Mountain View

ভারত-শাসিত জম্মু কাশ্মিরের সেনা ছাউনিতে জঙ্গি হামলায় দুই কর্মকর্তাসহ ৭ ভারতীয় সেনা নিহত

প্রকাশিতঃ নভেম্বর ৩০, ২০১৬ at ৯:৩২ পূর্বাহ্ণ

1480441911

ভারত-শাসিত জম্মু কাশ্মিরে একটি সেনা ছাউনিতে জঙ্গি হামলায় অন্তত সাতজন ভারতীয় সেনা নিহত হয়েছেন। এই সাতজনের দুজন কর্মকর্তা, অন্যরা সেনা সদস্য। জম্মু শহরের কাছে নাগরোটায় গতকাল মঙ্গলবার ভোরে এই হামলার ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে অন্তত তিন থেকে চারজন জঙ্গিও প্রাণ হারিয়েছে। কাশ্মিরে আরেকটি সংঘর্ষে বিএসএফের সঙ্গে গুলির লড়াইতে তিনজন সন্দেহভাজন অনুপ্রবেশকারীর মৃত্যু হয়েছে। গতকাল বিকেল পাঁচটার সময়ও সেনা ছাউনির ভেতর থেকে গোলাগুলির শব্দ পাওয়া গেছে। পাঠানকোট ও উরির পর চলতি বছরে এটি ভারতের কোনও সেনা শিবিরে আবার একটি বড় মাপের হামলা। নাগরোটার ঘটনা ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে চলমান সংঘাতকে আরও তীব্র করে তুলবে বলেই ধারণা করা হচ্ছে।

নাগরোটায় গতকালের হামলার সঙ্গে জানুয়ারিতে পাঠানকোট বিমানঘাঁটি বা সেপ্টেম্বরে উরির সেনা-শিবিরে হামলার প্রচুর মিল আছে। ভারত-শাসিত কাশ্মিরে সেনাবাহিনীর চারটি কমান্ড সেন্টারের অন্যতম এই নাগরোটা – আর্মির সিক্সটিন কোরের সদর দফতর এখানেই। বিশাল ছাউনিতে অন্তত এক হাজার সেনা কর্মকর্তার বাস। গতকাল ভোররাতে ভালো করে আলো ফোটার আগেই একদল আত্মঘাতী হামলাকারী বন্দুক ও গ্রেনেড নিয়ে সেই ছাউনির ভেতর ঢুকে পড়ে এবং অফিসার্স মেসের দিকে নির্বিচারে গুলি চালাতে চালাতে ভেতরের একটি ভবনে অবস্থান নেয়। প্রায় সারাদিন ধরে দু’পক্ষের মধ্যে বন্দুকযুদ্ধের পরও অপারেশন শেষ হয়েছে, ভারতীয় সেনাবাহিনী তা নিশ্চিতভাবে বলতে পারেনি। বিকেলে সেনা মুখপাত্র মনীষ মেহতা জানান, ‘সন্ত্রাসবাদীরা আমাদের একটি সেনা-শিবিরে ঢুকে পড়ার পরই এনকাউন্টার শুরু হয়। এখন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এসেছে, তবে অভিযান পুরোপুরি শেষ হওয়ার পরই আমি বিশদে সব কিছু বলতে পারব।’

টাইমস অব ইন্ডিয়া ভারতীয় সেনাবাহিনীর উত্তর কমান্ডের এক বিবৃতির বরাত দিয়ে জানিয়েছে, তিন জঙ্গির মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। দুই শিশু এবং দুই নারীসহ ১৬জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। নাগরোটা সেনা-ছাউনির ভেতর বহু কর্মকর্তাই সপরিবারে থাকতেন, তাদের পরিবারের আটকে-পড়া সদস্যদের নিরাপদে বের করে আনতে বেশ বেগ পেতে হয়েছে বলেও জানা গেছে। নাগরোটা সেনা এলাকার ঠিক বাইরে স্থানীয় একজন বাসিন্দা বলছিলেন, ‘ভোর পাঁচটা নাগাদ প্রথম আওয়াজ শুরু হয়। শুরুতে ছোট ছোট শব্দ হচ্ছিল, মানুষজন খুব একটা ভয় পায়নি। কিন্তু তারপর ক্রমেই সেই শব্দের তীব্রতা বাড়তে থাকে।

এরপরই এলাকার লোকজন সবাই আতঙ্কে বাড়ি থেকে বেরিয়ে আসে।’ নাগরোটা সেনা-ছাউনির ভেতর যখন এনকাউন্টার চলছে, তখন আশেপাশে সব দোকানপাট, স্কুল-কলেজ বন্ধ রাখা হয়। শিবিরের খুব পাশ দিয়ে গেছে শ্রীনগরগামী ভারতের ১ নম্বর জাতীয় সড়ক, যান-চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয় সেই রাস্তাতেও। সেপ্টেম্বরে উরির হামলার ঠিক দশদিন পর ভারত পাকিস্তানের ভেতরে ঢুকে সুনির্দিষ্ট নিশানায় হামলা চালানো বা ‘সার্জিক্যাল স্ট্রাইক’ করার কথা জানিয়েছিল। এর ঠিক দু’মাসের মাথায় নাগরোটাতে এই হামলার ঘটনা ঘটল। ঘটনাচক্রে গতকালই অবসরে গেলেন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান রাহিল শরিফ, বিদায়ের দিনে যিনি ভারতের উদ্দেশে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, পাকিস্তানের ধৈর্যকে ভারত যেন তাদের দুর্বলতা বলে না-ভাবে। নতুন সেনাপ্রধান কামার বাজওয়া বলেছেন, সীমান্তে নিয়ন্ত্রণ রেখায় সবকিছু ঠিক থাকবে।

এ সম্পর্কিত আরও

Mountain View