ঢাকা : ৩ ডিসেম্বর, ২০১৬, শনিবার, ৮:৩১ পূর্বাহ্ণ
সর্বশেষ
A huge collection of 3400+ free website templates JAR theme com WP themes and more at the biggest community-driven free web design site

বিপিএলে জুয়া, ৪০ ভারতীয়সহ ১০০ জুয়াড়ি আটক

bangladesh-premier-league-2016

মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়াম থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ১০০ জুয়াড়িকে আটক করেছে পুলিশ। তাদের মধ্যে প্রায় ৪০ জন ভারতীয়। তারা বিপিএল ম্যাচ চলার সময় গ্যালারিতে বসে জুয়া কার্যক্রম পরিচালনা করছিলেন। আটককৃতদের সবাইকে অবশ্য মুচলেকা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। বিশ্বস্ত সূত্র থেকে জানা গেছে এমন খবর।বিপিএলে যাতে ম্যাচ ফিক্সিং, অনৈতিক ও অসামাজিক কাজকর্ম যাতে না হতে পারে সেটা দেখভাল করার জন্য একটি বিশেষ দল গঠন করেছে বিসিবি। সেই দলের প্রখর নজরদারীর ফলে এসব জুয়াড়িদের আটক করতে সক্ষম হয়েছে পুলিশ। জুয়াড়িরা টিকেট কেটে গ্যালাইরতে বসে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে খেলা সংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য মূল জুয়ার আসরের নির্দিষ্ট প্রতিনিধির কাছে সরবরাহ করে থাকেন।

বিসিবির বিশেষ টিমের সদস্যরা পুরো গ্যালারিতে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকেন। প্রমাণ পাওয়ার পরই তারা পুলিশকে অবহিত করেন। এ পর্যন্ত ১০০ এর মতো জুয়াড়িকে আটক করা হলেও, ফের এ কাজে সম্পৃক্ত না হওয়ার শর্তে এবং পরিবারের পক্ষ থেকে গ্যারান্টি দেওয়ার পর তাদেরকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে বিদেশি জুয়াড়িদের ব্যাপারে ঢাকাস্থ তাদের দূতাবাসে জানানো হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী তাদের দেশে ফেরত পাঠানোর কথা।একটি সূত্র থেকে জানা যায়, ঢাকার চেয়ে চট্টগ্রামে জুয়াড়িদের সংখ্যা অনেক বেশি। বিপিএলে চট্টগ্রামে মাঠে উপস্থিত জুয়াড়িদের সংখ্যা দেখে নাকি বিস্মিত হয়ে যায় বিসিবির বিশেষ টিম। সংখ্যা এত বেশি যে,  তাদের সবাইকে আটক করলে গ্যালারির একটা উল্লেখযোগ্য অংশই ফাঁকা হয়ে যেত। এ কারণে চট্টগ্রাম পর্ব থেকে কাউকে আটক করেনি পুলিশ।

শুরু থেকে তেমন না জমলেও শেষ দিকে জমজমাট হয়ে উঠেছে এবারের বিপিএল। তবে শুরু থেকেই জমে ওঠে বিপিএল নিয়ে জুয়ার আসর। নগরে, শহরে, অলি-গলিতে এমনকি গ্রামে গঞ্জেও ছড়িয়ে পড়ে বিপিএল  জুয়া। এমনকি দেশের বাইরেও কোটি কোটি ডলার হাত বদল হচ্ছে বিপিএল জুয়ার মাধ্যমে।২০১২ সালে সফলভাবে প্রথম আসর শেষ হলেও দ্বিতীয় আসরে ম্যাচ ফিক্সিং কাণ্ডে ক্ষতবিক্ষত হয় বিপিএল। ম্যাচ গড়াপেটার কারণে একবছর বন্ধ থাকে বিপিএল।২০১৫ সালে তৃতীয় আসর সফলভাবে শেষ হলেও চলতি আসরে একের পর অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটছে।

যেভাবে জুয়া খেলা হয়

ম্যাচ ফিক্সিং বা স্পট ফিক্সিংয়ে জড়িত থাকেন খেলোয়াড় বা টিমের কর্মকর্তারা। খেলাধুলায় এটা শুধু নিষিদ্ধ নয়, বড় অপরাধও। কিন্তু মাঠের বাইরে ম্যাচ নিয়ে জুয়া বিশ্বের অনেক দেশেই বৈধ। সেখানে এমন জুয়া নিষিদ্ধ যেটা ম্যাচের ফলাফলে প্রভাব ফেলে থাকে।মিরপুরে যাদের আটক করা হয়েছিল তারা মূলত জুয়া সম্পাদনে লিয়াজোর ভূমিকা করে আসছিলেন।বিভিন্নভাবেই জুয়া খেলা হয়ে থাকে। যেমন ম্যাচ নিয়ে, এক ওভারে কত রান হবে, কে জিতবে, কত ব্যবধানে জিতবে ইত্যাদি। তবে ‘বল বাই বল’এগুলোর মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। এই নিয়মে প্রতি বলে কী হবে সেটা নয়ে বাজি ধরা হয়, মানে তাৎক্ষনিক বাজি। যেমন ওভারের প্রথম বলে কী হবে- চার, ছয়, দুই, এক নাকি আউট? এরপরের বলে কী হবে- এই অপশনগুলো নিয়ে বাজি ধরেন জুয়াড়িরা।

টিভি বা কম্পিউটারে সাধারণত চিত্রটা একটু পরে আসে। বা জয়ার আসরে টিভি, রেডিও নিষিদ্ধ থাকে। বাজি জেতার জন্য অনেক সুচতুর জয়াড়ি তাদের প্রতিনিধিকে টিকেট দিয়ে গ্যালারিতে পাঠান। আর এই প্রতিনিধিরাই তাৎক্ষণিক তথ্যটা পাঠিয়ে দেন মো্বাইলে। বিসিবির নজরদারি টিমের তথ্যের ভিত্তিকে প্রায় যে ১০০ জনকে আটক করেছে পুলিশ, তারা মাঠে এসে বল বাই বলের তথ্য পাচার করছিলেন।

এ সম্পর্কিত আরও

Check Also

20161202_100329

অসাধারণ ‘ডাবল’ অর্জনের সামনে তিন ইংলিশ

এমন একটি ‘ডাবল’ যেটি ক্রিকেট ইতিহাসের কোনো দেশের দুই ক্রিকেটার একই বছরে অর্জন করতে পারেননি। …

Mountain View

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *