পিছিয়েই পড়ছে বার্সা

প্রকাশিতঃ নভেম্বর ২৯, ২০১৬ at ৭:৩০ পূর্বাহ্ণ

29565d25e528b4c666022099a4fc513cx600x400x12-jpeg3480x

জার্সিতেই কেবল গেছে চেনা; দলটা বার্সেলোনা। সবুজ ঘাসে বিখ্যাত ‘এমএসএন’ ত্রয়ী ছিলেন অচেনা। বল পজেশন কিংবা আক্রমণ_ সবকিছুতেই ছিল রিয়াল সোসিয়েদাদের আধিপত্য। অভিশপ্ত সান সেবাস্তিয়ানে এলোমেলো কাতালানরা। নয় বছর ধরে সোসিয়েদাদের মাঠে জিততে না পারার হতাশা আরও বাড়ল বার্সা সমর্থকদের। রোববার রাতে তো ভাগ্যের জোরে এক পয়েন্ট পেয়েছে লা লীগার বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। পিছিয়ে পড়েও লিওনেল মেসির কল্যাণে সোসিয়েদাদের মাঠে স্প্যানিশ লীগে ১-১ গোলে কোনোমতে ড্র করেছে লুইস এনরিকের দল। লা লীগায় এটা তাদের টানা দ্বিতীয় ড্র। এর আগে ন্যু ক্যাম্পে মালাগার সঙ্গে গোলশূন্য ড্র করেছিল বার্সা। সোসিয়েদাদের বিপক্ষে এই ড্রয়েই লা লীগায় আরও পিছিয়ে দিল বার্সেলোনাকে। রিয়াল মাদ্রিদের সঙ্গে পয়েন্টের ব্যবধান এখন ৬। আগামী সপ্তাহে ন্যু ক্যাম্পে এল ক্ল্যাসিকোতে বার্সা হারলে শিরোপারও বুঝি মীমাংসা হয়ে যাবে?

২০০৭ সালের পর সান সেবাস্তিয়ানে কখনোই জিততে পারেনি বার্সেলোনা। গত সাত ম্যাচে এই মাঠে জয়ের হাসি ছিল না বার্সার সমর্থকদের মুখে। এবার সেই দুঃখটা ঘোচানোর মিশনে সোসিয়েদাদের মাঠে গিয়েছিল কাতালানরা। কিন্তু সেবাস্তিয়ানে এ কোন বার্সা! ম্যাচের প্রথমার্ধে তো প্রতিপক্ষের গোলপোস্টে একটি শটও নিতে পারেনি লিওনেল মেসি, লুইস সুুয়ারেজ ও নেইমাররা। আর সোসিয়েদাদের রক্ষণসীমানায় প্রথম আক্রমণটা শানাতে ৪১ মিনিট সময় লাগে বার্সার। দ্বিতীয়ার্ধের কিছু সময় বাদে বিশ্বের সেরা আক্রমণভাগ থাকল নিজেদের ছায়া হয়ে। বিপরীতে আক্রমণের বন্যায় বার্সাকে প্রায় ভাসিয়েই দিচ্ছিল সোসিয়েদাদ। এদিন বেশি ব্যস্ত থাকতে দেখা গেছে বার্সেলোনার দুই তারকা জেরার্ড পিকে ও হ্যাভিয়ের মাশ্চেরানোকে। প্রথম ১০ মিনিটে তিনটি কর্নার আদায় করে নেয় স্বাগতিকরা। প্রথম ২০ মিনিট বার্সার গোলপাস্টে পাঁচটি শট, পরের মিনিটে আরও একটি আক্রমণে দিশেহারা করে ফেলে বার্সেলোনাকে। শেষ পর্যন্ত বার্সার স্বস্তি যে ৪৫ মিনিটের মধ্যে কোনো গোল হজম করতে হয়নি।

বিরতির পর আরও আক্রমণাত্মক সোসিয়েদাদ। এর ফলও পেয়ে যায় তারা। ম্যাচের ৫৩ মিনিটে বার্সেলোনার রক্ষণ দুর্বলতায় এগিয়ে যায় সোসিয়েদাদ। শুরু থেকে অনুজ্জ্বল মাশ্চেরানোকে ফাঁকি দিয়ে কার্লোর ভেলার শট বার্সা গোলরক্ষক ঠিকমতো বিপদমুক্ত করতে পারেননি। উঁচু হওয়া বলে জোরালো হেড করেন উইলিয়ান জোসে। তার হেড গোললাইনে দাঁড়ানো পিকের পায়ে লেগে বল জালে জড়ালে গোলের আনন্দে মেতে ওঠে স্বাগতিকরা। তবে ৬ মিনিট পর স্বাগতিকদের স্তব্ধ করেন লিওনেল মেসি। পুরো ম্যাচে বার্সার একমাত্র উজ্জ্বল মুহূর্ত ছিল মেসির গোলটি। বাঁদিক থেকে নেইমারের কোনাকুনি পাস নিয়ন্ত্রণে নিয়ে ঠাণ্ডা মাথায় লা লীগায় নিজের নবম গোলটি করেন পাঁচবারের বর্ষসেরা ফুটবলার।

গোল পরিশোধ করলেও ছন্দে ফেরেনি কাতালানরা। বরং দুর্ভাগ্যের কারণে জিততে পারেনি সোসিয়েদাদ। ৭৭ মিনিটে ২০ গজ দূর থেকে মেক্সিকোর ফরোয়ার্ড ভেলার শট ক্রসবারে লেগে ফিরে এলে বেঁচে যায় বার্সেলোনা। ৪ মিনিট পর এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পায় কাতালানরাও। বদলি খেলোয়াড় ড্যানিশ সুয়ারেজের দুরূহ কোনার শট গোলরক্ষককে পরাস্ত করলেও গোললাইনে প্রতিহত হয়। ৮৩ মিনিটে সবচেয়ে বড় বাঁচা বেঁচে যায় এনরিকের দল। ভেলার নিচু শট বাঁ পোস্টে লাগে। জার্মান গোলরক্ষক মার্ক আন্দ্রে-টের স্টেগান দাঁড়িয়েই ছিলেন। সোসিয়েদাদের কপাল পুড়েছে লাইন্সম্যানের কারণেও। হুয়ানমির গোলটা লাইন্সম্যানের ভুলে বাতিল হওয়াতেই সান সেবাস্তিয়ান থেকে টানা পঞ্চম হার থেকে বেঁচেছে বার্সেলোনা।

ম্যাচটা যে কতটা একপেশে হয়েছে, তা এ পরিসংখ্যানেই বোঝা যায়। পরাজিত ম্যাচেও বেশিরভাগ সময় বল পজেশনে এগিয়ে থাকে বার্সেলোনা। কিন্তু এদিন দেখল বিপরীত চিত্র। বল পজেশনে রিয়াল সোসিয়েদাদ ছিল ৫২ ভাগ আর বার্সার ছিল ৪৮ ভাগ। একই সঙ্গে লক্ষ্যে শট নেওয়ার দিকেও পিছিয়ে এনরিকের দল। সোসিয়েদাদের ১৭টি শটের ৬টি ছিল লক্ষ্যে আর বার্সার ১০টি শটের মাত্র দুটি ছিল লক্ষ্যে। এ থেকেই বোঝা যাচ্ছে, ম্যাচটা কতটা এক তরফা হয়েছে। ১-১ গোলের ড্রটা বার্সার জন্য ‘মিরাকল’ও বটে!

এ সম্পর্কিত আরও