Mountain View

বিজয়নগরে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের ফরম পূরণে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ

প্রকাশিতঃ ডিসেম্বর ১, ২০১৬ at ৬:৫৬ অপরাহ্ণ

500x350_658a64c4b265945be1325974fb6b78e8_20_8_2ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগরে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের ফরম পূরণে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে । তাও আবার অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের কোনো রশিদ দেওয়া হচ্ছে না। এতে করে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি দেখা দিয়েছে। এসব ঘটনায় শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা অভিযোগ প্রদান করছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নিকট। উপজেলায় মোট ২৫ টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে বেশিরভাগ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অতিরিক্ত অর্থ নিয়ে ফরম পূরণ করা হয়েছে।  
 
সরকারি বিধি বিধান অনুসারে বোর্ডের নিদের্শনানুযায়ী এসএসসি পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে ফরম পূরণে প্রত্যেক বিষয়ে ফি ৮০ টাকা, ব্যবহারিক পরীক্ষার ফি ৩০ টাকা, একাডেমিক ট্রান্সক্রিপ্ট ফি ৩৫ টাকা, মূল সনদ ফি ১০০ টাকা, বয়েজ ও গার্লস গাইড ফি ১৫ টাকা, জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ ফি ৫ টাকা ও কেন্দ্রে ফি ৩০০ টাকা সহ বিজ্ঞান বিভাগে ১৪৮৫ টাকা, মানবিক ও ব্যবসা শিক্ষা শাখায় ১৩৮৫ টাকা ফি নির্ধারণ করা হয়। এ নিদের্শনাকে উপেক্ষা করে উপজেলার প্রায় সব বিদ্যালয়ে ফরম পূরণে কোচিং ফি’র ও বিভিন্ন ওযুহাত দেখিয়ে ৩ হাজার থেকে ৩ হাজার ৫”শ টাকা করে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে হাতিয়ে নিয়েছে। 
 
উপজেলার দাউদপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের টেষ্ট পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের কাছ থেকে ৪৩০০ টাকা এবং এক বিষয় বা একাধিক বিষয়ে অকৃতকার্যদের কাছ থেকে জরিমানাসহ  ৫৩০০ টাকা থেকে ৯ হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।  আর এই অতিরিক্ত টাকা দিতে ব্যর্থ হয়ে দাউদপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের বিজ্ঞান বিভাগের পরীক্ষার্থী মোঃ সাকিল ও মোঃ আতিকুর রহমানের বাবা হাবিবুর রহমান ও মোঃ মতিউর রহমান উপজেলার নির্বাহী অফিসারের কাছে লিখিত অভিযোগ প্রদান করেন। ভূক্তভোগী হাবিবুর রহমান প্রতিবেদকে জানান, আমরা গরিব মানুষ, আমার ছেলের ফরম পূরণের সময় প্রধান শিক্ষককে নানা অনুরোধ করার পরও জরিমানাসহ ৫ হাজার ৩শত ৭৫ টাকা দিয়ে ফরম পূরণ করেছি। পরে ইউএনওর কাছে অভিযোগ দিলে তিনি ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন। 
 
দাউদপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মহাপ্রভু সাংবাদিকদের সাথে কথা বলতে অপারগতা প্রকাশ করেন। চাউড়া কবি সানাউল হক উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ ইয়াছিন মিয়া বলেন, অতিরিক্ত টাকা নেয়নি।  অভিভাবকদের সাথে কথা বলে ফরম পূরণের ২ হাজার টাকা সঙ্গে কোচিং ফি’র জন্য ১ হাজার টাকা নেওয়া হচ্ছে। তবে কিছু পরীক্ষার্থীর বেতন বকেয়া থাকায় ৩৫০০ থেকে ৪০০০ টাকা নেওয়া হতে পারে। 
 
 পাঁচগাও আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়েল প্রধান শিক্ষক মোঃ দেলোয়ার হোসেন খান বলেন,আমরা নির্ধারিত ১৮ টাকার সঙ্গে ২ মাসের কোচিং করার শর্তে ১ হাজার টাকা কোচিং ফি নিয়েছি। উপজেলা সহকারি মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আল মামুন বলেন, বোর্ডের নির্ধারিত টাকার বাইরে অতিরিক্ত টাকার নেওয়া হলে প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার আক্তার উন নেছা শিউলি জানান,  অভিযোগ পেয়েছি,তবে সরকারের নির্ধারিত টাকার বেশি নেওয়ার সুযোগ নেই।  তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 

এ সম্পর্কিত আরও

Mountain View