Mountain View

স্বাধীনতার যে রূপ দেখি দেশে, তা আর মেনে নেয়া যায় না: মাহাবুবুর রহমান

প্রকাশিতঃ ডিসেম্বর ১, ২০১৬ at ৫:২৪ অপরাহ্ণ

500x350_658a64c4b265945be1325974fb6b78e8_20_8_2রাজাপুর (ঝালকাঠি) প্রতিনিধিঃ দেশে গণতন্ত্র ও স্বাধীনতা নেই, সরকার ও প্রশাসনের সমালোচনা করে এমন মন্তব্যে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সাবেক সেনা প্রধান লে. জে. (অব.) মাহাবুবুর রহমান বলেছেন, গণতন্ত্রের উদ্দেশ্য হচ্ছে মানুষের সমান সুযোগ থাকবে, যেখানে মানুষ কথা বলতে পারবে, প্রাণখুলে হাসতে পারবে, রাজনৈতিক কর্মকান্ড করতে পারবে। 
 
মা তার ছেলেকে ভালবাসতে পারবে, ছেলে তার মাকে মা বলতে পারবে, এটির একটি উদ্যেশ্যে ছিল, সেটি হল স্বাধীনতা। কিন্তু আজ বাংলাদেশের গণতন্ত্রকে হত্যা করা হয়েছে। পশ্চিম পাকিস্তানরা আমাদের ওপর নির্যাতন করেছিল, নিপিড়ন করেছিল, মুখের ভাষা কেড়ে নিতে চেয়েছিল, পশ্চিম পাকিস্তানীদের দ্বারা ঘোষিত হয়েছি, তারপর মুক্তিযুদ্ধ, গণহত্যার বিপরীতে মুক্তিযুদ্ধ-স্বাধীনতা। কিন্তু বর্তমানে স্বাধীনতার আজকে যে রূপ দেখি বাংলাদেশে তার আর ক্ষমা করা যায় না, মেনে নেয়া যায় না। স্বাধীনতার সংগ্রাম বিথা যাবে না, ইতিহাস কথা বলবে। 
 
 
যে দিন সাড়ে ১৬ কোটি মানুষ এক সাথে উচ্চারণ করবে সেদিন সব কিছু দলীত মোচিত করে সব প্রাঙ্গন একাকার করে দেবে। মানুষের ধৈর্য্যরে একটা সীমা থাকে, যখন মানুষ ধৈর্য্যহারা হয়ে যায় তখন অস্থিরতা চলে আসে। সেদিন শীঘ্রই আসবে। বিএনপির জেলা সম্মেলন স্থলে বিএনপি পাল্টাপাল্টি কর্মসূচির পর ঝালকাঠির শহরের কলেজ মোড়স্থ অতিথি কমিউনিটি সেন্টার এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি হওয়ায় বৃহস্পতিবার দুপুরে আইশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের বেরিকেটের মধ্যে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ব্যারিষ্টার এম শাহজাহান বীর উত্তমের ঝালকাঠির রাজাপুরের চর রাজাপুর এলাকার বাড়ির উঠানে অনুষ্ঠিত জেলা বিএনপির দ্বি-বার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। সম্মেলনে বাধার প্রতিবাদে মাহাবুবুর রহমান বলেন, কোন উম্মুক্ত স্থানে আমাদের সম্মেলন করতে দেয়া হয়নি। আমরা একটি বাড়ির আঙিনায় সম্মেলন করছি। সেখানে আমাদের মাইক ও বাড়ির গেট বন্ধ করে ব্যানার অপসারণ করানো হয়েছে। 
 
 
রাজনৈতিক বক্তৃতা দিতেও নিষেধ করা হয়েছে। বিজয়ের মাসের প্রথম দিনে এমন পরাধীনতা হওয়ায় স্বাধীনতা গেল কোথায়। আমাদের মাইক নিয়ে যাওয়া হয়েছে মুখে কথা বলবো, যখন দেখবো আমাদের মুখও চেপে ধরেছে তখন আমরা হৃদয়ের ভাষায় কথা বলবো। ঝালকাঠি আসছি জেলা বিএনপির সম্মেলন উপলক্ষ্যে শেরে বাংলা একে ফজলুল হকের জন্মস্থানে তাকে সম্মান দেখাতে। স্বাধীনতা যুদ্ধে ৯ নং সেক্টরের সাব সেক্টর কমান্ডার শাহজাহান ওমর বীরউত্তমকে সম্মাননা জানাতে। সেখানে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। 
 
 
পতাকা ও শান্তির পায়রা উড়িয়ে সম্মেলনের উদ্বোধন করেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ব্যরিষ্টার এম শাহজাহান বীর উত্তম। জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা মোস্তফা কামাল মন্টুর সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন সম্মেলনে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল সাবেক বিমানবাহিনীর প্রধান অ্যাড. আলতাফ হোসেন চৌধুরি, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান জয়নুল আবেদীন, যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, বরিশাল বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক বিলকিস জাহান শিরিন ও বরিশাল বিভাগীয় সহ সাংগঠনিক সম্পাদক আকন কুদুসুর রহমান ও বরিশাল জেলা বিএনপির সভাপতি এবাদুল হক চাঁন। 
 
বক্তব্য রাখেন ঝালকাঠি সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি সরদার এনামুল হক এলিন, নলছিটি পৌর বিএনপির সভাপতি মোঃ মুজিবুর রহমান, রাজাপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট তালুকদার আবুল কালাম আজাদ, কাঠালিয়া উপজেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক জাকির হোসেন কবির প্রমুখ। সম্মেলনে জেলা বিএনপির সভাপতি হিসেবে মুক্তিযোদ্ধা মোস্তফা কামাল মন্টু, সিনিয়র সহ-সভাপতি মিয়া আহম্মেদ কিবরিয়া, সাধারণ সম্পাদক মনিরুল ইসলাম নুপুর, যুগ্ম সাধারন সম্পাদক অ্যাড. শাহাদাৎ হোসেন ও সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে মেহেদি হাসান খান বাপ্পি নামসহ ঘোষণাসহ ১৫১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি অনুমোদন দেন সম্মেলনের প্রধান অতিথি বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সাবেক সেনা প্রধান লেঃ জেঃ মো. মাহবুবুর রহমান।
 
 উল্লেখ্য, জেলা বিএনপির ঝালকাঠির সম্মেলন স্থলে বিএনপির ৩ গ্রুপের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচির কারনে প্রশাসের পক্ষ থেকে ১৪৪ ধারা জারির পর রাজাপুর উপজেলা বিএনপির কার্যালয়ে অনুমতি না পাওয়ায় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শাহজাহান ওমর বীর উত্তমের রাজাপুরের বাসভবনের সামনের উঠানে বৃহস্পতিবার সকাল ১১ টায় এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সেই বাড়িটিও আইনশৃঙ্খলাবাহিনী ঘিরে রাখে। রাজাপুর থানার ওসি শেখ মুনীর উল গিয়াস জানান, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতেই আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর সদস্যরা তৎপর ছিল।

এ সম্পর্কিত আরও

Mountain View