Mountain View

আলোচিত সেভেন মার্ডার মামলার রায় দেওয়া হবে ১৬ জানুয়ারি

প্রকাশিতঃ নভেম্বর ৩০, ২০১৬ at ১:৩৪ অপরাহ্ণ

7kill20161130131726

নারায়ণগঞ্জের আলোচিত সেভেন মার্ডার মামলার রায় দেওয়া হবে আগামী বছরের ১৬ জানুয়ারি।

মামলার সর্বশেষ ধাপ উভয়পক্ষের যুক্তিতর্ক (আর্গুমেন্ট) উপস্থাপন শেষে বুধবার (৩০ নভেম্বর) রায়ের এ দিন ধার্য করেছেন আদালত।

ঘটনা:
২৭ এপ্রিল দুপুর দেড়টা। ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডে স্টেডিয়ামের উত্তরে রাস্তার পশ্চিম পাশে ওঁৎ পেতে থাকে আরিফ, রানাসহ আরো ১১ র‍্যাব সদস্য। ওই রোড দিয়ে নজরুলের গাড়ি যাওয়ার সময় তাদের থামানো হয়। এ সময় ঘটনাটি দেখে ফেলায় চন্দন ও তার গাড়িচালককেও ধরে আনা হয়। পরে দুটি গাড়িতে থাকা নজরুল ও চন্দনসহ সাতজনকে জোর করে র‍্যাবের একটি গাড়িতে তুলে নেয়া হয়। গাড়িটি নরসিংদীর পথে রওনা হয়। তবে রানা এই গাড়িতে উঠেননি। তিনি অন্য গাড়ি নিয়ে নারায়ণগঞ্জ ফিরে যান।

বেলা ৩টা। অপহৃতদের নিয়ে গাড়িটি নরসিংদীতে র‍্যব ক্যাম্পের কাছে পৌঁছে। সেখানে খাবার নিয়ে গাড়ির ভেতরেই দুপুরের খাওয়া-দাওয়া করেন তারা। এরপর রাত ৮টার দিকে তারা পুনরায় নারায়ণগঞ্জের পথে রওনা হন। পথে ভুলতায় বিপরীত দিক থেকে আসা সৈনিক আসাদকে দেখে র‍্যাবের গাড়িটি থামে। আরিফ গাড়ি থেকে নেমে আসাদের কাছ থেকে একটি কাপড়ের ব্যাগ নেয়। ওই ব্যাগে অজ্ঞান করার ইনজেকশন ছিল। এরপর আরিফের নির্দেশেই সাতজনকে ইনজেকশন পুশ করে অজ্ঞান করা হয়। কিছুক্ষণ পর মেজর আরিফ নিজে এবং হিরা মিয়া, বেলাল, পুর্নেন্দ বালা ও তৈয়ব ৭ জনের মুখে পলিথিন পেঁচিয়ে হত্যা করেন।
তারপর সেখান থেকে তারা কাঁচপুর ব্রিজের ল্যান্ডিং স্টেশনে পৌঁছান। সেখানে তারা ৮-১০ জন লোক দেখতে পান। তারা নূর হোসেনের সহযোগী বলে ধারণা করা হয়। ঠিক এ সময় আরেকটি মাইক্রোবাসে করে সার্জেন্ট এনামুল, তাজুল, এমদাদ, বেলাল, বজলু, নাছির ইটের বস্তা ও রশি নিয়ে আসেন। আরিফের নির্দেশে আগে থেকেই প্রস্তুত রাখা ট্রলারে ইটের বস্তাসহ লাশ উঠানো হয়।

রাত ১টা। ট্রলার লাশগুলো নিয়ে মেঘনার মোহনায় পৌঁছে। এ সময় আরিফের নেতৃত্বে লাশগুলোর পেট ফুটো করে প্রত্যেক লাশের সঙ্গে ইটের বস্তা বেঁধে নদীতে ফেলে দেয়া হয়। এরপর একে একে ৩০ এপ্রিলের মধ্যে ৭ জনেরই মৃতদেহ শীতলক্ষ্যা নদীতে ভেসে উঠে।
এদিকে তারেক সাঈদ শুরু থেকে কোনো ঘটনাস্থলে উপস্থিত না হলেও পুরোটা সময় তিনি আরিফ ও রানাকে বিভিন্ন নির্দেশনা দেন।

সেদিন যাদের হত্যা করা হয়, তারা হলেন, পৌর কাউন্সিলর স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা নজরুল, আইনজীবী চন্দন সরকার, তাজুল ইসলাম, মনিরুজ্জামান স্বপন ও লিটন, গাড়ি চালক জাঙ্গীর এবং চন্দনের গাড়িচালক মো. ইব্রাহিম।
আলোচিত এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে এরই মধ্যে র‍্যাব-১১-এর সাবেক তিন কর্মকর্তা লে. কর্নেল (অব.) তারেক সাঈদ মোহাম্মাদ, মেজর (অব.) আরিফুর রহমান ও লে. কমান্ডার এম এম রানাকে চাকরিচ্যুত করা হয়।তারা তিনজনই এখন কারাগারে আছেন।

এ সম্পর্কিত আরও

Mountain View