Mountain View

দেখে নিন আজকের বাজার দর

প্রকাশিতঃ আগস্ট ১০, ২০১৭ at ৪:২৭ অপরাহ্ণ

সরু চাল পাওয়া যাচ্ছে প্রতি কেজি ৫২-৫৬ টাকা, নাজির/মিনিকেট একটু ভাল মানেরটা ৫৪-৫৬ টাকা। মাঝারী চাল প্রতি কেজি ৪৮-৫২ টাকা, পাইজাম/লতা একটু ভাল মানেরটা পাওয়া যাচ্ছে ৫০-৫২ টাকা। অন্যদিকে মোটা চাল পাওয়া যাচ্ছে প্রতি কেজি ৪৫-৪৬ টাকা করে। আটা প্রতি কেজি ৬২-৭০ টাকা এবং ময়দা পাওয়া যাচ্ছে ৪০-৪২ টাকা প্রতি কেজি দরে। সয়াবিন তেল প্রতি লিটার খোলা ৮৬-৮৮ টাকা; এবং বোতলে ১০৫-১০৭ টাকা।

পাঁচ লিটারের সয়াবিন তেলের বোতল বিক্রি হচ্ছে ৪৯০-৫৩০ টাকায়। অন্যদিকে পাম তেলের দাম লিটার প্রতি ৭০-৭৫ টাকা দরে বিকোচ্ছে। মসুর ডাল প্রতি কেজি ৯০-১২০ টাকা, মুগ ডাল ১৩৫-১৪০ টাকা কেজি প্রতি। অ্যাংকর ডাল প্রতি কেজি ৪৫-৬০ টাকা, ছোলা মানভেদে প্রতি কেজি ৮৫-১০০ টাকা। অন্যদিকে আলু বিক্রি হচ্ছে ১৫-২০ টাকা কেজি দরে। চিনি ৭০-৭৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি; এবং খেজুর পাওয়া যাচ্ছে ১২০-২৫০ টাকা কেজি দরে।

এছাড়া মাছের মধ্যে রুই প্রতি কেজি ২০০-৩০০ টাকা এবং ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ৭০০-১২০০ টাকা দরে। এছাড়া ব্রয়লার মুরগী ১৪৫-১৫৫ টাকা প্রতি কেজি এবং দেশী মুরগী ৩৭০-৪০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। গরুর মাংস ৪৮০-৫২০ টাকা এবং খাসির মাংস ৬৫০-৭৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি।

 

সরকারের পক্ষ থেকে নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে হুশিয়ারি দেয়া হলেও নেই কার্যকর ব্যবস্থা। এক শ্রেণীর অসাধু ও সিন্ডিকেট ব্যবসায়ীদের কারসাজির কারণে বাজার নিয়ন্ত্রণহীন। আর ভোগান্তিতে সাধারণ মানুষ।

রাজধানীর রামপুরা, মালিবাগ, সেগুনবাগিচা, কাপ্তানসহ কয়েকটি বাজারে গিয়ে দেখা গেছে, প্রতি কেজি ছোলা বিক্রি হচ্ছে ৯৫ টাকা থেকে ১০০ টাকায়। গত এক সপ্তাহ আগে এসব ছোলা বিক্রি হতো ৭৫ থেকে ৮০ টাকায়। অর্থাৎ সপ্তাহের ব্যবধানে ছোলার দাম বেড়েছে প্রায় ২৫ টাকা।

ছোলার সঙ্গে মসুর ডালের দামও বেড়েছে। খুচরা বাজারে দেশি মসুর ডাল মানভেদে ১২০ টাকা থেকে ১৬০ টাকায়, অস্টেলিয়ার নিম্ন মানের মসুর ১০৫ থেকে ১১৫ টাকা, তুরস্ক থেকে আমদানি করা মোটা দানার ডাল ১১০ থেকে ১২০ টাকা, নেপালি মসুর ডাল ১৪৫ থেকে ১৫৫ টাকা এবং দেশি হাইব্রিড মসুর ডাল ১১০ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

এক সপ্তাহের ব্যবধানে সব ধরনের মসুর ডাল ৫ থেকে ১০ টাকা বেড়েছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। এছাড়াও খেসারি ৭০ থেকে ৮০ টাকা, ডাবলী (অ্যাঙ্কর) ৪৪ থেকে ৫০ টাকা, মুগ ডাল দেশি সবচেয়ে ভাল মানের ১২০ টাকা থেকে ১৩০ টাকা, হাইব্রিড ৭০ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

টিসিবির তথ্য মতে, বুধবার বাজারে প্রতিকেজি ছোলা ৮৫ টাকা থেকে ৮৮ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। যা এক সপ্তাহ আগে ৭৮ থেকে ৮৪ টাকায় এবং এক মাস আগে ৭৬ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি হতো।

সংস্থাটির হিসেব মতে, এক মাসের ব্যবধানে ছোলার দাম বেড়েছে ১০ টাকা ৯০ পয়সা। এছাড়াও খেসারি ৭০ টাকা থেকে ৭১ টাকা, ডাবলী (অ্যাঙ্কর) ৪০ থেকে ৪৬ টাকা, মুগ ডাল মান ভেদে ১০০ টাকা থেকে ১২০ টাকা।

এদিকে পুরান ঢাকার রহমতগঞ্জের ডাল পট্রির পাইকারী বাজারে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রতিকেজি ছোলা পাইকারী বিক্রি হচ্ছে ৭৭ কে ৮০ টাকা এবং ভালো মানের বার্মার ছোলা বিক্রি হচ্ছে ৮৮ থেকে ৯০ টাকায়। এছাড়া যে মসুর ডাল পাইকারী বাজারে ১২২ টাকা থেকে ১৩৭ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এক মাস আগে মসুর ডাল বিক্রি হয়েছে ১০৫ থেকে ১১০ টাকায়। ভালো মানের দেশি মসুর ১৩৭ থেকে ১৩৮ টাকা, দেশি হাইব্রিড ১০৫ থেকে ১০৮ টাকা, অস্ট্রেলিয়ার নিম্ন মানের মসুরি ৯৫ থেকে ৯৮ টাকা, খেসারী ৭০ টাকা থেকে ৭২ টাকা, ডাবলী (অ্যাঙ্কর) ৪০ টাকা থেকে ৪২ টাকা, মুগ ডাল দেশি সবচেয়ে ভাল মানের ৯৫ থেকে ১০০ টাকা, হাইব্রিড ৬৩ থেকে ৬৬ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

বাংলাদেশ ডাল ব্যবসায়ী সমিতির সহ-সভাপতি ও সুমন ডাল মিলের সত্ত্বাধীকারী নেসার উদ্দিন খান জানান, প্রতিবছরই রমজানের এক মাস আগে ছোলাসহ ডালে দাম বেড়ে যায়। যার মূল কারণ এ সময়ে চাহিদা বেশি থাকে। কিন্তু এ বছর ডালের দাম তুলনামূলক বেশি বেড়েছে। এর মূল কারণ উৎপাদন কম ও বিশ্ব বাজারে দাম বেশি।

তিনি বলেন, ছোলা, মসুরসহ বেশিরভাগ ডাল আমাদের আমদানি করতে হয়। আর এর সিংহভাগ আসে অস্ট্রেলিয়া থেকে। অস্ট্রেলিয়ার বাজারে দাম বেশি থাকার কারণে দেশের বাজারে দাম বাড়ছে।

পাইকাররা মজুদ করে পণ্যের দাম বাড়িয়ে দিচ্ছে খুচরা ব্যবসায়ীদের এমন অভিযোগের উত্তরে নেসার উদ্দিন খান বলেন, আসলে দাম বাড়া কমার সঙ্গে পাইকারী ব্যবসায়ীদের তেমন কোনো সম্পর্ক নেই। দাম উঠানামার পেছনে সরাসরি আমদানিকারকরা জড়িত। যখন পণ্যের চাহিদা বাড়ে তখন বিক্রি না করে দাম বাড়িয়ে দেয়া হয়। হাজার হাজার টন পণ্য তাদের গুদামে পড়ে থাকে আর আমরা (পাইকাররা) কিনতে গেলে বলে পণ্য নেই। ফলে নিয়ন্ত্রণহীনভাবে দাম বাড়ছে। এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়ার কেউ নেই।

পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণ সম্পর্কে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, যদি ছোলাসহ রমজানে নিত্যপণ্যের বাজার নিয়ন্ত্রণ ও সহনশীল রাখতে হয় তাহলে সরকারের ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশকে (টিসিবি) পুরোপুরি কার্যকর করতে হবে। টিসিবিকে অকার্যকর রেখে বাজারে পণ্যের দর সহনশীল পর্যায়ে আনা সম্ভব হবে না। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে পণ্যের দাম সহনশীল রাখতে, বাজার স্থিতিশীলতায় টিসিবির মতো সংস্থা কাজ করে থাকে। তারা প্রতি বছর বিভিন্ন পণ্য কম দামে কিনে মজুদ করে রাখে এবং দাম বা চাহিদা বাড়লে তা সরবরাহ করে।

এ সম্পর্কিত আরও

no posts found

কৃষি, অর্থ ও বাণিজ্য এর সর্বশেষ খবর

no posts found
  • কৃষি, অর্থ ও বাণিজ্য - এর সব খবর →
  • Mountain View