ঢাকা : ২৪ মে, ২০১৭, বুধবার, ১০:১০ পূর্বাহ্ণ
A huge collection of 3400+ free website templates JAR theme com WP themes and more at the biggest community-driven free web design site

দেলদুয়ারে মাদকের ছড়াছড়ি ধ্বংস হচ্ছে যুবসমাজ

টাঙ্গাইল,প্রতিনিধি : টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলায় প্রায় সব ধরনের মাদক দ্রব্য অতি সহজেই পাওয়া যাচ্ছে। এক কথায় মাদকের ছড়াছড়ি চারদিকে। হাত বাড়ালেই মেলে ফেনসিডিল, হেরোইন, গাঁজা,ড্যান্ডি (এক প্রকার ইলেক্ট্রনিক্স আঠা),বাংলা মদ ও ইয়াবার মতো মাদকদ্রব্য। পুলিশ প্রশাসনের দুর্বলতার সুযোগে মাদকের রমরমা কারবার চালিয়ে যাচ্ছে মাদক কারবারিরা। এসব মাদকদ্রব্য সহজলভ্য হওয়ায় এর নেশার ফাঁদে পা দিয়ে ধ্বংস হচ্ছে এলাকার কিশোর, ছাত্র ও যুব সমাজ।

অনুসন্ধান চালিয়ে জনা গেছে, উপজেলার অন্তত ৫০ টি স্পটে বেচাকেনা চলছে এসব মাদকদ্রব্য। উল্লেখযোগ্য স্পটগুলো হচ্ছে থানার অনতিদূরে উপজেলা স্টেডিয়াম,সৈয়দ মহব্বত আলী ডিগ্রী কলেজ চত্বর, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, মাঝিপাড়া মোড়,পরিত্যাক্ত সিনেমা হল ও তার উত্তর পাশের পরিত্যাক্ত বাড়ি, আখড়া, বারপাখিয়া স্লুইসগেট, প্রয়াগজানি গুচ্ছগ্রাম। এছাড়া পাথরাইল ইউনিয়নে পুটিয়াজানি বাজার, কৈজুরী, চন্ডি, দশকিয়া,বটতলা চার রাস্তার মোড়, নলশোধা-পাথরাইল নির্জন সড়ক। আটিয়া ইউনিয়নের কলাবাগান, ছিলিমপুর বেবিস্ট্যান্ড ও বাজার, আটিয়া মাজার এলাকা, মামুদপুর পূর্ব পাড়া বেত ঝাঁড়। এলাসিন ইউনিয়নের ধলেশ্বরী ব্রিজের উত্তর পাশের ফাঁকা এলাকা, পাল পাড়া, এলাসিন বাজারের পেছনের প্লাটফর্ম, মুশুরিয়া গ্রামের বিভিন্ন স্থান। দেউলী ইউনিয়নের বেতরাইল, বাবুপুর, টেউরিয়া প্রাথমিক বিদ্যালয়।

ফাজিলহাটি ইউনিয়নের দেলুয়াকান্দি মোড়, কুমারজানি মোড়, লালহারা প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠ। লাউহাটি ইউনিয়নের সরকারি আবাসন প্রকল্প, লাউহাটি বাজারের আশপাশ। ডুবাইল ইউনিয়নের বিশ্বাস বাথুলী বাজারের পূর্ব পাশের খেলার মাঠ, নাটিয়াপাড়া বাস স্ট্যান্ড। এসব স্পটে অবাধে চলছে সর্ব প্রকার মাদকদ্রব্যের বেচাকেনা ও সেবন। খুচরা বিক্রেতাদের হাতঘুরে এসব স্পট থেকেই চলে যাচ্ছে সেবনকারীদের হাতে। এছাড়া মোটরসাইকেল যোগে ভ্রাম্যমান মাদক বিক্রেতার একটি দল পুরো উপজেলা চষে বেড়াচ্ছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক মাদক সেবী জানিয়েছে, চম্পা নামের প্রতিটি ইয়াবা ট্যাবলেট ৩০০ থেকে ৪০০, আর-৭ ইয়াবা ৫০০ থেকে ৬০০, ফেনসিডিল প্রতি বোতল ১০০০ থেকে ১২০০, হেরোইন প্রতি পুরিয়া ১৫০ থেকে ১৮০ এবং গাঁজা প্রতি পুরিয়া ৬০ থেকে ৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এসব মাদক দ্রব্যের বেশির ভাগ ক্রেতা স্কুল-কলেজের তরুণ শিক্ষার্থীরা ।

এতে লাভবান হচ্ছে মাদক ব্যবসায়ী, পুলিশ ও স্থানীয় নেতা । কিন্তু সর্বনাশ হচ্ছে কিশোর ও যুব সমাজের । যৌন উত্তেজক ট্যাবলেট খ্যাত ইয়াবা সহজ লভ্য হওয়ায় স্কুল কলেজের ছেলেরা এর প্রতি বেশি ঝুঁকে পড়ছে । ফলে এলাকায় ভাসমান পতিতার উপদ্রব বেড়েছে । দিনের বেলায়ই হাসপাতালের নতুন ভবন, স্টেডিয়ামের পশ্চিম পাশের লিচু বাগান ও সৈয়দ মহব্বত আলী ডিগ্রী কলেজের পরিত্যাক্ত টিনের ঘরে পতিতা ও খদ্দেরদের আনাগোনা পরিলক্ষিত হয় । এসব বন্ধে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে কোনো পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে না । এমনকি সামাজিকভাবেও কোনো আন্দোলন গড়ে ওঠছে না । ফলে দিন দিন বেড়েই চলেছে মাদকের ব্যাপকতা । আর এর সর্বনাশা ছোবলে ধ্বংশ হচ্ছে এলাকার কিশোর ,ছাত্র ও যুব সমাজ । এসব মাদকদ্রব্যের হাত থেকে যুব সমাজকে রক্ষা করতে সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছেন অভিভাবকসহ এলাকার সচেতন মানুষ।

এ সম্পর্কিত আরও

Best free WordPress theme

Check Also

সন্ধ্যা বেলায় কোন ধরনের কার্য গুলো নিষিদ্ধ ?

কয়েক দশক আগেও, হিন্দু পরিবার গুলোতে প্রবীণরা সন্ধ্যার নেতিবাচক প্রভাবের ব্যাপারে সচেতন ছিলেন। শাস্ত্র অনুযায়ী …

আপনার-মন্তব্য