Mountain View

সরকার জিয়াউর রহমানের ‘নাম মুছে ফেলতে’ কবর সরানোর ‘নীল নকশা’ করেছে

প্রকাশিতঃ ডিসেম্বর ২, ২০১৬ at ৬:০৬ অপরাহ্ণ

images

সরকার জিয়াউর রহমানের ‘নাম মুছে ফেলতে’ তার কবর সরানোর ‘নীল নকশা’ করেছে বলে অভিযোগ করেছে বিএনপি।

দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘জিয়ার কবর সরানোর কোনো চেষ্টা দেশের মানুষ ‘মেনে নেবে না’।

স্থপতি লুই আই কানের করা জাতীয় সংসদ ভবনের মূল নকশা যুক্তরাষ্ট্র থেকে দেশে আসার পরদিন আজ (শুক্রবার) বিএনপি মহাসচিবের এই প্রতিক্রিয়া এল।

ফখরুল বলেন, “আমরা মনে করি, এটা সরকারের একটা নীল নকশার ষড়যন্ত্র। প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের নামকে মুছে ফেলা- এটাই মূল উদ্দেশ্য।”

লুই কানের নকশা ভেঙে সংসদ ভবন এলাকায় জিয়াউর রহমানের কবরসহ বেশ কয়েকটি স্থাপনা বিভিন্ন সময়ে নির্মিত হয়। মূল নকশা পাওয়ার পর সেগুলো সরানো হবে বলে জানিয়েছিলেন গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন।

‘জাতীয়তাবাদী মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্মের’ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে শুক্রবার নেতা-কর্মীদের নিয়ে শেরেবাংলা নগরে জিয়ার কবরে শ্রদ্ধা জানাতে গিয়েই সাংবাদিকদের সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলেন মির্জা ফখরুল।

সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নাম ‘দেশের মানুষের হৃদয়ে প্রোথিত হয়ে আছে’ মন্তব‌্য করে তিনি বলেন, “মাজার বলুন, পদক বলুন, অন্য কিছু বলুন, এটা এদেশের মানুষ কোনোদিনই মেনে নেবে না। সেই ধরনের কোনো হঠকারী কাজ করলে দেশের জনগণ সেটা কখনো মেনে নেবে না।”

১৯৭৫ সালের ১৫ অগাস্ট বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনের নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান খুন হওয়ার পর এক পর্যায়ে রাষ্ট্র ক্ষমতায় আসেন জিয়াউর রহমান। রাষ্ট্রপতি থাকাকালে ১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রামে সেনা সদস্যদের হাতে নিহত হন তিনি।

জিয়াকে প্রথমে চট্টগ্রামে কবর দেওয়া হলেও পরে সেখান থেকে তুলে এনে সংসদ ভবনের পাশে চন্দ্রিমা উদ্যানে সমাহিত করে কমপ্লেক্স গড়ে তোলা হয়।

সাবেক রাষ্ট্রপতি আবদুস সাত্তার, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শাহ আজিজুর রহমান ও আতাউর রহমান খান, সাবেক মন্ত্রী মশিউর রহমান যাদু মিয়া, মুসলিম লীগ নেতা খান এ সবুর, সাহিত্যিক ও সাংবাদিক আবুল মনসুর আহমদ এবং পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের স্পিকার তমিজউদ্দীন খানের কবরও রয়েছে সংসদ এলাকার মধ‌্যে।

বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধিতাকারী শাহ আজিজ ও খান এ সবুরের কবর সংসদ এলাকা সেখান থেকে সরানোর দাবি বহু দিনের।খালেদার মামলা

ফখরুল অভিযোগ করেন, বর্তমান সরকার নিজেদের ক্ষমতা টিকিয়ে রাখার জন‌্য দীর্ঘদিন ধরে ‘নীল নকশা’ বাস্তবায়ন করে চলেছে এবং সেই উদ্দেশ‌্য থেকেই বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে একের পর এক ‘মিথ‌্যা’ মামলা করা হচ্ছে।

“১/১১ তে যেমন বিরাজনীতিকরণের ষড়যন্ত্র ছিল, সেটাকে এই সরকার ধারণ করে বিরাজনীতিকরণের প্রক্রিয়া শুরু করেছে। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে রাজনীতি থেকে দূরে সরানোর চেষ্টা করছে। দেশের মানুষ তাদের সমস্ত চক্রান্ত ব্যর্থ করে দেবে।”

বর্তমান নির্বাচন কমিশন সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন করার ‘উপযুক্ত নয়’ মন্তব‌্য করে ফখরুল বলেন, এই কমিশনের অধীনে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচন সুষ্ঠু হবে বলে তারা মনে করেন না।

“তারপরও গণতন্ত্রের ধারাবাহিকতা রক্ষা ও জনগণকে সংগঠিত করতে, তাদের কাছে পৌঁছানোর জন্য আমরা এই নির্বাচনে অংশ নিচ্ছি।”

নারায়ণগঞ্জের নির্বাচনে সেনা মোতায়েনের দাবি এদিনও সাংবাদিকদের সামনে তুলে ধরেন বিএনপি মহাসচিব।

জাতীয়তাবাদী মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্মের সভানেত্রী শামা ওবায়েদ, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুস সালাম, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক জয়নাল আবেদীন, জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের সাধারণ সম্পাদক সাদেক আহমেদ খান, মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্মের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক এসএম মাহবুব আলম এ সময় ফখরুলের সঙ্গে ছিলেন।

জিয়ার কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানোর পর তারা মোনাজাতেও অংশ নেন।

১৯৯৬ সালের ১ ডিসেম্বর যাত্রা শুরু করা জাতীয়তাবাদী মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্ম এবার তাদের ২০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করছে।

এ সম্পর্কিত আরও

Mountain View