Mountain View

টোকাই-মাদকাসক্তদের পেটে ময়লার বিন

প্রকাশিতঃ ডিসেম্বর ১, ২০১৬ at ৪:৩২ অপরাহ্ণ

d203cfeaa7bd37eb2a18984da260b55ex600x400x41-1বহির্বিশ্বের আদলে ক্লিনসিটি গড়ার লক্ষ্যে দুই সিটি কর্পোরেশন রাজধানীর বিভিন্ন সড়কের পাশের ফুটপাতে ময়লা ফেলার বিন স্থাপন করেছিল গত এপ্রিল মাসে। যেন ঢাকাবাসি রাস্তায় চলতে-ফিরতে যেখানে সেখানে ময়লা না ফেলে। কিন্তু ময়লা বিনগুলো স্থাপনের সাত মাসের মাথায় ভেস্তে যাচ্ছে প্রকল্পটি। কোথাও স্ট্যান্ড আছে তো ময়লা ফেলার বক্স নেই, কোথাও ময়লার বিন দুমড়ে-মুচড়ে পড়ে আছে আবার কোথাও মূল জায়গা থেকে ছিটকে দূরে। কোথাও আবার ঢাকনাটি গায়েব আবার কোথাও পুরো বিন চুরি হয়ে গেছে। কখনো টোকাই, কখনো মাদকাসক্তরা এই বিনগুলো চুরি করছে। সিটি কর্পোরেশন সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের এপ্রিলে দুই সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে প্রায় ৮ হাজারের অধিক ওয়েস্ট বিন স্থাপন করা হয়।

পরিচ্ছন্ন ঢাকা গড়তে এ প্রকল্পে ৫ কোটির বেশি টাকা ব্যয় হয়েছে। সরেজমিনে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের আওতাধীন আজীমপুর স্টাফ কোয়ার্টার গিয়ে দেখা যায় ময়লা ফেলা বিনের পাশে আবর্জনার ভাগার। অথচ বিনটা দাড়িয়ে আছে অর্ধমৃত অবস্থায়। এই এলাকার লিটল এ্যানজেল স্কুল গেটের পাশে দেখা যায় একটা বিনকে উল্টা করে বেঁধে রাখা হয়েছে, নিচে পড়ে আছে ময়লার স্তুপ। ফার্মগেটে এক থেকে দুই কিলোমিটার রাস্তায় ৯টি বিন চুরি হয়ে গেছে। ফার্মগেট ও নিউমার্কেট এলাকায় দেখাযায় শুধু মাত্র বিনের স্ট্যান্ডটি দাড়িয়ে আছে। ঢাকা মেডিকেল কলেজ গেট, জিরো পয়েন্ট, পল্টন মোড়, দৈনিক বাংলার মোড়সহ বিভিন্ন স্থানে ময়লা ফেলার অবশিষ্ট যে বিনগুলো দাড়িয়ে আছে তার অবস্থা অনেকটাই মৃতপ্রায়।

তবে এ বিষয়ে সাধারণ জনগণের প্রতিক্রিয়া জানতে গেলে তারা বলেন, আমরা জনগণই তো সচেতন না। একটু সচেতন হলে অবশ্যই এর সঠিক ব্যবহার হতো। আবার কিছু লোক অভিযোগ করে বলেন, প্রাথমিক অবস্থায় শহরের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে বিনগুলো দিতে হতো। এরপর আস্তে আস্তে এর ব্যবহারে অভ্যস্থ করে তারপর বিস্তৃত এলাকায় দেয়া উচিত ছিলো বলে মনে করেন। এছাড়াও এর রক্ষাণাবেক্ষণ সঠিক হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন অনেকেই। নগরবিদরা বলছেন, জনগণ খুবই অসচেতন যার ফলে বিনগুলোর আজ বেহাল দশা। প্রথম থেকে আমরা যদি একটু সচেতন হতাম তাহলে এর যথাযথ ব্যবহার করা সম্ভব হতো।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের সহকারি প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা মো. সাহাবুদ্দিন এ বিষয়ে আমার সংবাদকে বলেন, আমাদের বর্জ্য বিভাগের দুটি শাখা- পরিচ্ছন্ন ও প্রকৌশল শাখা আছে। আগামী ছয় মাসের মধ্যে দক্ষিণ সিটির যতগুলো ওয়েষ্ট বিন নষ্ট হয়ে গেছে তা ঠিক করার দায়িত্বে প্রকৌশল শাখা কাজ করছে। তিনি বলেন, প্রথমে যখন বিনগুলো স্থাপন করা হয় তখন তাড়াহুরো করে ময়লা-অবর্জনা ফেলার কথা লিখা হয়। এর কারণেও অনেকেই বড় ময়লার স্তুপ নিয়ে এসে বিপাকে পড়ছে ফলে এটা ব্যবহার হচ্ছে না।

এছাড়াও জনগণের শুকনো ময়লা-ছোট কাগজ জাতীয় বর্জ্য ফেলার বিষয়ে ব্যাপক সচেতনতা করা হয়নি বলে জানান এই কর্মকর্তা। মো. সাহাবুদ্দিন আরো বলেন, মেয়র ইতোমধ্যে বিভিন্ন ওয়ার্ডে গিয়ে কাউন্সিলরদের নিয়ে মিটিং করেছেন এবং এ বিষয়ে জনসচেতনতা বাড়াতে উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। এখন থেকে ওয়ার্ডের দায়িত্ব প্রাপ্ত সিআইকে (ক্লিনিং ইন্সেপেক্টর) সকালে তাদের কাজের তালিকায় ওয়েস্ট বিনের তদারকির দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। এতে করে এই বিনগুলো পুনরায় রক্ষানাবেক্ষণে অনেক সহায়ক হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন এবং সাধারণ জনগণকেও তিনি সচেতন হওয়ার জন্য বিশেষ ভাবে অনুরোধ জানান।

যেসব বিনগুলো চুরি হয়ে গেছে সেগুলোর বিষয়ে সহকারি প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা বলেন, আমরা বেশ কয়েক জায়গায় অভিযান চালিয়েছি। ইতোমধ্যে গণভবন এলাকায় দুজনকে ধরা হয়েছিলো, তবে প্রথম অবস্থায় তারা ভুল শিকার করে ক্ষমা চেয়েছেন। পরবর্তিতে বিনগুলো সঠিক জায়গায় পুনরায় স্থাপন করা হয়েছে। আমাদের এই অভিযান চলছে বলে জানান এই কর্মকর্তা। এ বিষয়ে নগরবিদরা জানান, বিনগুলো স্থাপনের সময় চুরিরোধে রাখা হয়নি তেমন কোনো ব্যবস্থা। তাই বিনগুলো পুনরায় শক্ত করে স্থাপনের পাশাপাশি কর্তৃপক্ষের রক্ষণাবেক্ষণ জরুরি। তাই যে বিনগুলো এখনো টিকে আছে সে বিনগুলো রক্ষায় এখনই উদ্যোগ নেয়ার কথা বলছেন তারা। এছাড়াও নষ্ট ও চুরি হয়ে যাওয়া বিনগুলো স্থাপনে দ্রুত উদ্যোগ নেয়ার আহ্বান জানান তিনি।

এ সম্পর্কিত আরও