Mountain View

ডাবিং অনুষ্ঠান বন্ধ হলেই কি সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে?

প্রকাশিতঃ ডিসেম্বর ২, ২০১৬ at ২:৫৬ অপরাহ্ণ

324ea45b4b7410a942d408ae3e1f0eb8x800x706x79বিদেশি টিভি সিরিয়াল বাংলাদেশের টেলিভিশন চ্যানেলগুলোতে দেখানো বন্ধের দাবি তুলেছেন বাংলাদেশের নাট্যশিল্পীরা। বুধবার ঢাকায় বিদেশি টিভি সিরিয়ালের বিরুদ্ধে এক প্রতিবাদ সমাবেশে তারা বলেছেন, বিদেশি টিভি সিরিয়ালের আগ্রাসনে বাংলাদেশের টেলিভিশন নাটকের ভবিষ্যৎ বিপন্ন হতে চলেছে। টিভি নাটককে বিভিন্ন দাবী নিয়ে অভিনয় শিল্পীরা বুধবার ঢাকার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে জড়ো হয়েছিলেন।

শহীদ মিনারের সমাবেশে অভিনেতা তৌকির আহমেদ বলেন,  আমরা যদি এখনই পদক্ষেপ না নিতে পারি, তাহলে এফডিসি’র যে অবস্থা হয়েছে, আমাদেরও একই অবস্থা হবে।  টিভি নাটকের সাথে সংশ্লিষ্টরা দাবি করছেন বর্তমানে দেশের কয়েকটি টিভি চ্যানেলে বিদেশি সিরিয়াল বাংলা ডাবিং করে যেভাবে প্রচার করা হচ্ছে সেটি বন্ধ করতে হবে।

বিষয়টি নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় কয়েকদিন ধরেই তোলপাড় চলছে।  তাদের এই দাবির পক্ষে বিপক্ষে বিভিন্ন মত চলে আসছে।  পক্ষে যেমন বলা হচ্ছে তেমনি বিপক্ষেও বলা হচ্ছে।

নির্মাতা নোমান রবিন নিজের ফেসবুকে লিখেছেন, ‘লোগান ‘শিল্পে বাচি-শিল্প বাচাই। এজেন্ডা ৫ টি। তার মধ্যে ২ টি ইস্যু নির্দিষ্ট কিছু টিভি চ্যানেলের কম্বলে আঙ্গুল দেয়ার জন্য তৈরী করা হয়েছে, ২ টি ইস্যু তৈরী হয়েছে টিভিওয়ালাদের নিজেদের স্বার্থ সিদ্ধির জন্য, আর আমরা, মানে যারা সমাবেশের ৯৯% ভাগ দখল করে থাকব, স্লোগান ধরব, সেই পরিচালক, শিল্পী, কলাকুশলী, প্রযোজকদের স্বার্থে ১ টি মাত্র ইস্যু!  আমাদের মহান নেতারা এটা কেন বলেন না যে ‘বিনোদন এবং সংবাদ একসাথে চলবে না’!’

আরেকজন সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারী লিখেছেন, ‘চ্যানেলগুলো যখন বিকল্প উপায়ে ভারতীয় চ্যানেলগুলোর সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে শুরু করেছে তখন এনারা মাঠে নামছেন। তাদের দাবি, প্রতিযোগিতা থেকে সরে এসে বস্তাপচা বাতিল মাল চালাতে হবে। এই ফাঁকে লাভবান হবে কারা? সেই ভারতীয় চ্যানেলগুলোই। দেশী চ্যানেলগুলোকে যুগের পর যুগ বাধ্যতামূলকভাবে বাতিল মাল গিলে যেতেই হবে।’

চিত্রনাট্য লেখপক আব্দুল্লাহ জহির বাবু মন্তব্য করেছেন, ‘ভাই আগে বিজ্ঞাপনের অত্যাচার কমান। আপনাদের আন্দোলেন আমিও সামিল হব। বিজ্ঞাপন দেখতে দেখতে আমরা নাটকের গল্প ভুলে যাই।’

