Mountain View

যেসব ক্রিকেটারদের নামে ভবিষ্যতে স্টেডিয়াম হতে পারে

প্রকাশিতঃ নভেম্বর ২৯, ২০১৬ at ৮:৩১ পূর্বাহ্ণ

cricket29

বিখ্যাত ক্রিকেটারদের নামে ক্রিকেট স্টেডিয়ামের `স্ট্যান্ড` এর নামকরণের চল বেশ পুরনো। যেমন মুম্বাই এর ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে আছে শচীন টেন্ডুলকার স্ট্যান্ড, হ্যাম্পশায়ারের রোজবোল স্টেডিয়ামে আছে শেন ওয়ার্ন স্ট্যান্ড, বাংলাদেশের খুলনা শেখ আবু নাসের স্টেডিয়ামে আছে `মানজারুল রানা` স্ট্যান্ড।তবে ক্রিকেটারদের নামে পুরো স্টেডিয়ামের নামকরণের নজির কিন্তু খুব বেশি নেই। অতি সম্প্রতি সেন্ট লুসিয়া ক্রিকেট স্টেডিয়ামের নাম দেওয়া হয়েছে `ড্যারেন স্যামি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম`। শ্রী

লঙ্কার পাল্লেকেলে স্টেডিয়াম মুত্তিয়া মুরালিধরনের নামে করার ঘোষণা দেওয়া হলেও এখনো পর্যন্ত তা আলোর মুখ দেখেনি।
চলুন দেখে নেওয়া যাক ভবিষ্যতে আর কোন কোন খ্যাতিমান ক্রিকেটারদের নামে হতে পারে স্টেডিয়াম।

১. ব্রেন্ডন ম্যাককালাম (ক্রাইস্টচার্চ):
অভিষেক এবং বিদায়ী ম্যাচে দর্শকনন্দিত কিছু করতে কে না চায়। চেয়েছিলেন ব্রেন্ডন ম্যাককালামও। কিন্তু নিজেও হয়তো ভাবেননি নিজের শেষ টেস্ট ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে এমন বিধ্বংসী রূপে দ্রুততম টেস্ট সেঞ্চুরির রেকর্ডটি নিজের করে নেবেন। ৫৪ বলে সেঞ্চুরি করে শেষবারের মতো জানান দিয়েছিলেন বিদায় নিলেও কতটা ক্ষুরধার হতে পারে তার ব্যাট। হয়তোবা অন্যদের মতো ১০ হাজার রানের মাইলফলক স্পর্শ করতে পারেননি, কিংবা গ্লাভস হাতে ৫০০ ডিসমিসালও নেই। কিন্তু একজন অধিনায়ক ম্যাককালাম তার দেশে বিশেষত তার নিজের শহর ক্রাইস্টচার্চে ব্যাপক জনপ্রিয়। তার শেষ টেস্টের স্মৃতি বিজড়িত ক্রাইস্টচার্চ স্টেডিয়াম তাই তার নামাঙ্কিত হলে অবাক হবার কিছু থাকবে না

২. ওয়াসিম আকরাম (লাহোর):
ওয়াসিম আকরামকে সম্ভবত ক্রিকেট ইতিহাসের সর্বকালের সেরা বাহাতি পেসার বললেও খুব একটা অত্যুক্তি করা হবে না। বিশ্বের যেকোন কন্ডিশনে নতুন বল কিংবা পুরনো বল, ঘাসের উইকেট কিংবা মরা উইকেট, তিনি ছিলেন সমানভাবে কার্যকর। ঘরের মাঠ লাহোরে ৯ টেস্টে তার সংগ্রহ ২২ উইকেট এবং ১৮ ওয়ানডেতে ২৩ উইকেট। পাকিস্তানে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ফিরলে ভক্তদের প্রিয় তারকার নামে লাহোর স্টেডিয়ামকে দেখার স্বপ্নপূরন হয়ে যেতেই পারে।

৩. মুত্তিয়া মুরালিধরন (ক্যান্ডি):
ছোট্ট দ্বীপরাষ্ট্র শ্রীলঙ্কার মহাতারকা তিনি। ক্রিকেট বিশ্বে সগৌরবে উজ্জল আরো অনেক কিংবদন্তীর ঠিকানা এই ‘এমেরাল্ড আইল্যান্ডে’ হলেও সম্ভবত উজ্জ্বলতম তারকাটির নাম ‘মুরালিধরন’। পাল্লেকেলে স্টেডিয়াম তার নামে নামকরনের কথা

থাকলেও আর হয়নি। কিন্তু রেকর্ড বুক বলছে ঘরের মাঠ ক্যান্ডিতেই সবচেয়ে সফল ছিলেন টেস্ট এবং ওয়ানডেতে সর্বোচ্চ উইকেটের মালিক। ক্যান্ডিতে ১৬ টেস্টে নিয়েছেন অবিশ্বাস্য ১১৯ টি উইকেট! এই স্টেডিয়াম তার নামে নামকরণ করে এই কিংবদন্তীর কীর্তিকে সম্মান জানানোর সঠিক সময় বোধহয় এখনি।

৪. এম এস ধোনি (রাঁচি):
ভারতের বেশিরভাগ মানুষ হয়তো জানতোই না ঝাড়খন্ড প্রদেশে ‘রাঁচি’ নামে কোন শহরের অস্তিত্ব আছে। অদৃষ্টের কি খেলা, সেই ছোট্ট শহরটি থেকেই এমন একজন এলেন যিনি ভারতীয় ক্রিকেটকে বদলে দিলেন আজীবনের জন্য। জেতালেন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ, ওয়ানডে বিশ্বকাপ, চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিসহ অসংখ্য দ্বি-পাক্ষিক, ত্রিদেশীয় সিরিজ। নিজের শহরে খুব একটা খেলার সুযোগ না হলেও চার ম্যাচ খেলে জয় তিনটিতেই। শুধু যে ক্রিকেটার হিসেবে তা নয়, সব দিক বিবেচনায়ই ছোট্ট শহরটির সবচেয়ে বড় তারকা ধোনি। রাঁচিকে বিশ্ব দরবারে পরিচিতি এনে দেওয়া তারকার নামে তাই একটি আন্তর্জাতিক স্টেডিয়াম এখন সময়ের দাবি।

৫. ব্রায়ান লারা (ত্রিনিদাদ ও টোবাগো):
ত্রিনিদাদের নাম শুনলেই সবার আগে যার নামটি চোখের সামনে ভেসে উঠে তিনি ‘ত্রিনিদাদের রাজপুত্র’ ব্রায়ান লারা। ক্যারিবিয়ান অঞ্চলের সবচেয়ে পরিচিত মুখ ব্রায়ান লারা তার বর্নাঢ্য ক্যারিয়ারে পোর্ট অফ স্পেনের কুইন্স পার্ক ওভালে ১২ টেস্টে করেছেন ৯৮৬, গড় ৪২। পরিসংখ্যান আরো উজ্জল

রঙ্গিন পোশাকে। যেখানে ৩০ ম্যাচে ৫৫ গড়ে ১ হাজার ২৭৬ রান। ত্রিনিদাদ ও টোবাগোতে তার নামানুসারে নির্মিতব্য আরো একটি ঘরোয়া ক্রিকেট স্টেডিয়াম থাকলেও এই কীর্তিমানের রেকর্ডময় এই মাঠটিকে তার নামানুসারে নামকরন করলেই বোধহয় তার কীর্তির প্রতি সর্বোচ্চ শ্রদ্ধা জানানো হতো।

এ সম্পর্কিত আরও

Mountain View