ঢাকা : ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭, সোমবার, ১:৩৩ পূর্বাহ্ণ
A huge collection of 3400+ free website templates JAR theme com WP themes and more at the biggest community-driven free web design site

সৈয়দ রাসেলের চিকিৎসায় বিসিবির এগিয়ে আসা উচিত নয় কী?

nur

জুবায়ের আহমেদ,বিশেষ ক্রীড়া প্রতিবেদক,বিডি টুয়েন্টিফোর টাইমস: সৈয়দ রাসেল। বাংলাদেশ ক্রিকেটের একজন দাপুটে পেস বোলার। নিজে ম্যাচ সেরা কম হলেও বাংলাদেশের বড় বড় অনেক জয়ের পার্শ্বনায়ক তিনি। মিডিয়াম পেসের সাথে বলকে সুইং করিয়ে বাঘাবাঘা ব্যাটসম্যানকে আউট করে ক্রিকেট বিশ্বের নজর কেড়েছেন তিনি।

দেবব্রত দাদার লেখার ভাষ্যমতে-২০০৭ সাল থেকেই কাঁধের ব্যথা নিয়ে খেলছেন সৈয়দ রাসেল। এ বিষয়টি নিয়ে তখন চিকিৎসকের স্মরণাপন্ন না হলেও ধীরে ধীরে তা মারাত্মক আকার ধারণ করে। ২০১০ সালের পর থেকে জাতীয় দলে আর সুযোগ না পেলেও ঘরোয়া লীগে ব্যথা নিয়েই খেলতে থাকেন। মাঝখানে বিসিবির অধীনে ভারতে চিকিৎসা করালেও অপারেশন সফল না হওয়ায় সবশেষে ২০১৫ সালে ঘরোয়া ম্যাচ খেলার সময় ইনজুরীতে আক্রান্ত হয়ে ম্যাচই শেষ করতে পারেননি। পরবর্তীতে চিকিৎসার জন্য বিসিবির নিকট দরখাস্ত দিয়ে আশায় থাকলেও বিসিবি নাকচ চিকিৎসার দায়িত্ব নিতে নাকচ করে দেন।

বেশ কিছুদিন যাবত সকলেই বলাবলি করছে সৈয়দ রাসেল কাপড়ের ব্যবসা করছে এখন। অথচ কেন ক্রিকেট ছেড়ে দিলো তা কেউ জানে না। অবশ্য ইনজুরী আক্রান্ত হয়ে মাঠ ছাড়লেও নিজের সতীর্থ কিংবা অন্যান্যদের কাছে এ বিষয়ে তেমন মুখ খোলেননি রাসেল।

আজকের তাসকিন, মুস্তাফিজ ও অন্যান্যরা যেভাবে ধারাবাহিক ভাবে সফল হচ্ছেন, এই সফলতার ভীত তৈরী করে গেছেন সৈয়দ রাসেলরা।

নিজের সময়কার ক্রিকেটার তথা মাশরাফি, সাকিব, তামিম, মুশফিকরা আজ দেশ সেরা তারকাতে পরিণত হয়েছেন, অঢেল টাকার মালিক হয়েছেন ক্রিকেট খেলে। সেখানে সৈয়দ রাসেলের মতো প্রতিভাবান ক্রিকেটার টাকার অভাবে চিকিৎসা না করাতে পেরে ক্রিকেট থেকে বিদায় নেবে চিরতরে তা কখনোই মানা যায় না।

ক্রিকেটের অভিভাবক সংস্থা হিসেবে বিসিবি আন্তরিক হয়ে রাসেলকে ক্রিকেটে ফেরানোর দায়িত্ব নিতে হবে। অর্থনৈতিক ভাবে প্রভাবশালী বোর্ডগুলোর মাধ্যমে অন্যতম বিসিবি। জাতীয় দলে না থাকার কারনে সৈয়দ রাসেল যদি চিকিৎসার অভাবে মাঠের ক্রিকেটে ফিরতে না পারেন, তাহলে এর চেয়ে দূর্ভাগ্যজনক আর কিছুই হতে পারে না।

একটা সফল অপারেশানই পারে সৈয়দ রাসেলকে মাঠে ফেরাতে। বিসিবিকে এগিয়ে আসতে হবে সবার আগে, বিসিবি এগিয়ে না আসলেও মাশরাফি, সাকিব, তামিম, মুশফিকরাও দায়িত্বশীল হতে পারে রাসেলের বিষয়ে। না হয় একসময়কার দাপুটে সতীর্থ যদি চিকিৎসার অভাবে ক্রিকেটে ফিরতে না পারে, তাহলে এর চেয়ে বড় লজ্জার বিষয় তাদের জন্য আর কিছুই নেই।

প্রশ্ন আসতে পারে রাসেলও তো জাতীয় দলে খেলেছেন দীর্ঘদিন। তার অর্থ নেই কেন? সৈয়দ রাসেল দীর্ঘদিন জাতীয় দলে খেললেও বোর্ডের বেতন ও অন্যান্য সাধারণ সুবিধা নিয়েই তাকে সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে। ঘরোয়া ক্রিকেটে অনেক সময় অবিক্রিত থাকায় পরবর্তীতে সামান্য টাকা পেয়েই খেলতে হয়েছে লীগগুলোতে। বিপিএল এর মতো অর্থের জোয়ারে তিনি গা ভাসাতে পারেননি।

আজকের মুস্তাফিজ বিদেশী লীগ খেলে ইনজুরীতে পড়ার পরও বিসিবি তার সব চিকিৎসার ভার গ্রহণ করছে, এটাই স্বাভাবিক। আর নিজের দেশের ক্রিকেট খেলে ইনজুরীতে পড়া সৈয়দ রাসেলকে সঠিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হবে না, তা কখনোই কাম্য নয়।

আমরা ক্রিকেটপ্রেমীরা আমাদের পছন্দের ক্রিকেটার দলে না থাকলে ফেইসবুকে ঝড় তুলি প্রতিবাদ করে। মৃদু আন্দোলন ছড়িয়ে দেই সারা দেশে।

একটি সফল অপারেশানই পারে সৈয়দ রাসেলকে মাঠে ফেরাতে। ৩২ বৎসর বয়সেই মাঠের ক্রিকেট থেকে সরে যেতে পারেন না রাসেল। জাতীয় দলে না হউক, ঘরোয়া ক্রিকেটে তিনি নিয়মিত খেলবেন, এই অধিকারটুকু তিনি নিশ্চয় প্রাপ্য।

তাই সৈয়দ রাসেলের চিকিৎসার জন্যও আমাদের আন্তরিক হতে হবে। রাসেলের চিকিৎসায় বিসিবি ও প্রভাবশালী ক্রিকেটারদের এগিয়ে আসার কোন বিকল্প নেই।

 

এ সম্পর্কিত আরও

Best free WordPress theme

Check Also

মেসি যাদুতে জয় পেল বার্সেলোনা

অ্যাতলেতিকো মাদ্রিদের মাঠে পয়েন্ট হারানোর শঙ্কায় পড়েছিল বার্সেলোনা।  লিওনেল মেসির চতুরতায় সেই শঙ্কা কাটিয়ে জিতেছে …