ঢাকা : ৩ ডিসেম্বর, ২০১৬, শনিবার, ৮:৩৪ পূর্বাহ্ণ
সর্বশেষ
A huge collection of 3400+ free website templates JAR theme com WP themes and more at the biggest community-driven free web design site

প্রখর সূর্যের দিকে ৬ ঘন্টা তাকিয়ে থেকে চমকে দিলো এলাকাবাসীকে বিশ্বরেকর্ড গড়তে চান গোপাল-

500x350_658a64c4b265945be1325974fb6b78e8_20_8_2নরসিংদী প্রতিনিধি :ধর্ম সাধনায় এক নতুন পথ দেখালেন নরসিংদীর গোপাল বিশ্বাস। গীতা ও উপনিষদের আলোকে সূর্যধ্যান করে তিনি সূর্যের মাঝে পরমাত্মার সন্ধান করেছেন। উপলদ্ধি করেছেন ‘সোমস্মি। বিশ্বাস করুন আর নাই করুন তিনি টানা চার ঘন্টা গ্রীষ্মের দুপুরে গনগনে সূর্যের দিকে তােিকয়ে থাকতে পারেন। আগরতলার উমাকান্তা একাডেমিতে ২০১৫ সালের জুলাই মাসে টানা চার ঘন্টা পরিষ্কার নীল আকাশে প্রখর সূর্যের দিকে নিষ্পলক তাকিয়ে থেকে তিনি উপস্থিত সবার মাঝে বিস্ময়ের সৃষ্টি করেছেন। তাঁর দাবি ধর্মসাধনারই অংশ। 
 
আমরা সাধারণত প্রভাবে বা সন্ধ্যায় সূর্যের দিকে তাকাতে পারি। কিন্তু তাই বলে মধ্য দুপুরে। অবিশ্বাস্য হলেও সত্য যে, তিনি এটা পারেন। মেঘলা বা ঝাপসা আকাশে নয়, পরিষ্কার নীল আকাশেই গোপাল স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন সূর্যধ্যান করতে। এমনকি সূর্যগ্রহণও তিনি দেখেছেন নিষ্পলক দীর্ঘ দৃষ্টিতে। তাতে তার চোখের কোন ক্ষতিই হয়নি। এমনকি খালি চোখে পত্রিকা পড়তেও কোন অসুবিধা হয় না তার।
 
এবার এই অসাধারণ ক্ষমতা প্রদর্শন করে রিতীমতো গিনেস বুকে বিশ্বরেকর্ড হিসেবে স্বীকৃতি চান তিনি। নিজের জন্য, ধর্মের জন্য এবং দেশের জন্যও তিনি এই স্বীকৃতি বয়ে আনতে চান। 
কলকাতার একটি টিভি চ্যানেলে তাকে নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশের পর এই বেলা ডটকমের অনুসন্ধানে জানা যায়, এই গোপাল দাস নান্নী গোপাল বিশ্বাস বাংলাদেশেরই নরসিংদী জেলার বাসিন্দা। তার সাথে যোগাযোগ করে আমন্ত্রণ জানানো হয় এই বেলা অফিসে। একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি তুলে ধরেন ধাপে ধাপে তার সাধনার প্রক্রিয়া ও তার গুরুদেবগনের অবদান। 
দেখুন খবর ২৪ ঘন্টার প্রতিবেদন 
 
গোপাল বিশ্বাস তার এই চমৎকার কর্মসিদ্ধির জন্য সকল কৃতিত্ব দিতে চান তার গুরুদেরকে। তিনি মোট চার জন ব্যক্তিকে গুরু হিসেবে স্বীকৃতি দেন। এর মধ্যে আছেন অকৃতদার শিক্ষক হেমন্দ্র চন্দ্র, অজ্ঞাতকুলশীল এক মৌনব্রতী, রাইচাঁদ নামক এক নিভৃতচারী ও বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম। 
 
