ঢাকা : ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৭, মঙ্গলবার, ৮:০৭ পূর্বাহ্ণ
A huge collection of 3400+ free website templates JAR theme com WP themes and more at the biggest community-driven free web design site
প্রচ্ছদ > সারাবিশ্ব > বিড়ালের মাংস বিক্রি করায় যুবক আটক!

বিড়ালের মাংস বিক্রি করায় যুবক আটক!

20161202_100329দীর্ঘদিন ধরে বিড়ালের মাংস বিক্রি করে আসছিলেন এক চীনা যুবক। সবার কাছে নিজেকে বিড়ালপ্রেমী হিসেবে প্রচার করত সে। যদিও সে তেমন নয়। একজন প্রতারক। কেননা, নিরীহ বিড়ালগুলো হত্যা করে মাংস হিসেবে রেস্টুরেন্টে বিক্রি করত ওই যুবক।

প্রতারক এই যুবকের নাম হুয়াং ফুপিং। চীনের চেংদু প্রদেশে বসবাস করে সে। প্রায় ৩০ বছর ধরে বিড়াল মেরে তার মাংস রেস্টুরেন্টে বিক্রি করত সে। সম্প্রতি পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে এই যুবককে।

বিড়ালগুলো হত্যা করে চামড়া আলাদা করে রেস্টুরেন্টে বিক্রি করত হুয়াং ফুপিং

চেংদু প্রদেশের ‘চেংদু বিজনেস ডেইলি’ নামে একটি সংবাদ মাধ্যম থেকে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে তিনি আশাপাশের বিড়াল মেরে রেস্টুরেন্টে বিক্রি করতেন। কিন্তু নিজেকে প্রচার করতেন পশুপ্রেমী বা বিড়ালপ্রেমী মানুষ হিসেবে। তাই মানুষ তাকে বিশ্বাস করতেন। সুযোগে এলাকার যত বিড়াল আছে প্রতিদিন সেগুলো সংগ্রহ করতেন এবং কিছুদিন কুটিরে পোষার পর বিক্রি করে দিতেন।

তিনি সবার সঙ্গে সুন্দর করে কথা বলতেন তাই তাকে অবিশ্বাস করার উপায় ছিল না। কারণ সে বাড়িতে শুধু বিড়াল পালনের জন্য প্রায় ৫০ স্কয়ার মিটারের একটি বিলাশবহুল রুম বানিয়েছে। সেখানে শত শত বিড়াল এসে বাস করে। মাংস বিক্রির সময় কিছু বিড়ালকে তার কসাইখানায় নিয়ে হত্যা করে এবং নাড়িভুড়ি আলাদা করে রেস্টুরেন্টে বিক্রি করেন। জানা যায়, তিনি প্রায় প্রতিদিন ১০০ বিড়ালের মাংস বিক্রি করেন।

হুয়াং ফুপিং প্রতিবেশীদের বলত তিনি বিড়াল ভালোবাসেন। তাই বাড়িতে সেগুলো লালনপালন করেন
এ কাজ তার জন্য নতুন নয়; অনেকদিন থেকে ধরে সে তা করে আসছিল। কিন্তু মানুষ কোনভাবেও জানত না। তারা তাকে বিড়ালপ্রেমী হিসেবেই মনে করত। ঘটনা প্রকাশ হয় এলাকার বিড়ালপ্রেমীদের মাধ্যমে। তারা এক সাংবাদিককে বিষয়টি জানান, চেংদুতে এক বিড়ালপ্রেমী আছেন। তখন তার অনুসন্ধান করতে যান সেই সাংবাদিক। কিছুদিন অনুসন্ধান করে ওই সাংবাদিক জানতে পারেন আসলে বিড়ালপ্রেমী নয় ওই যুবক। বরং সবার সঙ্গে প্রতারণা করে অন্য কোন কাজ করছে। তিনি যুবকের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড অনুসন্ধান শুরু করে জানতে পারেন সে বিড়াল হত্যা করে সেটার মাংস খড়গোশের মাংস বলে বিক্রি করে।

রেস্টুরেন্টে এগুলোকে খড়গোশের মাংস বলে বিক্রি করত হুয়াং ফুপিং
সংবাদ মাধ্যমটির অনুসন্ধানে আরও উঠে আসে ওই যুবকের ১০ মিটার স্কয়ার ফুটের ছোট ছোট ঘর করে বিড়াল পালন করত। বিড়ালগুলো আকারে খুবই ছোট, প্রায় ৭ থেকে ৮ ফুট। বিড়ালগুলোকে হত্যা করে নাড়িভুড়ি বের করে উপরের চামড়া তুলে ফেলে রেস্টুরেন্টে পাঠানোর ব্যবস্থা করত সে। প্রতিদিন প্রায় এক শ’র মতো বিড়াল বিক্রি করত সে। প্রতিটি বিড়ালের দাম প্রায় ২৮ থেকে ৩২ ইউয়ান যা বাংলাদেশি টাকায় ৩২০ টাকা থেকে ৩৬৫ টাকা।

গত ২৩ নভেম্বর চীনা কর্তৃপক্ষ প্রতারক যুবকের বাড়িটি তালাবদ্ধ করে খাঁচায় বন্দি থাকা বিড়ালগুলো মুক্ত করে। এ সময় রাজ্যটির ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন, পাবলিক সিকিউরিটি ব্যুরো, এনিম্যাল হাসবেন্ডারি ব্যুরোর বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

হুয়াং ফুপিংয়ের কুকর্ম চীনের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোয় ছড়িয়ে পড়লে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে বিড়ালগুলোকে উদ্ধার করেন

রাজ্যটির এ্যানিম্যাল প্রটেকশন সেন্টারের এক মুখপাত্র জানান, বিড়ালপ্রেমীদের প্রতি সাধারণ মানুষের যে ধারণা ছিল হুয়াং ফুপিং তা পরিবর্তন করে দিয়েছেন। অর্থাৎ মানুষ কল্পনাও করেননি সে পোষা প্রাণীদের উপর এমন নির্যাতন চালাতে পারে। সে মানুষের কাছে দয়ালু সেজে পশুগুলোর প্রতি নির্যাতন চালিয়েছে। আমরা আশা করি কর্তৃপক্ষ, তার সমস্ত কালোবাজারী বন্ধ করে যথাযথ শাস্তির ব্যবস্থা করবে।

মিস চেন নামে চেংদু আজিজিয়াহ এ্যানিম্যাল রেসকিউ সেন্টারের এক পরিচালক বলেন, ‘গত ২৩ নভেম্বর আমাদের জন্য এক স্মরণীয়, ব্যথা ও লজ্জার দিন। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে জানতে পেরে আমরা এক বিড়ালের কসাইখানায় গিয়েছিলাম এবং তার মালিককে গ্রেপ্তার করেছি। সেই কসাইখানাটি প্রায় ৩০ বছর ধরে চলছিল।

এ সম্পর্কিত আরও

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *