Mountain View

নবীনগরে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বাঁশের সাকো দিয়ে চলছে ছয় গ্রামের মানুষ

প্রকাশিতঃ নভেম্বর ২৯, ২০১৬ at ৭:৩৬ অপরাহ্ণ

15239351_1608346402804649_1584419417_nনবীনগর প্রতিনিধিঃ বাঁশের সাকো দিয়ে দুই ইউনিয়নবাসীর চলাচল- ছয় গ্রামবাসীর অবর্ণনীয় দুর্ভোগ ব্রাক্ষণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার রছুল্লাবাদ ইউনিয়ন ও পাশের সাতমোড়া ইউনিয়নের ৬ গ্রামের মানুষের যাতায়াতের একমাত্র ভরসা রছুল্লাবাদ (পুর্বপাড়া) গ্রামে যমুনা খালের (মেঘনা নদীর শাখা) উপর একটি বাশের সাকো। 
 
এ বাশের সাকোর উপর দিয়ে স্কুল কলেজের ছাত্রছাত্রীসহ প্রতিদিন কয়েক হাজার গ্রামবাসী জীবনের ঝুকি নিয়ে যাতায়াত করে থাকে। সাতমোড়া ইউনিয়নের বড় শিকানিকা, ছোট শিকানিকা,পদ্দনগর,কাজেল্লা সহ রছুল্লাবাদ ইউনিয়নের রছুল্লাবাদ পুর্বপাড়া ও দক্ষিনপাড়ার শতাধিক পরিবারের লোকজনের যাতায়াত এ বাশের সাকোর উপর দিয়ে। 
 
একটি মাত্র বাশ দিয়ে তৈরী এ সাকোর উপর দিয়ে যাতায়াত করতে গিয়ে সবচেয়ে বেশি সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে কোমলমতি শিশু কিশোর ও বৃদ্ধারা। গ্রামবাসীরা জানান, প্রতিদিন স্কুল,কলেজ ও হাট বাজার ও নিত্য চলাচলে হাজারো পথচারী ঝুকি নিয়ে সাকোর উপর দিয়ে পথ চলে। তিক্ত অভিজ্ঞতা ও অবর্ণনীয় দুর্ভোগ ছাড়াও এ সাঁকো পার হতে গিয়ে অনেকেই প্রান হারিয়েছে বলে জানান রছুল্লাবাদ পুর্বপাড়া গ্রামের মোরশেদ মিয়ার স্ত্রী দেলোয়ারা বেগম। ৬৫ বছরের ওই মহিলা জানান, হাক্কা দিয়া কত পার অওন যায়। এন্দা একটা বিরিজ (ব্রিজ) করতারেনা। 
 
তিনি জানান, গত বছর এই সাঁকো পার হতে গিয়ে তার ৭ বছরের নাতিন সোহাগী আকতার পানিতে ডুবে মারা গেছে। সে সময় সাঁকো পার হচ্ছিলেন একই গ্রামের খন্দকার নাজনু মিয়া, আব্দুল হাকিম, মোঃ মুজিবুর মিয়া জানান, স্বাধীনতা পরবর্তী সময় থেকে এ অঞ্চলে একটি সেতুর অভাবে আজো তাদের জীবনধারার পরিবর্তন হয়নি। যার কারনে সাঁকো নামক পারাপারের মাধ্যমটুকু স্থানীয়দের বিষিয়ে তুলেছে । 
 
কয়েকজন এলাকাবাসি জানালেন, বড় শিকানিকা, ছোট শিকানিকা,পদ্দনগর,কাজেল্লা সহ আরো কয়েক গ্রামে নিজস্ব কোন হাট না থাকায় তারা সেতু পার হয়েই রছুল্লাবাদ বাজারে এসে দৈনন্দিন চাহিদা মেটায়। এছাড়াও এখানে হাইস্কুল, মাদ্রাসা না থাকায় তারা দুরবর্তী এলাকায় গিয়ে পাঠদান করতে হয়। এতে করে বিকল্প সড়ক ব্যবস্থা না থাকায় সাঁকো ব্যতিত তারা পথ চলতে পারেনা। 
 
রছুল্লাবাদ গ্রামের বাসিন্দা জাবেদ,সৌরব ব্যরিস্টার জাকির কলেজের শিক্ষার্থী। তারা জানালেন,সল্প সময়ে কলেজে আসা যাওয়ায় সাঁকো ব্যবহার নিত্য সঙ্গী হয়ে গেছে। অন্যথায় বিকল্প পথে কলেজে আসা যাওয়া করতে গেলে রছুল্লবাদ থেকে সিএনজি কিংবা অটোতে ভাড়া খরচ পরবে প্রতিদিন দেড় থেকে দুইশত টাকা। যাকিনা যে কোন শিক্ষার্থীদের জন্য অসম্ভব। গ্রামবাসীদের অনেকেই আক্ষেপের সুরে বলেন, নির্বাচনের সময় জনপ্রতিনিধিরা আমাদের কাছে আসে ভোট নিতে। অনেকেই প্রতিশ্রুতি দেয় আমাদের যাতায়াতের পথে ব্রীজ নির্মাণ করে দেয়ার। কিন্তু নির্বাচনের পর কেউ আর গ্রামবাসীদের খোজ-খবর নেয় না। 
 
রছুল্লাবাদ উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানিজিং কমিটির সদস্য খন্দকার শুকরান জানালেন, উন্নয়নের ধারাবাহিকতায় যেখানে সব কিছুর পরিবর্তন হচ্ছে। সেখানে এ এলাকায় এর ছিটেফোটা না পড়ায় এখনো অবহেলিত জীবন পাড় করছেন তারা। তিনি সহ গ্রামবাসীর প্রানের দাবী এখানে একটি ব্রীজ নির্মাণ করে অর্থনৈতিক দিক ও শিক্ষা ব্যবস্থা চাঙ্গা করতে সংশ্লীষ্ঠদের এগিয়ে আসা উচিত। রছুল্লাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলী আকবর জানান, তিনি এর আগের বার এ পরিষদের চেয়ারম্যান থাকাকালীন সময়ে সয়েল টেস্ট করে এস্টিমেন্ট এলজিইডি দপ্তরে পাঠিয়েছেন। তিনি আরো জানান, সেতু নির্মানের বিষয়টি বাস্তবায়ন পক্রিয়ায় রয়েছে।
 
 খুব দ্রুত এর বাস্তবায়ন হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। এ বিষয়ে কথা বলতে এলজিইডি উপজেলা নির্বাহী প্রকৌশলী নুরুল ইসলাম বলেন, এ বিষয়ে আমরা একটি প্রস্তাব উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকটে পাঠিয়েছি, তা অনুমোদন হলে ওই অঞ্চলে ব্রিজ নির্মাণ করা সম্ভব হবে।

এ সম্পর্কিত আরও

Mountain View