ঢাকা : ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৭, মঙ্গলবার, ৮:৩৮ অপরাহ্ণ
A huge collection of 3400+ free website templates JAR theme com WP themes and more at the biggest community-driven free web design site
প্রচ্ছদ > রাজনীতি > ডাকসু নির্বাচনের উন্মুক্ত আলোচনা : ছাত্রদলকে-ছাত্রলীগের ধাওয়া ও মারধর

ডাকসু নির্বাচনের উন্মুক্ত আলোচনা : ছাত্রদলকে-ছাত্রলীগের ধাওয়া ও মারধর

বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের উন্মুক্ত আলোচনায় অংশ নেয়নি ছাত্রলীগ। উল্টো আলোচনায় অংশ নিতে আসা জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের ধাওয়া দিয়ে বের করে দিয়েছে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা।

বৃহস্পতিবার দুপুরে ডাকসু ভবন ও মধুর ক্যানটিনের মাঝামাঝি স্থানে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের পূর্বঘোষিত উন্মুক্ত আলোচনা ছিল। সেখানে ছাত্রশিবির ছাড়া সব সংগঠনের প্রতিনিধিদের আমন্ত্রণ জানানো হয়।

আমন্ত্রণে সাড়া দিয়ে বেলা ১১টার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি আল মেহেদী তালুকদার ও সাধারণ সম্পাদক আবুল বাশার সিদ্দিকীর নেতৃত্বে ৫০-৬০ জন নেতা-কর্মী ডাকসু ভবনের সামনে আসেন। তাঁরা আলোচনা শুরু হওয়ার অপেক্ষা করছিলেন।

একপর্যায়ে দুপুর পৌনে ১২টার দিকে মধুর ক্যানটিন থেকে ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতা-কর্মী এসে তাঁদের সঙ্গে কথা বলেন। পরে বিশ্ববিদ্যালয় গ্রন্থাগার থেকে আরও নেতা-কর্মী এসে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের ধাওয়া দেন। তাঁদের কয়েকজনের হাতে লাঠিসোঁটা ছিল বলে একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী নিশ্চিত করেছেন।

ধাওয়ার পর ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা চারুকলা অনুষদের সামনে দিয়ে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের ভেতরে ঢুকে যান। কয়েকজন শাহবাগ দিয়ে পালিয়ে যান। এসময় ছবির হাটের সামনে মুহসীন হল শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ওমর ফারুককে মারধর করেন ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা।

পরে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি আবিদ আল হাসানের নেতৃত্বে মধুর ক্যানটিনে ফিরে আসেন। তবে তাঁর পাশে উন্মুক্ত আলোচনা শুরু হলেও তাঁরা এতে যোগ দেননি।

ছাত্রদলের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক আবুল বাশার সিদ্দিকী বলেন, ‌‘ডাকসুর দাবিতে সাধারণ শিক্ষার্থীদের আয়োজিত উন্মুক্ত আলোচনায় যোগ দিতে আমরা ক্যাম্পাসে যাই। কিন্তু ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা অস্ত্র নিয়ে আমাদের ওপর হামলা করে ও ধাওয়া দেয়।’

এ বিষয়ে ছাত্রলীগের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি আবিদ আল হাসান বলেন, তাঁরা ক্যাম্পাসে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে চেয়েছিল বলে তাদের ধাওয়া দেওয়া হয়েছে। অতীতেও তারা পেট্রলবোমা মেরে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করেছে। আর যারা ক্যাম্পাসে এসেছিল, তারা সবাই অছাত্র।

উন্মুক্ত আলোচনায় অংশ না নেওয়ার বিষয়ে আবিদ আল হাসান বলেন, এমন কোনো আলোচনার আমন্ত্রণ তাঁরা পাননি। আর যাঁরা আয়োজন করেছেন, তাঁদের কাউকে তিনি চেনেন না।

ডাকসুর দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের অন্যতম সমন্বয়কারী মাসুদ আল মাহদী বলেন, ছাত্রশিবির ছাড়া সব কটি সংগঠনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। সকালে আলোচনা শুরুর আগে তাঁদের পুনরায় ফোন করা হয়েছে। কিন্তু তাঁরা কেউ আলোচনায় যোগ দেননি।

মাসুদ আল মাহদী বলেন, ছাত্রদলের তিনজন প্রতিনিধিকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। কিন্তু তাঁরা অনেক নেতা-কর্মী নিয়ে শোডাউনের মতো করে উপস্থিত হন। যেটা উচিত হয়নি। আর যেহেতু সাধারণ শিক্ষার্থীদের আমন্ত্রণে তাঁরা এসেছেন, ছাত্রলীগ তাঁদের ধাওয়া করেও ঠিক করেনি। এর মাধ্যমে প্রমাণিত হয়, তাঁরা মুখে ডাকসু নির্বাচনের দাবি করলেও আসলে নির্বাচন চায় না।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আবুল বাশার সিদ্দিকী দাবি করেন, তাঁরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের নিয়েই অনুষ্ঠানে যোগ দিতে এসেছিলেন। আলোচনায় তিনজন অংশ নেবেন বলে ঠিক হয়েছিল। কিন্তু ছাত্রলীগ নেতারা তাঁদের ধাওয়া করেন।

তিনি বলেন, ‘আমরা সব সময় চাই ডাকসু নির্বাচন হোক। কিন্তু ছাত্রলীগ সেটা কখনোই চায়নি। তারা বিশ্ববিদ্যালয়ে একক আধিপত্য নিয়ে আছে। আবারও প্রমাণ করেছে যে তারা সাধারণ শিক্ষার্থীদের পক্ষে কখনো ছিল না।’

এ প্রসঙ্গে আবিদ আল হাসান বলেন, ‘আমরা সব সময় চাই ডাকসু নির্বাচন। কিন্তু এটা আমাদের আয়োজনের বিষয় নয়। প্রশাসন আয়োজন করলে আমরা অংশ নেব। আর আমরা দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই সাধারণ শিক্ষার্থীদের খাবারের সমস্যা, যাতায়াত সমস্যাসহ সব বিষয়ে ডাকসুর ভূমিকা পালন করছি।’

উন্মুক্ত আলোচনায় অংশ নিয়ে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন, বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশনের দুই অংশ, বাসদ (খালেকুজ্জামান) সমর্থিত সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট, বাসদ (মার্ক্সবাদী) সমর্থিত সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার নেতাসহ বিভিন্ন বিভাগের কয়েকজন শিক্ষার্থী তাঁদের মতামত দেন। – bd24live

এ সম্পর্কিত আরও

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *