ঢাকা : ১১ ডিসেম্বর, ২০১৬, রবিবার, ৪:৩৪ পূর্বাহ্ণ
A huge collection of 3400+ free website templates JAR theme com WP themes and more at the biggest community-driven free web design site

সবাইকে অবাক করিয়ে হোয়াইটওয়াশড হলো পাকিস্তান

255783

শেষ সেশন শুরুর সময় সবচেয়ে সম্ভাব্য ফল মনে হচ্ছিল ড্র। পাকিস্তানের জয় দুরূহ হলেও অসম্ভব ছিল না। তবে সবচেয়ে কঠিন ছিল নিউ জিল্যান্ডের জয়। কিন্তু দ্বিতীয় নতুন বলে দুর্দান্ত বোলিং আর পাকিস্তানের বাজে ব্যাটিংয়ে সেই কিউইরাই ভাসল অসাধারণ জয়ের উৎসবে!

শেষ সেশনে ৯ উইকেট নিয়ে হ্যামিল্টন টেস্টে পাকিস্তানকে ১৩৮ রানে হারিয়েছে নিউ জিল্যান্ড। ২ টেস্টের সিরিজ জিতে নিয়েছে ২-০ ব্যবধানে। কাটিয়েছে প্রায় ৩২ বছরের জয় খরা!

সেই ১৯৮৫ সালের শুরুতে পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজ জিতেছিল নিউ জিল্যান্ড। তারপর থেকে দেশের মাটিতে বা বাইরে ১২টি সিরিজে অধরা ছিল জয়। ৭টি সিরিজ জিতেছিল পাকিস্তান, ৫টি হয়েছিল ড্র। কেন উইলিয়ামসনের দল বদলে দিল এই ধারা। দেশের মাটিতে প্রথম সিরিজেই জয়ের স্বাদ পেলেন অধিনায়ক উইলিয়ামসন।

জয়ের জন্য মঙ্গলবার শেষ দিন পাকিস্তানের প্রয়োজন ছিল ৩৬৮ রান। প্রায় অসম্ভব সেই লক্ষ্যের পেছনে ছোটেনি পাকিস্তান। আজহার আলি ও সামি আসলামের ব্যাটে ছিল ম্যাচ বাঁচানোর চেষ্টা। চোয়ালবদ্ধ ব্যাটিংয়ে দারুণ ভিত্তি গড়ে দিতে পেরেছিলেন দুই ওপেনার।

দুজন উইকেটে কাটিয়ে দেন ৬০ ওভার! রান ওঠেনি, তবে ড্রয়ের পথ তুলে দেন দলকে। আজহারকে বোল্ড করে ১৩১ রানের জুটি ভাঙেন মিচেল স্যান্টনার। সোয়া চার ঘণ্টা উইকেটে থেকে ৫৮ রান করেন পাকিস্তানের এই ম্যাচের অধিনায়ক।

আসলাম টিকে ছিলেন তখনও। প্রথম ইনিংসে ৯০ রান করা বাবর আজমও ছিলেন টিকে। চা বিরতিতে পাকিস্তানের রান ছিল ১ উইকেটে ১৫৮।

শেষ সেশনে পাকিস্তানের প্রয়োজন ছিল ২১১ রান। হতে ৯ উইকেট, ওভার ছিল অন্তত ৩৪। ড্র মনে হচ্ছিল সময়ের ব্যাপার।

অথচ প্রায় ১০ ওভার বাকি রেখেই জিতল নিউ জিল্যান্ড। দ্বিতীয় নতুন বলে ৬ উইকেট পড়েছে ১১ ওভারের মধ্যে!

চা বিরতির পর প্রথম ওভারেই বাবরকে ফেরান সেই স্যান্টনার। ৫ ঘণ্টা লড়াই করে ২৩৮ বলে ৯১ রান করা আসলাম মিড অফে ক্যাচ দেন টিম সাউদির বলে।

ধসটা তখনও অনুমান করা যায়নি। দ্বিতীয় নতুন বল নিউ জিল্যান্ডের জন্য কাজ করল জাদু মন্ত্রের মতো। ধরা দিল একের পর এক উইকেট। দু:স্বপ্নের মত সিরিজ কাটানো ইউনিস খান ব্যর্থ আবারও। শেষ ৮ উইকেট হারাল পাকিস্তান ৪৯ রানে!

৬ বলের মধ্যে ৩ উইকেট নিয়ে লেজটা ছেটে দেন নিল ওয়াগনার। আবেগ খুব একটা স্পর্শ করে না যাকে, সেই কেন উইলিয়ামসনের বাঁধনহারা উচ্ছ্বাসই বলে দিচ্ছিল, কিউইরা কতটা চাইছিল এই জয়!

প্রথম ইনিংসে ৬টিসহ ম্যাচে ৮ উইকেট নিয়ে ম্যাচ সেরা টিম সাউদি।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

নিউ জিল্যান্ড ১ম ইনিংস: ২৭১

পাকিস্তান ১ম ইনিংস: ২১৬

নিউ জিল্যান্ড ২য় ইনিংস: ৩১৩/৫ (ইনিংস ঘোষণা)

পাকিস্তান ২য় ইনিংস: ৯২.১ ওভারে ২৩০ (আসলাম ৯১, আজহার ৫৮, বাবর ১৬, সরফরাজ ১৯, ইউনুস ১১, শফিক ০, রিজওয়ান ১৩*, সোহেল ৮, আমির ০, ওয়াহাব ০, ইমরান ০; সাউদি ২/৬০, হেনরি ১/৩৮, ওয়াগনার ৩/৫৭, স্যান্টনার ২/৪৯, ডি গ্র্যান্ডহোম ১/১৭, উইলিয়ামসন ০/২)।

ফল: নিউ জিল্যান্ড ১৩৮ রানে জয়ী

সিরিজ: ২ ম্যাচ সিরিজ নিউ জিল্যান্ড ২-০তে জয়ী

ম্যান অব দা ম্যাচ: টিম সাউদি

এ সম্পর্কিত আরও

Check Also

সেরা একাদশে জায়গা পেলেন না সাকিব!

শুক্রবার শেষ হয়েছে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লীগ (বিপিএল) টুয়েন্টি টুয়েন্টি ক্রিকেটের চতুর্থ আসর। চ্যাম্পিয়ন হয়েছে সাকিব …

Mountain View

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *