বিয়েতে রাজি না হওয়া পিএসসি পরীক্ষার্থীকে শ্বাসরোধ করে হত্যা, মা-ভাই আটক

প্রকাশিতঃ নভেম্বর ২৯, ২০১৬ at ৪:৫৮ অপরাহ্ণ

dscn0514এবার বাল্য বিয়ের বলি হলেন, পিএসসি পরীক্ষার্থী  সাবিনা ইয়াসমীন। বিয়েতে রাজি না হওয়া শরীয়তপুরে সাবিনা ইয়াসমীন পিএসসি পরীক্ষার্থীকে মা ও ভাই শ্বাসরোধ করে হত্যা করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় নানী ও ঘটক কে পালং মডেল থানার পুলিশ আটক করেছে। লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য শরীয়তপুর সদরে হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। মা রুমা বেগম ও ভাই সাব্বির হোসেন পলাতক রয়েছে। পুলিশ বলছে, জোর করে বিয়ে দেওয়ার কারনে সে আত্নহত্যা করতে পারে।
 
পালং মডেল থানা ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শরীয়তপুর সদর উপজেলার চরলক্ষী নারায়ন গ্রামের সুলতান হোসেন দীর্ঘদিন যাবত শরীয়তপুর পৌর এলাকার মধ্যপাড়া এলাকায় তার শ্বশুর বাড়িতে পরিবার পরিজন নিয়ে বসবাস করেন। তারই কন্যা সাবিনা ইয়াসমীন (১৩) এবার রুদ্রকর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে পিএসসি পরীক্ষায় অংশ গ্রহন করে। ইতোমধ্যে তার মা রুমা বেগম ভাই সাব্বির হোসেন ও নানী মাকসুদা মিলে তাকে বিয়ের আয়োজন করছে। গত রোববার পরীক্ষা শেষ বাড়ী গিয়ে শুনতে পায় তার বিয়ে ঠিক হয়েছে। শুনার পর সে তার অভিভাবদেও জানিয়ে দেয় সে বিয়েতে রাজি না। তার পর ও অভিভাবরা জোর করে তাকে বিয়ে দিতে চায়। গত রোববার রাতে বিয়ের ঘটক একই উপজেলার চরলক্ষী নারায়ন এলাকার রহিমা বেগম সাবিনাদের মধ্যপাড়া বাসায় আসে। এ সময় সাবিনার বিয়ে নিয়ে আলোচনার একপর্যায়ে  সাবিনা বিয়েতে রাজি নয় বলে সাপ্পা জানিয়ে দেয়। এ সময় মা রুমা বেগম ও ভাই সাব্বির হোসেন ও নানী মাকসুদা মিলে সাবিনাকে বেদম মারপিট করে। এক পর্যায়ে গায়ের ওড়না দিয়ে গলায় ফাস দিয়ে তাকে হত্যা করে বলে অভিযোগ রয়েছে। ঘটনা অন্য দিকে প্রবাহিত করার জন্য আশে পাশের লোকজনকে বলেছে স্ট্রোক করে মারা গেছে। গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় গোপনে লাশ দাফন করার জন্য সকল প্রস্তুতি শেষ পর্যায়ে এমন সময় পালং মডেল থানার পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে কাফনের কাপড় পরিহিত লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য শরীয়তপুর সদর হাসাপাতাল মর্গে প্রেরণ করে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে নানী মাকসুদা বেগম ও বিয়ের ঘটক রহিমা বেগম কে আটক করেছে। এ নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। নিহত সাবিনার মা মাকসুদা ও ভাই সাব্বির পলাতক রয়েছে। এ ঘটনায় মামলার প্রক্রিয়া চলছে।
 
পালং মডেল থানার ওসি (তদন্ত) মোঃ এমারত হোসেন বলেন, এ ঘটনার খবর পেয়ে লাশ উদ্ধার করে মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। লাশের গলায় দাগ রয়েছে। লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। রোববার পরীক্ষা শেষে বাড়ি এসে বিয়ের ঘটনা নিয়ে মার সাথে মেয়ে সাবিনা কথা কাটাকাটি করেছে। আমাদের ধারনা বিয়েতে রাজি না থাকায় আত্নহত্যা করেছে।

এ সম্পর্কিত আরও