রামিসা রাফিকা রিজভী মন্তব্য করেছেন,  বিটিভিতে যখন ম্যাকগাইভার, দ্য এ টিম, টাইম ট্র্যাক্স, র‍্যাভেন, টিপু সুলতান, আলিফ লায়লা প্রচারিত হতো তখন বাংলাদেশের টিভি কলাকুশলীদের পেটে লাথি পড়েছিল বলে শুনিনি ।’

ফাহমিদ শান্তনু মন্তব্য করেছেন, ‘শিল্পী সম্মানী নিয়ে কথা বলার আছে। শিল্পীদের সময় জ্ঞান নিয়ে কথা বলার আছে। টেলিভিশন চালানোর জন্য শুধু নাটকের দরকার নাই দরকার ভাল কন্টেন্ট এর। আর ভাল প্রোগ্রাম থাকলে দর্শক থাকবে দর্শক থাকলে বিজ্ঞাপন আসবে। আসল কথা হল টিভি এর ব্যাকগ্রাউন্ড না নিয়ে টিভি এর হেড অফ প্রোগ্রাম হলে যা হয় …… এইভাবেই টিভি চলবে ।’

আরেকজন ফেসবুক ব্যবহারকারী বলেছেন, আগে নিজেদের ঠিক হতে হবে। যে বাজেটে আপনি একটি কাজ করবেন না, সেই বাজেটে আপনার আরেকজন পরিচালক এসে অর্ধেক মূল্যে অনুষ্ঠান তৈরি করে দিয়ে যাবে।

নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী লিখেছেন,  আসল উপায় টেলিভিশন অনুষ্ঠানের প্রকৃত দর্শক সংখ্যা নিরূপণের ব্যবস্থা করা। তখনই বিজ্ঞাপন দাতারা বাধ্য হবেন ভালো কাজে বেশী দরে বিজ্ঞাপন দিতে। সিন্ডিকেট করে বা আরো নানান পন্থায় বিজ্ঞাপন পাওয়ার দিন তখন শেষ হবে । তখনই হবে ভালো কনটেন্টের প্রতিযোগিতা আর ভালো আইডিয়ার জোয়ার। এই আসল জায়গায় হাত দেন, বন্ধুরা। চ্যানেলগুলারে ডিজিটাল যুগে নেয়ার দাবী তোলেন যাতে প্রকৃত দর্শক সংখ্যা জানা যায়। এখন যেই ভুয়া টিআরপি চলে সেটা দিয়ে হবে না। পাশাপাশি বিদেশী চ্যানেলে বিজ্ঞাপন দেয়া বন্ধ করা, তাদের ডাউনলিংক ফি বাড়ানো, এবং বিদেশী চ্যানেল লিস্টে চল্লিশের পরে রাখার যে প্রস্তাব মাননীয় অর্থ মন্ত্রী করেছিলেন সেটাকে বাস্তবায়ন করা হোক।

বাংলাদেশে হিন্দি চ্যানেলগুলোর দর্শকপ্রিয়তার কারণে বাংলাদেশের টিভি চ্যানেলগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে টেলিভিশন সংশ্লিষ্ট অনেকেই মনে করেন। কিন্তু তারা যেসব দাবি করছেন সেগুলো বর্তমানে বিশ্বায়নের যুগে কতটা যৌক্তিক? সরকার এসব দাবিকে কতটা গুরুত্ব দিচ্ছে? নাটক ও চলচ্চিত্র নির্মাতা গাজী রাকায়েত বলছিলেন, ” আমরা আসলে কোন কিছু বন্ধ করার পক্ষে না। কিন্তু আমরা যদি না খেয়ে মারা যাই, তাহলে কী করবো?”

এ সম্পর্কিত আরও

Mountain View