একথা স্বীকার করতেই হবে যে কেবল রন্ধনশিল্পীরা নন, অসংখ্য সাধারণ নারী-পুরুষের রান্নার প্রেরণা সিদ্দিকা কবীর আপা। তিনি গত হয়েছেন পেরিয়ে গেছে বেশ কতগুলো বছর, কিন্তু এতটুকুন ম্লান হয়নি তাঁর জনপ্রিয়তা। বাংলাদেশের রন্ধনশিল্পের ইতিহাসে চিরকালের জন্য অমর হয়ে আছে তাঁর নামটি।
তাঁরই রেসিপি অনুসরণ করে আরেক রন্ধনশিল্পী সুমনা সুমি তৈরি করেছেন আস্ত ইলিশের কাবাব। স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে সুমি বলেন, ‘ছোটবেলা থেকে বাসায় কোন বিশেষ মেহমানদারীতে আম্মু এইটা বানাত আর আমি অবাক হয়ে ,খুব মজা করে খেতাম। আমাদের মত কত রমণীদের রান্নার আইডল সিদ্দিকা ম্যামকে আল্লাহ জান্নাতবাসী করুন।’
চলুন, জেনে নিই তাঁর রেসিপিটি।
উপকরণ
আস্ত ইলিশ মাছ- ১টি (৯০০-১০০০)গ্রাম
আলু সেদ্ধ- ১কাপ (ভর্তা করে নেয়া)
বিস্কুটের গুঁড়ো- ১কাপ
পেঁয়াজ বেরেস্তা- ১/২কাপ
লেবুর রস- ১টেবিল চামচ
টমেটো সস- ২ টেবিল চামচ
লেবুর খোসা মিহি কুচি- ১ টেবিল চামচ
মরিচের গুঁড়ো- ১ চা চামচ
লবণ পরিমান মত
চিনি- ১ চা চামচ
কাচামরিচ কুচি- ১ টেবিল চামচ
ধনেপাতা কুচি- ২ টেবিল চামচ
ঘি বা তেল- ২ টেবিল চামচ
প্রনালি
-মাছের মাথা ও লেজ কেটে নিন। পেট থেকে ময়লা বের করে ধুয়ে নিন।
-একটি পাতিলে পানি ও লবণের সাথে মাছ দিয়ে মাঝারি আঁচে ৩০ মিনিট সেদ্ধ করুন(এই পানিটা ইলিশের স্টক, তাই চাইলে এটাকে অন্য কাজে ব্যবহার করতে পারেন )।পানি থেকে মাছ তুলে নিন। মাছ ঠান্ডা করে কাটা ছাড়িয়ে নিন।
-ফ্রাইপ্যানে তেল দিয়ে একটু হলুদ- লবণ মাখিয়ে মাছের মাথা ও লেজ ভেজে নিন।
-প্যানে একটু তেল দিয়ে অল্প আঁচে বিস্কুটের গুঁড়ো বাদামি করে ভেজে তুলে রাখুন।
-এখন মাছের সাথে ১/২ কাপ ভাজা বিস্কুটের গুড়ো ও ঘি বাদে বাকি সব উপকরণ নিয়ে ভাল করে মিশিয়ে নিন।
-ফ্রাইপ্যানে ঘি দিয়ে মাছের মিশ্রন দিয়ে বাদামি করে ভাজুন। অনবরত নাড়তে হবে।
-সার্ভিং ডিশে মাথা ও লেজ বিছিয়ে মাঝখানে কাবাব দিয়ে মাছের শেইপ করে নিন। পরে তুলে রাখা বিস্কুটের গুঁড়ো দিয়ে সাজিয়ে নিন। চামচ দিয়ে মাছের আইশের আকারে ডিজাইন করতে পারেন।
-চাকু দিয়ে কেটে পিস করে নিন।গরম পোলাও বা ভাত এর সাথে পরিবেশন করুন।