Mountain View

রৌমারীতে ভিজিএফ ২০ কেজিতে ১৬ কেজি

প্রকাশিতঃ নভেম্বর ৩০, ২০১৬ at ৫:৫২ অপরাহ্ণ

ebf95596807d7a2e27c3defaee1b8f6fx600x400x41‘দুনিয়াটা মগের মুল্লক হয়া গ্যাইছে গো! মুই খাবের পামনা, অরা মোক খালি চাউল কম দেয়। যে হাত দিয়া চাউল মাপচে, ওই হাত হুস্কি (খুলে) পইরবে। গরীবের বিচার আল্লায় কইরবে।’ বৃদ্ধ আলেয়া বেওয়া ভিজিএফ’র চালের বস্তা মাথায় নিয়ে যাওয়ার সময় এমন অভিশাপই দিচ্ছিলেন।

কাকে অভিশাপ দিচ্ছেন জিজ্ঞেস করতেই সকল অভিমান যেন উগড়ে পড়লো- ‘দ্যাখতো বাবা, ঘরোত দুইড্যা বিদুয়া (বিধবা) বেটি। এই চাউল নিয়া মুই সারা মাস খাম। সেই চাউল ২০ কেজি’র জাগাত ১৬ কেজি দিচে। এহন সারা মাস মুই কেমন করি চলিম বাবা?’

বৃদ্ধ আলেয়া বেওয়ার এ প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে এ প্রতিবেদক গতকাল বুধবার গিয়েছিলেন উপজেলার যাদুরচর ইউপি চেয়ারম্যান সরবেশ আলীর নিকট। সবাইকে অবাক করে তিনি বললেন, ‘চাল কম দেই অভিযোগটি সত্য নয়। আপনি একজন লোক নিয়ে আসেন তো, যার চাল কম হয়েছে? পারবেন না, এটা এমনিতেই বলে। এবারসহ আমি দুই টার্ম চেয়ারম্যানী করছি। এমন অভিযোগ আমার বিরুদ্ধে নেই। বুঝেন নাহ্; আ’লীগের আমলেও আমি বিএনপি’র চেয়ারম্যান! এটা এমনিতেই হয় নাই।’

তবে ইউপি চেয়ারম্যানের এ বড়াই বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। চালের কয়েকটি বস্তা ইলেক্ট্রিক পাল্লায় মেপে দেখা গেলো ১৬, ১৭ এবং কোনোটিতে ১৮ কেজি। তখন চেয়ারম্যান দুষলেন কয়েলদারকে (পরিমাপক ব্যক্তি)। আগামী নির্বাচনে এই কয়েলদারই নাকি তাকে ডোবাবে।
এ অভিযোগ শুধু যাদুরচর ইউনিয়নেই নয়। অভিযোগ রয়েছে, চরশৌলমারী ও দাঁতভাঙ্গা ইউনিয়নেও। সেখানেও ভিজিডি’র চাল কম দেয়ার বিষয়টি এখন ওপেন সিক্রেট।

চরশৌলমারী ইউনিয়নে গত মাসে ভিজিডি’র চাল বিতরণ চলাবস্থায় ২০ কেজির স্থলে ১৪/১৫ কেজি দিলে বেঁকে বসেন সুবিধাভোগীরা। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা চাল বিতরণ বন্ধ করে দেন। এর ৩ দিন পর ৫ জন মিলে ২ বস্তা (৫০ কেজি ওজনের) করে বিতরণের অনুমতি দিলেও ওই ইউপি চেয়ারম্যান ফজলুল হক মন্ডল এ নির্দেশ উপেক্ষা করে আগের মতো করেই বিতরণ করেন। তবে কম দেয়া ৯৯ বস্তা চালের হদিস আজও পাওয়া যায়নি।

চাল কম দেয়ার কারণ খুঁজতে গেলে দায়িত্বে থাকা তদারকি কর্মকর্তাগণের গাফিলতি ও ম্যানেজ হওয়ার বিষয়টিই উঠে আসে। তদারকি কর্মকর্তারা নিজে না গিয়ে অফিসের পিয়ন ও আয়াদের পাঠান। এমন ঘটনা ঘলট যাদুরচর ইউনিয়নে। সেখানে মৎস্য কর্মকর্তা গোলাম মোর্শেদ ট্যাগ অফিসারের (তদারকি) দায়িত্বে থাকলেও তিনি না গিয়ে পিয়ন মিনারুল ইসলামকে পাঠান। ফলে সুষ্ঠু বিতরণ না হয়ে হযবরল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এর আগেও নির্বাচন অফিসের পিয়ন জাকির হোসেনকে পাঠানো হয় চরশৌলমারী ইউনিয়নে। ফলে যা হবার তাই হয়।

পিআইও অফিস সূত্রে জানা যায়, রৌমারী উপজেলার ৬টি ইউনিয়নে ৯ হাজার ৮’শ ৪৯টি দুঃস্থ পরিবারের মাঝে (সেপ্টম্বর থেকে নভেঃ) ৩ মাসে  ৫’শ ৮৯ মে. টন চাউল বরাদ্দ দেয়া হয়। প্রতিটি কার্ডধারী প্রতি মাসে পাবেন ২০ কেজি চাল। যা একজন সরকারী কর্মকর্তার তদারকিতে বিতরণ করার কথা। কিন্তু অধিকাংশ ইউনিয়নে অফিসারগণ না গিয়ে পিয়নরা তদারকি করেন।

যাদুরচর ইউনিয়নে তদারকির দায়িত্বে থাকা উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা গোলাম মোর্শেদসহ অনেকের সঙ্গে কথা বললে তারা জানান, সরকারী নানা কর্মকান্ডে ব্যস্ত থাকার কারণে সবসময় বিতরণ কার্যে উপস্থিত থাকা সম্ভব হয় না। তবে চাল কম দেয়ার বিষয়টি আমার জানা নেই।

বিতরণ কার্যে তদারকি কর্মকর্তার অনুপস্থিতি ও চাল কম দেয়ার বিষয়টি জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, চাল কম দিলে কাউকে ছাড় দেয়া হবে না। আর কোন কর্মকর্তা উপস্থিত হননি তার সত্যতা প্রমাণ হলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

এ সম্পর্কিত আরও

Mountain View