Mountain View

ইতিহাস গড়তে গিয়ে নিজেরাই ইতিহাস কাপেকোর ফুটবলাররা

প্রকাশিতঃ নভেম্বর ২৯, ২০১৬ at ৮:১৭ অপরাহ্ণ

0ccf8b71888c0b001e2a62ccc7eaadecx624x405x37ব্রাজিলের একটি ছোট্ট শহর চাপেকো। পুরো শহরটির ফুটবলের জন্য গত কয়েক বছর প্রায় স্বর্ণযুগের মতোই কেটেছে। ১৯৭০ সালের পর ২০১৪ সালে প্রথমবারের ব্রাজিলের প্রথম বিভাগে খেলার যোগ্যতা অর্জন করে নেয় শহরটির ক্লাব চাপেকোয়েন্স। গত সপ্তাহেই তারা কোপা সুদামেরিকানা টুর্নামেন্টের ফাইনালে উঠেছে। সিরি-এ, ইংলিশ লিগ আর লা-লিগার ভিড়ে কোপা সুদামেরিকানার নাম আড়াল পড়লেও মহাদেশীয় জায়গা ইউরোপে যেমন উয়েফা ইউরোপা লিগ লাতিন আমেরিকার তেমন টুর্নামেন্ট হলো কোপা সুদামেরিকানা। ফলে ব্রাজিলের শহর চাপেকোর জন্য এটা বিরাট সম্মানের। আর এটাকে ইতিহাস বানিয়ে নিতে প্রয়োজন ছিল আর একটি জয়ের। তাতে চাপেকোর ফুটবলাররা গড়ে ফেলতেন ইতিহাস। কিন্তু সেই ইতিহাস গড়তে গিয়ে অবতরণের মাত্র ৫ মিনিট পূর্বে বিমান দুর্ঘটনায় পড়ে আজ চাপেকোর ফুটবলাররাই হয়ে গেলেন ইতিহাস।

বুধবারই ছিলো কাপেকোদের ইতিহাস গড়ার দিন। সেই ইতিহাস গড়তে মঙ্গলবার ব্রাজিল থেকে যাত্রা শুরু করে বলিভিয়ায় বিরতি নিয়ে কলম্বিয়া যাচ্ছিলেন দলটির ফুটবলাররা। দলের ফুটবলার, কর্মকর্তা, কোচিং টিম, সাংবাদিক ও বিমানের ক্রু মিলিয়ে প্রায় ৮১ জন। বুধবার চাপেকোদের ফাইনালে কলম্বিয়ার আথলেথিকো নাসিওনালের সঙ্গে প্রথমবার মুখোমুখি হওয়ার কথা। স্বাভাবিকভাবেই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে ছিলো উল্লাস। বিমানে ওঠার আগে দলের সবাই এক সঙ্গে ছবিও তুলেছিলেন। দুই খেলোয়াড় সেলফি তুলে জানিয়েছিলেন, আমরা আসছি। কিন্তু কলম্বিয়ার হোসে মারিয়া কর্ডোভা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের মাত্র মিনিট পাঁচেক আগেই দুর্ঘটনায় পড়ে তাদের বহনকারী বিমান। সর্বশেষ পাওয়া খবরে জানা গেছে, ৭৬ জন আরোহী নিহত হয়েছেন আর জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে ৬ জনকে।

দুর্ঘটনায় পড়ে ইতিহাস হয়ে যাওয়া দলটির এ বছর কাটছিলো সাফল্যের ছোঁয়ায়। গত সপ্তাহেই অ্যাওয়ে ম্যাচে আর্জেন্টিনার সান লরেঞ্জোর সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করে অ্যাগ্রিগেটে ফাইনালে পৌঁছে যায় চাপেকোরা। এটা একেবারে যেই সেই সাফল্য না। শুধু ছোট্ট শহর চাপেকো নয়; পুরো ব্রাজিলের জন্যই ছিল তা গর্বের। কারণ ২০১৩ সালের পর চাপেকোয়েন্সই লাতিন আমেরিকার কোনও গুরুত্বপূর্ণ টুর্নামেন্টের ফাইনালে উঠল। আর্জেন্টিনার ক্লাবকে হারানোর পর খেলা বিষয়ক সংবাদমাধ্যম ইএসপিএন কাপেকোদের ‘গ্ল্যামারবিহীন কিন্তু ক্রমবর্ধমান’ ক্লাব হিসেবে আখ্যায়িত করেছিল।

চাপেকোয়েন্স ক্লাবের যাত্রা শুরু হয়েছিল ১৯৭৩ সালে। দক্ষিণ ব্রাজিলের শহর চাপেকোতে। সান্তা কাটারিনাতে তাদের নিজস্ব একটি স্টেডিয়াম রয়েছে। সাড়ে ২২ হাজার দর্শকের ধারণক্ষমতা সম্পন্ন স্টেডিয়ামটির নাম আরেনা কন্ডা। ফাইনালের দ্বিতীয় লেগে চাপেকোদের নিজেদের মাঠে খেলার সুযোগ ছিল না। কারণ টুর্নামেন্টটির নিয়ম অনুযায়ী ফাইনাল ৪০ হাজার দর্শক ধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন মাঠে হতে হবে। অবশ্য এখন আর তা প্রাসঙ্গিক না।দলটির ম্যানেজার ছিলেন কাইয়ো জুনিয়র। যিনি ব্রাজিল জুড়ে কোচিং করে বেড়িয়েছেন।

চাপেকোরা গত তিনটি মওসুম ধরে ব্রাজিলের প্রথম বিভাগে খেলছে। ২০১৪ সালে তারা লিগের শীর্ষস্থান দখল করে। ২০০৯ সালে তারা লিগে চতুর্থ হয়েছিল। ফলে মহাদেশীয় কাপের ফাইনালে পৌঁছে যাওয়াটা ছিলো তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অর্জন।

চাপেকোদের ক্লাবটি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে খুব পরিচিত না হলেও দলে কয়েকজন ভালো খেলোয়াড় রয়েছেন। যারা ইউরোপের বিভিন্ন দেশের ক্লাবে খেলছেন। দলটির গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়দের মধ্যে রয়েছেন আনানিয়াস। যিনি ক্রুজেইরো থেকে ধারে এসেছিলেন খেলতে। সেমিফাইনালে সান লরেঞ্জোর বিপক্ষে তার দেওয়া গোলেই ফাইনালে ওঠে চাপেকোরা।

ধারে আসা আরেক জার্মানির বুন্দেস লিগের হফেনহেইম দলের মিডফিল্ডার ২১ বছরের ম্যাথিউর বিটেকো। গোল কিপার মার্সেলো বোয়েক ২০১১-২০১৬ পর্যন্ত পাঁচ বছর কাটিয়েছেন পর্তুগালের স্পোটিং লিসবনে। সেখানে তার টিমমেট ছিলেন লিচেস্টারের বর্তমান স্ট্রাইকার ইসলাম স্লিমানি। ২০১৫ সালের আগস্টে স্পোর্টিং লিসবন পর্তুগিজ সুপার কাপ জয়ের উৎসব করতে গিয়ে ঝামেলায় পড়েছিলেন বোয়েক। স্লিমানির কাছে শ্যাম্পেন ছিটিয়ে দেওয়ার ফলে তাকে ক্লাব ছেড়ে চলে আসতে হয়। স্লিমানি মুসলমান হওয়ায় তার মদ ছোঁয়া হারাম।

আরেক পরিচিত ফুটবলার ছিলেন স্লেভার সান্তানা। যিনি স্পেনের অ্যাথলেটিকো মাদ্রিদ ও মালোরকাতে মিড ফিল্ডার হিসেবে খেলেছেন।

কলম্বিয়ায় ফাইনালের প্রথম লেগ খেলে ৭ ডিসেম্বর ব্রাজিলে ফেরার কথা ছিলো চাপেকো দের। কিন্তু ফাইনাল খেলাই হলো না। ফাইনাল জিতলে ইতিহাসই গড়তেন তারা। কিন্তু আজ বিমান দুর্ঘটনায় পড়ে আজ পুরো কাপেকোয়েন্সই ইতিহাস হয়ে গেলো। ফুটবল দলের শোকে কাতর চাপেকোর ২২ হাজার বাসিন্দা। জানিয়েছেন ক্লাবটির ভাইস প্রেসিডেন্ট ইভান টজ্জো।

এ সম্পর্কিত আরও

Mountain View