ঢাকা : ৩ ডিসেম্বর, ২০১৬, শনিবার, ৮:৩২ পূর্বাহ্ণ
সর্বশেষ
A huge collection of 3400+ free website templates JAR theme com WP themes and more at the biggest community-driven free web design site

ঘাটাইলে শিক্ষা অফিসে ঘুষ-দূর্নীতির অভিযোগ

durnitit

এম.এস.এস.সৌরভ ঘাটাইল (টাঙ্গাইল)প্রতিনিধিঃ দায়িত্বে উদাসীনতা, নিয়মিত অফিসে না আসা ও নানা অনিয়ম আর দূনীতিতে ভেস্তে যেতে বসেছে ঘাটাইল উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যক্রম । নিয়মনীতির কোন তোয়াক্কা না করে এ অফিসটিতে ঘুষ নেয়া অনেকটাই ওপেন সিক্রেটে পরিনত হয়েছে। এখানে অফিস সহকারী থেকে উপজেলা শিক্ষা অফিসার পর্যন্ত যার যার দায়িত্যে‘র মার প্যাচে ফেলে শিক্ষকদের কাছ থেকে বিভিন্ন ভাবে হাতিয়ে নিচ্ছেন হাজার হাজার টাকা ।

জানা গেছে , প্রাইমারী এডুকেশন ডেভেলমেন্ট প্রোগ্রাম (পিইডিপি -৩) নামক একটি প্রকল্পের আওতায় ২০১৫-১৬ অর্থ বছরে স্কুল সংস্কারের নামে ১২টি স্কুলে ১২ লাখ টাকা বরাদ্ধ দেয়া হয়। এ প্রকল্পে অনিয়মকে জায়েজ করার জন্য অডিটের কথা বলে উপজেলা শিক্ষা অফিসার সেলিমা আখতার প্রতিপ্রকল্প থেকে ৫ হাজার টাকা করে নিয়েছেন বলে জানাযায় । বানিয়া পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সাত্তার জানান ,তার স্কুলের সংস্কারের জন্য ১ লাখ টাকা বরাদ্দ পেয়ে কাজও করেছেন। কিন্তুু তার পরও উপজেলা শিক্ষা অফিসারকে ৫ হাজার টাকা দিতে হয়েছে ।

এ ভাবে বাগাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক হামিদ ও ইন্দারবাইদ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের কাছ থেকে একই ভাবে টাকা নেয়া হয়েছে। অপর দিকে ১৯ হাজার ৫ শ টাকা করে ঘাটাইলে ৫৭ টি স্কুলে ক্ষুদ্র মেরামত (টয়লেট মেরামত) কাজে বরাদ্দ ছিল ১১ লাখ ১১ হাজার ৫শ টাকা । চেক দেয়ার সময় প্রতি চেকের জন্য দিতে হয়েছে ৫শ টাকা করে । ক্ষুদ্র মেরামত কাজে ইঞ্জিনিয়ার অফিস থেকে প্রাক্কলন তৈরি করে কাজ করা হয় ।

ইঞ্জিনিয়ার অফিস সুষ্ঠভাবে কাজ সম্পন্ন হয়েছে মর্মে প্রত্যয়ন দেয়ার পর চেক দেয়ার নিয়ম । এক্ষেত্রেও প্রত্যয়ন পাওয়ার আগেই উপজেলা শিক্ষা অফিস থেকে চেক ৩০ টি স্কুলে চেক দেয়া হয়েছে । অথচ খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে কাজ না করলেও শিক্ষা অফিস থেকে চেক দেয়া হয়েছে । এদিকে স্কুল লেভেল ইমপ্লিমেন্টেশন প্রোগ্রাম ( স্লিপ ) প্রকল্পে ১৬৯ টি স্কুলে প্রতিটিতে ৪০হাজার টাকা করে বরাদ্দ দেয়া হয়।এতে মোট বরাদ্দ দাড়ায় ৬৭ লাখ ৬০ হাজার টাকা । এ প্রকল্পের সামান্য কাজ করে প্রধান শিক্ষক ও উপজেলা শিক্ষা অফিসারের যোগ সাজসে ভুয়া বিল ভাওচার দিয়ে সিংহ ভাগ টাকা অাত্মসাৎ করা হয়েছে বলে জানা যায় । এছাড়াও নিয়মিত অফিসে না আসা , অফিসে বসে ভিন্ন ভিন্ন তারিখ লিখে বিদ্যালয় পরিদর্শন দেখানো , মোবাইলে ভিজিট করে ঘুষ দাবি করা ও প্রতি স্কুলে সিএনজি নিয়ে ভিজিটে গিয়ে প্রত্যেক স্কুলের প্রধান শিক্ষকের কাছ থেকে ভাড়ার নাম নিয়ে ৫ শ টাকা করে নিয়ে থাকেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অপর দিকে সাবক্লাস্টার প্রশিক্ষনের নামে চলছে মিনি পিকনিক আর অর্থ আত্মসাতের মহোৎসব । সরকারী আদেশ অনুযায়ী প্রত্যেক শিক্ষকের জন্য প্রশিক্ষন উপকরন বাবদ ৩০ টাকা এবং খাওয়ার জন্য ২৪০ টাকা বরাদ্দ রয়েছে ।

সরেজমিনে ঘুরে শিক্ষকদের কাছ থেকে জানা যায় , ৫ টাকার কলম ও ৫ টাকা মুল্যের নিন্ম মানের প্যাড প্রশিক্ষন উপকরন হিসেবে দেয়া হয়। প্রতি শিক্ষককে ১০০ টাকা নগদ এবং যে বিদ্যালয় রান্নার ব্যবস্থা করে তাদের কে খাওয়া বাবদ জন প্রতি ১০০ টাকা দেয়া হয়। এতে জন প্রতি ৬০ টাকা করে কম দিয়ে বছরে কমপক্ষে ২ লাখ ৫০হাজার টাকা সহকারী শিক্ষা অফিসার শাহ আলম ও আয়েশা খাতুনসহ অন্যান্য সহকারী শিক্ষা অফিসারগন হাতিয়ে নিচ্ছে । এতে করে শিক্ষকদের দক্ষতা ও পেশাগত উন্নয়ন কার্যক্রম দারুন ভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে। এতে করে সরকারের প্রাথমিক শিক্ষা কার্যক্রম প্রকল্পে লাখ লাখ টাকা নষ্ট হচ্ছে । উপজেলা শিক্ষাকমিটির সভাপতি হচ্ছে উপজেলা চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম । তিনি জ্ঞাতসারেও বিষয় গুলো এরিয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এদিকে অফিস সহকারীদের বিরুদ্ধেও রয়েছে ঘুষ বানিজ্যের নানা অভিযোগ ।এ অফিসের অফিস সহাকারী নজরুল ইসলাম সদ্য জাতীয় বেতন স্কেলের বকেয়া বিল করতে প্রতি শিক্ষকের কাছ থেকে ৫শ থেকে ১ হাজার টাকা করে নিয়ে থাকেন । একই ভাবে চিকিৎসা ছুটি, মাতৃত্ব ছুটি , শ্রান্তি বিনোদন ছুটি করাতে ঘুষ দিতে হয় এ অফিসের অপর অফিস সহকারী মোশারফ ও লতিফুর কে ।

সার্ভিস বুক খুলতে টাকা নেয়ার অভিযোগসহ টাকা ছাড়া বকেয়া বেতন দেয়া হয়না বলেও এদের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগের দায় স্বীকার করে, ঘাটাইল উপজেলা শিক্ষা অফিসার সেলিমা আখতার বলেন ,বিভিন্ন ইউনিয়নে সহকারী শিক্ষা অফিসারগন বিদ্যালয়ের প্রকল্পের চাহিদা করে তালিকা করে থাকেন । অনিয়ম গুলো তাদের মাধ্যমে হয় ।

অনেকটা অসহায়ত্ত প্রকাশ করে তিনি বলেন , সহকারী শিক্ষা অফিসার ও অফিসটাফ দের অনেক অনিয়ম চোখে পড়লেও তাদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়া যাচ্ছে না । জানতে চাইলে ঘাটাইল উপজেলা নির্বাহী অফিসার আবুল কাশেম মুহাম্মদ শাহীন বলেন , বর্তমানে উক্ত প্রকল্প ও শিক্ষা কার্যক্রম সুষ্ঠভাবে বাস্তবায়নের চেষ্টা করা হচ্ছে । আমার যোগদানে আগের প্রকল্পগুলো সর্ম্পকে আমার তেমন জানা নেই । তবে অনিয়ম পেলে ব্যস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি ।

এ সম্পর্কিত আরও

Check Also

500x350_658a64c4b265945be1325974fb6b78e8_20_8_2

বিজয়নগরে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের ফরম পূরণে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগরে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের ফরম পূরণে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে । তাও আবার অতিরিক্ত …

Mountain View

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *