ঢাকা : ৮ ডিসেম্বর, ২০১৬, বৃহস্পতিবার, ১২:১৭ পূর্বাহ্ণ
সর্বশেষ
ঢাবির ‘ঘ’ ইউনিটের ভর্তি কার্যক্রম বন্ধে আইনি নোটিশ ‘রোহিঙ্গাদের অবারিত আসার সুযোগ দিতে পারি না’প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে ২১ হাজার রোহিঙ্গা মুসলিম দেশে এইচআইভি আক্রান্ত ৪ হাজার ৭২১ জন: স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানাজায় লাখো মানুষের ঢল,শেষ শ্রদ্ধায় শাকিলের দাফন সম্পন্ন ইন্দোনেশিয়ার সুমাত্রা দ্বীপে ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা ৯৭ সংসদে রোহিঙ্গা ইস্যুতে যা বললেন প্রধানমন্ত্রী বগুড়ায় জাতীয় বিদ্যুৎ ও জ্বালানী সপ্তাহ ২০১৬ উদ্বোধন ও র‌্যালী অনুষ্ঠিত অভিনয়েই নয় এবার শিক্ষার দিক দিয়েও সেরা মিথিলা শিশুদের ওজনের ১০ শতাংশের বেশি ভারী স্কুলব্যাগ নয়
A huge collection of 3400+ free website templates JAR theme com WP themes and more at the biggest community-driven free web design site

গ্রাম আদালত আইন, ২০০৬ বাস্তবায়নে গণসচেতনতা জরুরী

images

মানুষ সামাজিক জীব। মানুষ সমাজবদ্ধ হয়ে যুগের পর যুগ ধরেই বসবাস করে আসছে। এর সুফল যেমন প্রতিটি মানুষই ভোগ করছে, তেমনি করে সমস্যারও কোন অভাব নেই। প্রতিটি সমাজ, এলাকা, থানা ও জেলা মিলেই আমাদের বাংলাদেশ। দেশ স্বাধীনের পর পরই বাংলাদেশ সংবিধান প্রণয়ন করা হয়েছে এবং সময়ের সাথে সাথে উদ্ভুত সকল সমস্যা সমাধানের নিমিত্তে আইন প্রণয়ন ও প্রয়োজনীয় সংশোধন করা হয়েছে এবং এখনো হচ্ছে।

আমরা জনসাধারণ অপরাধের ক্ষেত্রে আইন প্রয়োগ ও বিচার এর প্রয়োজনীয়তার সম্মুখীন হলেই আমরা থানা (পুলিশ স্টেশন) ও কোর্ট কাচারীর সরনাপন্ন হই। অধিকাংশ অপরাধের সৃষ্টি হয় মূলত আমাদের পরিবারে ও সমাজের মধ্যেই। রাষ্ট্র বিরোধী অপরাধগুলোর ক্ষেত্রে আপোষ করার কোন সুযোগ থাকে না। অপরাধীকে আইন অনুযায়ী বিচারের সম্মুখীন এবং সাজা ভোগ করতে হয়।

কিন্তু আমাদের পরিবার ও সমাজে সৃষ্ট অপরাধ ও বিরোধের ক্ষেত্রে সামাজিক ভাবে আপোষ করার একটি সুযোগ থাকে। তা না হলে থানা ও কোর্টে মামলা দায়েরের মাধ্যমে বিচার প্রার্থনা করতে হয়। তৎপরও সামাজিক ভাবে বিরোধের নিস্পত্তির সুযোগ থাকে। সংশ্লিষ্ট পগন গন্যমান্য ব্যক্তিগনের মাধ্যমে বিরোধ নিস্পত্তি করতে পারেন। দিন দিন সামাজিক অপরাধ ও বিরোধের সংখ্যা এতই বেড়ে চলেছে যে সংশ্লিষ্ট থানা ও কোর্টে উক্ত অপরাধ ও বিরোধের নিস্পত্তিতে সংশ্লিষ্টদের হিমশিম খেতে হচ্ছে।

পারিবারিক ও সামাজিক বিরোধগুলো স্থানীয় ভাবে ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে নিস্পত্তি করার লক্ষ্যেই গ্রাম আদালত আইন ২০০৬ প্রণয়ন করা হয়েছে।

উক্ত আইনের ধারা-৪। গ্রাম আদালত গঠনের আবেদন- (১) ক্ষেত্রে এই আইনের অধীন কোন মামলা গ্রাম আদালত কর্তৃক বিচারযোগ্য হয় সেইেেত্র বিরোধের যে কোন প উক্ত মামলা বিচারের নিমিত্ত গ্রাম আদালত গঠনের জন্য সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের নিকট, নির্ধারিত পদ্ধতিতে, আবেদন করিতে পারিবেন এবং ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান, লিখিত কারণ দর্শাইয়া উক্ত আবেদনটি নাকচ না করিলে নির্ধারিত পদ্ধতিতে, একটি গ্রাম আদালত গঠন করিবার উদ্যোগ গ্রহণ করিবেন।

(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন আবেদন নামঞ্জুরের আদেশ দ্বারা সংযুক্ত ব্যক্তি উক্ত আদেশের বিরুদ্ধে, নির্ধারিত পদ্ধতিতে ও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে, এখতিয়ারসম্পন্ন সহকারী জজ আদালতে রিভিশন করিতে পারিবেন।

৫) গ্রাম আদালত গঠন, ইত্যাদি-(১) একজন চেয়ারম্যান এবং উভয় প কর্তৃক মনোনীত দুইজন করিয়া মোট চারজন সদস্য লইয়া গ্রাম আদালত গঠিত হইবে। তবে শর্ত থাকে যে, প্রত্যেক প কর্তৃক মনোনীত দুইজন সদস্যের মধ্যে একজন সদস্যকে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য হইতে হইবে। (২) ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গ্রাম আদালতের চেয়ারম্যান হইবেন, তবে ক্ষেত্রে তিনি কোন কারণবশত: চেয়ারম্যান হিসাবে দায়িত্ব পালন করিতে অসমর্থ হন কিংবা তাঁহার নিরপেতা সম্পর্কে কোন প কর্তৃক প্রশ্ন উত্থাপিত হয় সেইেেত্র, নির্ধারিত পদ্ধতিতে, উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত সদস্য ব্যতীত উক্ত ইউনিয়ন পরিষদের অন্য কোন সদস্য গ্রাম আদালতের চেয়ারম্যান হইবেন। (৩) বিবাদের কোন পে যদি একাধিক ব্যক্তি থাকেন, তবে চেয়ারম্যান উক্ত পভুক্ত ব্যক্তিগণকে তাঁহাদের পরে জন্য দুইজন সদস্য মনোনীত করিতে আহ্বান জানাইবেন এবং যদি তাঁহারা অনুরূপ মনোনয়নদানে ব্যর্থ হন তবে তিনি উক্ত ব্যক্তিগনের মধ্য হইতে যেকোন একজনকে সদস্য মনোনয়ন করিবার জন্য মতা প্রদান করিবেন এবং তদানুযায়ী অনুরূপ মতাপ্রাপ্ত ব্যক্তি সদস্য মনোনয়ন করিবেন।

(৪) উপ-ধারা (১) এ যাহা কিছুই থাকুক না কেন বিবাদের কোন প চেয়ারম্যানের অনুমতি লইয়া ইউনিয়ন পরিষদ সদস্যের পরিবর্তে অন্য কোন ব্যক্তিকে গ্রাম আদালতের সদস্য হিসাবে মনোনীত করিতে পারিবেন। (৫) এই ধারার অন্যান্য বিধানে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, যদি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সদস্য মনোনীত করা সম্ভব না হয়, তবে অনুরূপ সদস্য ব্যতিরেকেই গ্রাম আদালত গঠিত হইবে এবং উহা বৈধভাবে উহার কার্যক্রম চালাইতে পারিবে।

উক্ত আইন ও ধারাগুলোর অধীনে প্রত্যেকটি নাগরিক তাঁর প্রত্যেকটি পারিবারিক ও সামাজিক সমস্যার ক্ষেত্রে ইউনিয়ন পরিষদ এর চেয়ারম্যান বরাবরে অভিযোগ দায়ের পূর্বক বিচার প্রার্থনা করতে পারেন।

কিন্তু উক্ত আইন প্রণয়নের পর দীর্ঘ ৯ বৎসর অতিবাহিত হলেও উক্ত আইনের তেমন বাস্তবায়ন দেখা যাচ্ছে না। এর কারণ হিসেবে-পারিবারিক ও সামাজিক সমস্যা অথবা অপরাধ কিংবা বিরোধের ক্ষেত্রে দেখা যায় যে, প্রাচীন বিচার ব্যবস্থা তথা যেসময় কোন প্রকার আইন ছিল না, সে সময়েই আমরা পড়ে আছি। সমাজে তিগ্রস্থ ব্যক্তিটি তাঁর সমাজের ও গ্রামের অশিতি ও পয়সা ওয়ালা মাতব্বরদের সরনাপন্ন হন।

তৎপর অপর পও গ্রামের কোন এক মাতব্বরের সরনাপন্ন হয়ে বিচার প্রার্থনা করেন। ক্ষেত্রে উভয় পরে বিচারকগণের পরস্পর যোগসাজসের কারনে বিচার প্রার্থীগণ ন্যায় বিচার থেকে বঞ্চিত হন। অনেকেই অনেক বড় অপরাধ করেও বিচারক ও বিচারকে প্রভাবিত করে ধরা ছোঁয়ার বাইরে থাকেন। তিগ্রস্থ মানুষটি তখন দিশেহারা হয়ে পড়েন।

সামাজিক ভাবে বিচার সম্পন্ন হওয়ার কারনে সে কোর্ট কাচারী কিংবা থানার সরনাপন্ন হতে পারে না। কখনো কখনো কেউ থানা বা কোর্টে বিচার প্রার্থী হলেও সংশ্লিষ্ট পকে নানা প্রকার সামাজিক হয়রানীর সম্মুখীন হতে হয়। অনেক ক্ষেত্রে অনেকেই গ্রাম্য মাতব্বরদের রোষানলে পতিত হয়ে গ্রাম ছাড়া হতে বাধ্য হন। এর বহু নজির আমাদের প্রত্যেকটি এলাকার প্রত্যেকটি সমাজে বিদ্যমান আছে। গ্রামের প্রত্যেকটি নিরীহ নাগরিক জিম্মি হয়ে থাকেন উল্লেখিত ব্যক্তিদের কাছে।

গ্রাম্য মতাশীনদের দৌরাত্ম এতই বেশি যে, বিরোধের পগনকে বিচার নিয়ে কোথাও যেতে হয় না। তারা নিজেরাই বিচার করার জন্যে বিরোধের পগনের দুয়ারে এসে হাজির হন। যার ফলে সংশ্লিষ্ট পগন থানা ও কোর্ট তো দূরে থাক তাঁর ঘরের কাছে ইউনিয়ন পরিষদেই যে সুন্দর বিচার ব্যবস্থা আছে সে তার সরনাপন্ন হতে পারে না।

গ্রাম আদালত আইন ২০০৬ এর ৫ ধারার উপধারাগুলোতে উল্লেখ আছে যে, (১) একজন চেয়ারম্যান এবং উভয় প কর্তৃক মনোনীত দুইজন করিয়া মোট চারজন সদস্য লইয়া গ্রাম আদালত গঠিত হইবে। তবে শর্ত থাকে যে, প্রত্যেক প কর্তৃক মনোনীত দুইজন সদস্যের মধ্যে একজন সদস্যকে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য হইতে হইবে। (২) ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গ্রাম আদালতের চেয়ারম্যান হইবেন, তবে যেেেত্র তিনি কোন কারণবশত: চেয়ারম্যান হিসাবে দায়িত্ব পালন করিতে অসমর্থ হন কিংবা তাঁহার নিরপেতা সম্পর্কে কোন প কর্তৃক প্রশ্ন উত্থাপিত হয় সেইেেত্র, নির্ধারিত পদ্ধতিতে, উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত সদস্য ব্যতীত উক্ত ইউনিয়ন পরিষদের অন্য কোন সদস্য গ্রাম আদালতের চেয়ারম্যান হইবেন। (৩) বিবাদের কোন পে যদি একাধিক ব্যক্তি থাকেন, তবে চেয়ারম্যান উক্ত পভুক্ত ব্যক্তিগণকে তাঁহাদের পরে জন্য দুইজন সদস্য মনোনীত করিতে আহ্বান জানাইবেন এবং যদি তাঁহারা অনুরূপ মনোনয়নদানে ব্যর্থ হন তবে তিনি উক্ত ব্যক্তিগনের মধ্য হইতে যেকোন একজনকে সদস্য মনোনয়ন করিবার জন্য মতা প্রদান করিবেন এবং তদানুযায়ী অনুরূপ মতাপ্রাপ্ত ব্যক্তি সদস্য মনোনয়ন করিবেন। (৪) উপ-ধারা (১) এ যাহা কিছুই থাকুক না কেন বিবাদের কোন প চেয়ারম্যানের অনুমতি লইয়া ইউনিয়ন পরিষদ সদস্যের পরিবর্তে অন্য কোন ব্যক্তিকে গ্রাম আদালতের সদস্য হিসাবে মনোনীত করিতে পারিবেন। (৫) এই ধারার অন্যান্য বিধানে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, যদি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সদস্য মনোনীত করা সম্ভব না হয়, তবে অনুরূপ সদস্য ব্যতিরেকেই গ্রাম আদালত গঠিত হইবে এবং উহা বৈধভাবে উহার কার্যক্রম চালাইতে পারিবে অর্থাৎ ইউনিয়ন পরিষদ এর চেয়ারম্যান গ্রাম আদালতের চেয়ারম্যান হইবে, তার অনুপস্থিতিতে ইউনিয়ন পরিষদ এর সদস্য গ্রাম আদালতের চেয়ারম্যান হইবেন। প্রত্যেক পরে মানীত দুই জন সদস্যের মধ্যে একজন অবশ্যই ইউনিয়ন পরিষদ এর মেম্বার হইবেন, এমন কেউ না থাকিলে অন্য কোন ব্যক্তিকে মনোনীত করিবেন। ৫ ধারা মতে দেখা যায় যে, বিচারক ও পগনের মানিত সদস্যদের মধ্যে রদবদল হলেও বিরোধের ক্ষেত্রে আবশ্যিক ভাবেই গ্রাম আদালত গঠন করিতে হইবে। গ্রাম আদালত গঠন ব্যতিত কোন সালিশ বিচার করার বিধান উক্ত আইনে পরিলতি হয় না। কেউ যদি গ্রাম আদালতের মাধ্যমে ন্যায় বিচার পায়নি বলে মনে করেন তাহলে উক্ত আইনের ৮ ধারার উপধারা (২) ও (৩) মতে প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিষ্ট্রেট আদালত বা সহকারী জজ আদালতে আপীল করিতে পারিবেন।
গ্রাম আদালতের অধীনস্থ প্রত্যেকটি নাগরিকের বিচার প্রার্থী হওয়া জরুরী। এতে করে প্রত্যেকটি অপরাধের বিচারের ভার সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদ এর চেয়ারম্যান এর উপর ন্যস্ত হবে। কোন অপরাধ বা বিরোধ গ্রাম আদালতের দ্বারা বিচার্য্য না হইলে কিংবা ন্যায় বিচার লঙ্ঘিত হইলে জেলা জজ আদালতের সরনাপন্ন হওয়াটা তখন অনেকাংশেই সহজ হবে। এতে করে যেকোন পারিবারিক ও সামাজিক অপরাধের ক্ষেত্রে গ্রামের ভিতরেই বিচারের নামে প্রহসন বন্ধ হবে। গ্রামের প্রভাবশালীদের দ্বারা নিরীহ জনসাধারণ সর্বপ্রকার আর্থিক, সামাজিক ও মানসিক হয়রানীর হাত থেকে রা পাবে।

জুবায়ের আহমেদ
সমাজকর্মী

এ সম্পর্কিত আরও

Check Also

দোষ শুধু বদরুলের, ছাত্রলীগের নয়!

আমার স্ত্রী শীলা আহমেদকে চেনেন অনেকে। আগুনের পরশমণি আর আজ রবিবার-এর সময় সে ছিল মিষ্টি …

Mountain View

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *