আবুল হাসানকে নাসির জামসেদের ক্যাচে পরিণত করেন সানি। ৬ বলে ২ রান করেছিলেন আবুল হাসান। সতীর্থদের যাওয়া আসার মিছিলে উইকেটের একপ্রান্ত আগলে রাখেন সাব্বির। স্কোরবোর্ডে আর ৩ রান যোগ হতেই মঞ্চে আবির্ভাব ঘটে শহীদ আফ্রিদির। তার ঘূর্ণিতে বোল্ড হয়ে যান তার স্বদেশী উমর আকমল (১)। এরপর আঘাত হানেন

লিয়াম ডসন। রাজশাহী অধিনায়ক স্যমিকে ৫ রানেই বোল্ড করে প্যাভিলিয়নে ফেরত পাঠান তিনি। দলের আশা-ভরসার প্রতীক হয়ে তখনও উইকেটে সাব্বির রহমান। কিন্তু বেশিক্ষণ থাকতে পারেননি। শহীদ আফ্রিদির লেগ বিফোর উইকেটের আবেদনে সাড়া দেননি আম্পায়ার। কিন্তু কথা চালাচালির এক পর্যায়ে থার্ড আম্পায়ারের ডাক পড়ে। ২০ বলে ২ বাউন্ডারিতে ১৬ রান করে ফিরে যান সাব্বির।

১০০ রানের নিচে অলআউট হয়ে যাওয়ার শংকায় পড়ে রাজশাহীর ইনিংস। কিন্তু নাটকের আরও বাকী। ব্যাট হাতে দলের হাল ধরেন দুই টেল এন্ডার ফরহাদ রেজা আর মেহেদী। দুজনে মিলে ৪৯ বলে ৫০ রানের জুটি গড়ে এগিয়ে যেতে থাকেন। বলও সমান তালে কখনও মাটি কামড়ে কখনও বাতাসে ভেসে পার হতে থাকে সীমানারেখা। ২০ ওভার শেষে ৬৪ বলে ৮৫ রান উঠে এই জুটিতে। ৩৩ বলে ৩ চার এবং  ১ ছক্কায় ৪১ রানে অপরাজিত থাকেন মেহেদী। আর ৩২ বলে ২ চার এবং ২ ছক্কায় ৪৪ রানে অপরাজিত থাকেন ফরহাদ রেজা। তাদের কল্যাণে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৭ উইকেটে ১২৮ রান সংগ্রহ করে রাজশাহী।

এ সম্পর্কিত আরও

Check Also

বিপিএলের ফাইনালের মজার যত ইতিহাস

স্পোর্টস ডেস্ক: আজ পর্দা নামছে বিপিএলের। শেষ হাসিটা হাসবে কে? উত্তর জানা যাবে ফাইনালের পর। …

Mountain View

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *