গাইবান্ধা চরাঞ্চলে সরিষা চাষে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়ার প্রত্যাশা করছে।

প্রকাশিতঃ নভেম্বর ৩০, ২০১৬ at ৫:৩০ অপরাহ্ণ

1465475721_08গাইবান্ধা প্রতিনিধিঃ গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার নদী তীরবর্তী চরাঞ্চলে নদীবাহিত পলির বেলে-দোয়াশ মাটিতে ব্যাপকভাবে সরিষা চাষ হচ্ছে।

উঁচু এলাকার জমির চাইতে চরাঞ্চলের উর্বর জমিতেই এ বছর সরিষা চাষে সাফল্যে আশানুরুপ সরিষা উৎপাদন হবে বলে আশা করা হচ্ছে। ফলে মঙ্গা প্রবণ এসব এলাকার দরিদ্র কৃষকরা রবি মৌসুমে সরিষা চাষ করে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়ার প্রত্যাশা করছে।

জানা গেছে, পলাশবাড়ী নদীর তীরবর্তী হোসেনপুর, কিশোরগাড়ী মহদীপুর ইউনিয়নের জেগে ওঠা চরে এ বছর কৃষকরা কৃষি বিভাগের পরামর্শে সরিষা চাষ শুরু করে। প্রতিটি জমিতেই তরতাজা সবুজ সরিষা গাছগুলোতে হলুদ ফুলে ফুলে ভরে ওঠায় কৃষকের মুখে হাসি ফুটতে শুরু করেছে। সরেজমিনে এসমস্ত এলাকা পরিদর্শনে দেখা গেছে, ইতোমধ্যে সরিষা ফুল ঝড়তে শুরু করে গাছগুলোতে সরিষার দানা বাঁধতে শুরু করেছে।

পলাশবাড়ী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আজিজুল ইসলাম জানান, চলতি মৌসুমে উপজেলার ৯টি ইউনিয়নসহ চরাঞ্চলে ব্যাপক জমিতে সরিষার চাষাবাদ হয়েছে। এরমধ্যে চরাঞ্চলই বেশির ভাগ জমিতে চাষ হয়েছে উন্নত ফলন জাতের সরিষা। কাশিয়াবাড়ী ইউনিয়নের সুলতানপুর,চকবালা চরাঞ্চলের কৃষক সবুজ মিয়া জানান, এ বছরই তিনি প্রথম চরাঞ্চলের জমিতে সরিষা চাষ করেছেন।

তার জমিতে সরিষার গাছগুলো যেভাবে লকলকিয়ে উঠেছে এবং হলুদ ফুলে ছেয়ে গেছে তাতে তিনি এ বছর সরিষার ভাল পাবেন বলে আশাবাদি হয়েছেন।

চকবালার কৃষক সাজু প্রমানিক জানান, এবার আবহাওয়া ভাল থাকায় জমিতে সরিষার ফলন ভাল হবে বলে তিনি আশা করছেন। গত বছর যে সমস্ত জমিতে ভূট্টা চাষ করা হয়েছিল সেই জমিতেই এবার তিনি অত্যান্ত কম খরচে সরিষা চাষ করেছেন। সরিষার বাড়ন্ত ফুলে ভরা গাছগুলো দেখে তিনি আশান্বিত হয়েছেন এবারে সরিষা উৎপাদন করে তিনি যথেষ্টই লাভবান হতে পারবেন।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার কৃষ্ণ রায় জানান, উঁচু এলাকাগুলোর চাইতে চরাঞ্চলের নদীবাহিত পলি সমৃদ্ধ বেলে-দোয়াশ মাটিতে সরিষাসহ বিভিন্ন ফসলের আবাদ ভাল হচ্ছে। কারণ চরাঞ্চলের জমিগুলো অত্যন্ত উর্বর। এ থেকে মঙ্গা প্রবণ এ সমস্ত দুর্গম এলাকার কৃষকরা রবি মৌসুমে মরিচ, সরিষা, ছিটানো পিয়াজ, মিষ্টি কুমড়া, ডাল, ভুট্টা, ধনিয়া পাতা, আলু ও মিষ্টি আলু, বাদামসহ বিভিন্ন জাতের ফসল উৎপাদনের মাধ্যমে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হতে শুরু করেছে। যা চরাঞ্চলের চিরায়ত অভাব নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

এ সম্পর্কিত আরও