ছোটবেলাতেই ঠাকুরদাদার কাছে সূর্যপ্রণাম শিখেছিলেন। যৌবনকালে নিয়মিত গীতাপাঠ করতেন তিনি। ধ্রান করা তার অভ্যাস ছিল। ভ্রুযুগলের মধ্যে কোন বিন্দুতে বা প্রদীপের শিখায় দৃষ্টি নিবদ্ধ রেখে তিনি দ্যান করতেন। একদিন গীতা পড়তে গিয়ে এর ১০ম অদ্যায়ে বিভূতিযোগে অর্জুনের প্রশ্ন ও শ্রীকৃষ্ণের উত্তরে তার দৃষ্টি আকৃষ্ট হয। একথা জানিয়েই গোপাল বিশ্বাস তার সঙ্গে থাক খলির ভেতর থেকে গীতা বের করে দেখালেন। ভগবানকে কীভাবে ধ্যান করতে হবে তা জানতে অর্জুনের প্রশ্ন 
 
অর্জুন জিজ্ঞাসা করছেন হে, যোগেশ্বর, কীরুপে সতত আপনার চিন্তা করিলে আমি আপনাকে জানিতে পারিব? হে ভগবান, কোন কোন বস্তুতে আপনাকে দ্যান করিব? গীতা১০/১৭ এর উত্তর ভগবান শ্রীকৃষ্ণ বলেছেন, হে নিদ্রাজয়ী অর্জুন, আমিই সর্বভূতের হৃদয়ে অবস্থিত আত্মা এবং আমিই সর্বভূতের উৎপত্তি, স্থিতি ও প্রলয়ের স্থান। গীতা ১০/২০ দ্বাদশ আদিত্যের মধ্যে আমি বিষ্ণু, জ্যোতিসমূহের মদ্যে আমি কিরণশালী সূর্য…..গীতা ১০/২১ ঠিক এখান থেকেই তিন সূর্যধ্যান করা দেশনা পান। চেষ্টা শুরু করেন। কিন্তু প্রথম বেশ সমস্যা হতো।
 
 তার এই সাধনচেষ্টার কথা জানতে পারেন  তার প্রধান গুরুদেব স্থানীয় স্কুলশিক্ষক  হেমন্দ্র চন্দ্র ব্রহ্মচারী। এই অকৃতদার ব্রহ্মচারীর বয়স এখন প্রায় ৮০ বছর। বৈষ্ণব মন্ত্রে দীক্ষিত হয়েও তিনি একজন শক্তির সাধক। তিনিই গোপাল বিশ্বাসকে সূর্যধ্রান করার দিক নির্দেশনা দিয়ে আর্শীবাদ করেন। তার পর থেকেই গোপাল সুর্যের দিকে তাকাতে সমর্থ হন। এভাবে চলতে থাকে তার সূর্য সাধনা। একসময় ইশ্বর দর্শনের জন্য ব্যাকুল হয়ে ওঠেন গোপাল বিশ্বাস। 
 
এমনই একদিন তিনি তার গুরুদেব হেমেনদ্র ব্রহ্মচারীর জন্য দুধ নিয়ে আসেন তার বাড়ীতে। ব্রহ্মচারী তাকে জানান, নীলকুঠি স্টেশনে একজন মহাপুরুষ আছেন। তাকে যত করো। তার কাছ থেকে তোমার কিছু পাওয়ার আছে। তুমি যে আমার জন্য দুধ নিয়ে আসো, ঐ মহাপুরুষকে যদি দুধ দিয়ে আসো, তবে এই দুধ আমার খেতে ভাল লাগে না। এর পরের দিন স্টেশনে গিয়ে গোপাল বিশ্বাস এক অপরিচ্ছন্ন ব্যক্তিকে দেখতে পান। অনেকে তাকে পাগলই মনে করত। ছিন্নবস্ত, রুক্ষ বেশ- ভূষা তার। কিন্তু তিনি শান্ত, সৌম্য ও স্থির। কারও সাথে কোন কথা বলেন না।
 
 ভিক্ষুকেও নন তিনি। স্টেশনের এক ধারে একান্তে চুপচাপ বসে থাকতেন। গোপালকে দেখে তিনি স্মিত হাসেন। তারপর থেকে নিয়মিত ঐ মহাপুরুষের কাছে নিয়মিত যাতায়াত ও তার সেবা যত করেন। তিনি সূর্যসাধনার জন্য ইঙ্গিতে ইশারায় দিক- নির্দেশনা দেন গোপালকে। একদিন গভীর রাতে প্রথম বারের মতো হেমেন্দ্র ব্রহ্মচারী গোপালকে উত্তরীয় পরিয়ে দেন। খুশিতে তিনি কিছু খাবার নিয়ে ঐ মহাপুরুষের আবাসস্থলে যান। মহাপুরুষ যেন সবই জানতেন। তিনি হাসছিলেন হঠাৎ তিনি গম্ভীর হয়ে যান। এরপর তার দু’চোখ থেকে জ্যোতি বেরিয়ে দুটো তীব্র আলোকরশ্মি গোপালের মুখে এসে পড়ে। গোপাল হববিহ্বল ও স্থবির হয়ে যান। ঠিক এর পরের দিন থেকেই গোপালের সুর্য ধ্যানের সকল বাধা দূর হয়ে যায়। স্থিরভাবে দীর্ঘক্ষণ এমনকি সারাদিন ধরে ধ্যান করতে অথ্যাৎ নিষ্পলক তাকিয়ে থাকতে সমর্থ হন তিনি। দীর্ঘ চার বছর এই অজ্ঞাতকুলশীল মহাপুরুষ গোপালকে দিকনির্দেশনা দেন। কিন্তু তিনি কখনোই কথা বলেন নি।
 
 তিনি ছিলেন মৌনরতী। চার বছর পর এই মহাপুরুষ অন্তর্ধান হয়ে যান। কেউ বলতে পারে না তার গতিবিধি সম্পর্কে। আশপাশের শহর- গঞ্জে সব জায়গায় তাঁকে খুঁজেছেন গোপাল। তিনি নিরুদ্ধেশ একজন দরিদ্র মুসলিম মহিলা তাঁর সেবা করতেন। তিনিও জানেন না কিছু। ব্রহ্মচারী ও এ বিষয়ে নীরব। গোপালের বিশ্বাস এই মহাপুরুষ হয়তো হিমালয়ে কোন সাধক, তাকে কৃপা করার জন্যই এসেছিলেন। তার কাছে এই মহাপুরুষ ছিলেন স্বয়ং মহাদেব শিব সমতুল্য। গোপাল নাকি এমনটাই একবার স্বপ্নে দেখেছিলেন। গোপাল আরেকজন ব্যক্তিকে গুরু মানেন। তিনি রাইচাঁদ ফরিদপুরের জমিদারপুত্র। এক সময় বেতার ও বিটিভিতে তিনি নাকি গীতা পাঠ করতেন।
 
 শেষ বয়সে রাইচাঁদ নিভূতচারী ছিলেন। জীবনের শেষ দিনগুলি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালযের জগন্নাথ হলের অক্টোবর স্মৃতি ভবনের চিলেকোঠায় কাটিয়েছেন তিনি। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েরই ছাত্র ছিলেন এক সময়। শেষবেলায় অনেকে তাকে উন্মাদ মনে করত। কিন্তু রসিকই খুঁ নেয় রসের সন্ধান। তার সাহচর্যে গোপাল দেখেছেন কীবাবে নিদ্রাকে জয় করতে হয়। রাইচাঁদ ছিলেন নিদ্রাজয়ী টানা দশ- বারদিন পর্যনত্ তিনি না ঘুমিয়ে থাকতে পারতেন তিনি গোপালকে শাস্ত্রপাঠ ও ধর্ম শিক্ষা দেন। বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামকেও গোপাল বিশ্বাস তার গুরু মানেন। নজরুলের কবিতা ও গান তাক অনেক অনুপ্রেরণা, শক্তি ও চেতনা প্রদান করে। আত্মত্ব ও দর্শনের অনেক কিছুই শিখেছেন নজরুলের কাছ থেকে। 
দেখুন আরেকটি প্রতিবেদন 
 
সূর্যদ্যানের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে গিয়ে গোপাল বিশ্বাস জানান, সূর্যের দিকে তাকাতে তার কোন অসুবিধাই হয় না। সূর্যধ্রানের মাজে কোন মেঘ যদি হঠাৎ মাঝখানে এসে বিঘœ ঘটায় তবে তা তার চোখে পীড়া দেয়। তবে তার বিস্ময়কর একটি অভিজ্ঞতা হলো, দ্রানের গভীর পর্যায়ে তিনি দেখেছেন উড়ন্ত মেধ ঠিক তার দৃষ্টি ও সূর্য বরাবর সরলরেখায় এসে থেমে গেছে বা পাশ কাটিয়ে চলে গেছে তার সূর্যধ্যানে বিঘ ঘটায়নি। আরেকটি বিস্ময়কর ব্রাপর হলো তিনি নাকি সূর্যের মাঝে ঠিক তার নিজেরই ছায়া দেখতে পেয়েছেন। যেরকম শয়িত অবস্থায় তিনি ধ্যান করেন, হুবহু তারই ছায়া পড়েছে সুর্যে। এটা দেখে তিনি খুবই বিস্মিত। এই প্রতিবেদকের সাথে যখন তিনি এই কথাগুলো বলেন, তখন এই প্রসঙ্গে প্রতিবেদক জানান ঈশোপনিষদে এমনটাই বলা আছে।
  হিরণ¥য়েন প্রাত্রেণ সত্যস্যাপিহিতং মুখম। 
তত্বং পূষন্নপাবৃণু সত্যধর্মায় দৃষ্টয়ে। ১৫
সরলার্থ ঃ 
সত্যের মুখ উজ্জল সোনার পাত্রের দ্বারা আবৃত্ত। জীবন ও জগতের ধারক হে সূর্য, তুমি সেই আবরণটি দয়া করে সরিয়ে দাও যাতে সত্যজিজ্ঞাসু আমি সত্যকে দর্শন করতে পারি। 
পুষন্নেকর্ষে যম সূর্য প্রাজাপত্র ব্যূহে রশ্মীন সমূহ তেজ । 
যত্তে রুপং কল্যাণতমং তত্তে পশ্যামি। েেযাহসাবসৌ পুরুষ ঃ সোহমস্মি। ১৬
সরলার্থ 
 হে পূষন, হে নিঃসঙ্গ পথচারী, হে সর্ববিয়ন্তা, হে প্রজাপতি- নন্দন সূর্য, অনুগ্রহ করে তুমি তোমার কিরণরাশি সংহত কর। তোমার তেজ সংরবরণ কর। আমি তোমার কল্যাণতম রুপটি দেখতে চাই। তোমার মধ্যে সেই পুরুষ রয়েছেন; আমিই সেই পুরুষ
 
 ততক্ষণে গোপাল বিশ্বাসের গায়ের রোম দাঁড়িয়ে গেছে। তিনি জানতেন না ঈশোপনিষদের এই তত্ব। কিন্তু নিজের অজান্তেই ইতোমধ্যে তা অনেকটাই উপলদ্ধি করে ফেলেছেন তিনি। গোপালের চেয়ে আরও অনেক বেশি রহস্যে ঘেরা তার গুরুদেব হেমেন্দ্র চন্দ্রের জীবন ও তাঁর ধর্ম সাধনা। এ নিয়ে ধারাবাহিক প্রতিবেদন নিয়ে আসছে এই বেলা ডটকম। 

এ সম্পর্কিত আরও

Check Also

full_110027732_1480667562

শনিবার সংবাদ সম্মেলনে আসছেন প্রধানমন্ত্রী

পানি সম্মেলন উপলক্ষে হাঙ্গেরিতে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় সফরের অভিজ্ঞতা জানাতে শনিবার সংবাদ সম্মেলনে আসছেন প্রধানমন্ত্রী …

Mountain View

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *