ঢাকা : ৫ ডিসেম্বর, ২০১৬, সোমবার, ১০:৩২ অপরাহ্ণ
সর্বশেষ
সরকার রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে দিচ্ছে কিন্তু ইয়াবা ফেরাচ্ছে না সংসদে ফিরোজ রশিদ, জব্দ করা প্লেন কিভাবে আকাশে উড়ে? ইংলিশ কাউন্টি ক্রিকেটে খেলবেন সৌম্য সরকার! বাচ্চাকে বুকের দুধও দিতে পারছেন না রোহিঙ্গা মা অন্ন-বস্ত্রের প্রকট সঙ্কটে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা পরিবারগুলো পাকিস্তানের দ্বারস্থ হচ্ছে ভারত! ভিডিও বার্তার জবাবে হুমকি পেলেন সাব্বির! বান্দরবানে রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির বার্ষিক সভা ও নির্বাচন অনুষ্ঠিত ‘গণতন্ত্রের ভিত্তিকে শক্তিশালী করতে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে’ ‘শান্তিরক্ষা মিশনে অস্ত্রশস্ত্র ভাড়া বাবদ বাংলাদেশের বার্ষিক আয় ৪৩৭,৫২,৯৫,২৬৪ টাকা’
A huge collection of 3400+ free website templates JAR theme com WP themes and more at the biggest community-driven free web design site

বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থায় শিক্ষার্থীরা শিক্ষা আতঙ্কে ভুগছে

shikkah

শিক্ষা মানুষের মৌলিক অধিকার সমূহের মধ্যে অন্যতম। তাই সরকার শিক্ষার মানোন্নয়নে বিভিন্নভাবে কাজ করছে। কিন্তু বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থায় অতিরিক্ত বই এর ভারে শিক্ষার্থীরা শিক্ষাতঙ্কে ভুগছে। শিক্ষা গ্রহণের মূল বৈশিষ্ট্য হলো-“শিশুরা প্রকৃতি থেকে খেলার ছলে, আনন্দের সাথে শিখবে।” বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শিক্ষা দর্শন এমনটিই।

তবে বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থায় শ্রেণিভিত্তিক যে কারিকুলাম, সিলেবাস বা বই প্রণয়ন করা হয়েছে তা কতটা সমীচীন, ভেবে দেখা দরকার। অতিরিক্ত বইয়ের ভারে শিক্ষার্থীরা ভারাক্রান্ত। শিশুরা বইয়ের ব্যাগ পিঠে নিয়ে সোজাভাবে হাটতে পারে না। ক্লাস শেষে বাড়ি গিয়ে পড়ার চাপে সামান্যতম বিশ্রামের সময়টুকু পায় না। শিক্ষার বাহন আর প্রকৃতির হাতে কিছুই নাই, সব বইয়ে চলে এসেছে। আর প্রতি বছর বইয়ের সংখ্যা বেড়েই চলছে। জোড় করে, বয়সের সাথে সামঞ্জস্যহীনভাবে শিক্ষার্থীদেরকে বিজ্ঞান, কলা, খেলাধুলাসহ সকল বিষয়ে পড়ানো হচ্ছে। সবাইতো তার একবারে ডাক্তার বা প্রকৌশলী বা ব্যাংকার বা খেলোয়ার হবে না। আর শিশু বয়সে এটা নির্ধারন করা সম্ভব নয় যে, কে কোন বিষয়ে ভালো বা কার মনোভাব কোন দিকে? বর্তমানে যে “সৃজনশীল” প্রশ্ন করা হচ্ছে, সেখানেও বয়স এবং শ্রেণির সাথে তা কতটা সংগতিপূর্ণ বিবেচনা করা উচিৎ। ২য় বা ৩য় শ্রেণি থেকে সৃজনশীল প্রশ্নে পরীক্ষা নেয়া হয়। কিন্তু সৃজনশীল প্রশ্ন কী তা কি ওরা বোঝে বা জানে? বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কোর্সে দেখা যায়-প্রশিক্ষণ গ্রহণকারী এবং প্রশিক্ষণ প্রদানকারী দুই পক্ষের মধ্যে অনেক সময় “সৃজনশীল” বিষয়ে মতানৈক্য দেখা দেয়। আবার এমনটিও ঘটে, দুই পক্ষ একই বিষয়ে আলাদাভাবে ব্যাখ্য দেন। ৮ থেকে ১০ বছর বয়সী একজন শিক্ষার্থী যে কিনা নিজের পোষাক ও বই, খাতা, কলম গুছিয়ে প্রতিষ্ঠানে যেতে পারে না, সে নিজে কি সৃষ্টি করবে? আসলে সৃজনশীল প্রণেতারা বয়স বিবেচনা করে সৃজনশীল প্রয়োগে অনেকটা অজ্ঞতার পরিচয় দিয়েছেন।

ষষ্ঠ, সপ্তম ও অষ্টম শ্রেণীতে ১৩ খানা বই পাঠ্যক্রমে দেয়া হয়েছে অবশ্য বিভিন্ন প্রাইভেট স্কুলগুলোতে আরো বাড়িয়ে বই পড়ানো হয় অথচ এই সকল শিক্ষার্থীরা পঞ্চম শ্রেণিতে মাত্র ৬ খানা বই পড়ে আসছে। ১১/১২ বছর বয়সী একজন শিক্ষার্থীর পক্ষে এতগুলো বই পড়া পুরোপুরি অসম্ভব। শিক্ষার্থীরা এখন যন্ত্রের মতো হয়ে গেছে। ক্লাসে অবস্থান, বিকালে কোচিং (৫ম, ৮ম ও ১০ম শ্রেণির জন্য), বাসায় প্রাইভেট সবমিলে ওরা শিক্ষা আতঙ্কে থাকে, তাছাড়া বইয়ের কলেবর শ্রেণি ভিত্তিক অসামঞ্জস্যপূর্ণ। যারা এই সৃজনশীল, কারিকুলাম ও সিলেবাস প্রণেতা তারা আসলে স্বাভাবিক আবস্থায় এমনটি করতে পারেন না। তারা সরকার তথা জনগনের টাকায় অথবা বিদেশী সহযোগিতা বা লোনের টাকায় বিদেশ ভ্রমণ করেন, আর দেশে ফিরে যা উপহার দেন তাতে শিশুদের মেধার বিনাশ ঘটে অনেকাংশে। অতিরিক্ত পড়ার চাপে অনেক শিক্ষার্থী মাথা ব্যাথা ও চোখের সমস্যায় ভোগতেছে। ‘রিলাক্স’ কি ওরা প্রায় ভুলতে বসেছে। সকল শিক্ষার্থী তো আর সমান মেধার নন। তাই বই নির্বাচনে এ বিষয়টি মাথায় রেখে শিক্ষা কারিকুলাম ও সিলেবাস প্রণয়ন করা দরকার। ৬ষ্ঠ থেকে ৮ম শ্রেণি পর্যন্ত (১) বাংলা (২) ইংরেজী (৩) গণিত ৪) সাধারন বিজ্ঞান (পরিবেশ বিজ্ঞান) (৫) বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় (৭) ধর্ম (৮) কৃষি শিক্ষা ও (৯) তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি এর বাহিরে ওদের কোন বই দরকার আছে বলে মনে হয় না।

তাও শ্রেণি ও বয়সের সাথে মিল রেখে সিলেবাস প্রণয়ন করতে হবে। যেমন : ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে ইংরেজী ২য় পত্রে Letter থেকে Parts of Speech এবং Sentence নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হতে পারে, সপ্তম শ্রেণিতে-Tense, spelling, Voice এবং Pronunciation ইত্যাদি অষ্টম শ্রেণিতে Voice, Narration (simple), Conversion of sentence, Right from of verbs, synonym, antonym, tag question ও tense এর ব্যাপক আলোচনা, নবম ও দশম শ্রেণিতে Transformation ও Passage Narration সহ Grammar এর সার্বিক বিষয়ে ব্যাপক আলোচনা। অথচ Passage Narration অষ্টম শ্রেণি থেকে ও Transformation দেয়া হয়েছে সপ্তম শ্রেণি থেকে। যা আদৌ সমীচীন নয়। নবম শ্রেণিতে বিজ্ঞান, মানবিক, বানিজ্য ও খেলাধুলা উপরে বিষয় বাছাইয়ের পর্ব থাকা উচিৎ।

আর এ সকল বিষয়ের সিলেবাস শ্রেণি ও বয়স বিবেচনায় হওয়া উচিৎ। তবে বর্তমান সিলেবাসে ষষ্ঠ শ্রেণিতে নবম-দশম শ্রেণির এবং নবম-দশম শ্রেণিতে অনাস-মাস্টার্স লেভেলের সিলেবাস রাখা হয়েছে। আবার বর্তমান যুগের কবি সাহিত্যিকরা অনেকটা গবেষনা ধর্মী। তাই তাদের সৃষ্টিগুলো অনেকটাই নীরস, তাই শ্রেণি ভিত্তিক সাহিত্য নির্বাচনে বিশেষ যত্নবান হতে হবে। প্রথম শ্রেণি থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত সরস সাহিত্য নির্বাচন করা দরকার, যাতে ছন্দের মিল থাকে। এ ক্ষেত্রে প্রবন্ধ না রেখে গল্প ও কবিতা রাখাই ভাল।

পাশাপাশি সৃজনশীলের বিষয় ডিগ্রি/অনার্স ও মাস্টার্স লেভেলে রাখাও জরুরী। কেননা সৃজনশীল প্রশ্নও শিক্ষার্থীদেরকে বই ও গাইড পড়ে মুখস্ত করতে হয়। সৃজনশীলের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য তা নয় বরং নিজে মেধা খাটিয়ে লেখবে। তাই প্রথম থেকে দ্বাদশ শ্রেণী পর্যন্ত, শিক্ষার্থীরা শিখবে এবং ডিগ্রি/অনার্স লেভেলে সৃষ্টি করবে। কেননা আগে নিজে না শিখে সৃষ্টি করা যায় না। আর বর্তমান সৃজনশলে শিক্ষার্থীরা আগে সৃষ্টি করবে পরে শিখবে। অপরদিকে অনেক বই থাকায় শিক্ষকরা সময়মতো সিলেবাস শেষ করতে পারেন না। ফলে শিক্ষার্থীরাও যে কোন বিষয়ে ভালোভাবে শিক্ষা গ্রহণ করতে ব্যার্থ। পরীক্ষায় নকলের এটাও একটা অন্যতম কারন। কেননা কোর্স শেষ করতে না পারায় সংশ্লিষ্ট শিক্ষককে পরীক্ষা কেন্দ্রে নকল সরবরাহ করতে হয়।

এ সম্পর্কিত আরও

Check Also

aynabaji-bg20161205124301

আসবে কি বহুল আলোচিত আয়নাবাজির সিক্যুয়াল!

সম্প্রতি নির্মিত ‘আয়নাবাজি’ সিনেমাটি নিয়ে দেশ-বিদেশে বাঙালি দর্শকদের মধ্যে বেশ হইচই পড়ে গেছে। গত ৩ …

Mountain View

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *