Mountain View

সিলেটে কারা হচ্ছেন ‘নৌকার মাঝি’?

প্রকাশিতঃ আগস্ট ১৬, ২০১৭ at ৬:১৬ অপরাহ্ণ

সারা দেশের ন্যায় সিলেটেও আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। জাতীয় নির্বাচনে আত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই জেলার ৬টি আসনে যোগ্য প্রার্থীর সন্ধানে রয়েছে কেন্দ্র। আর এসব আসনে বর্তমান ও সাবেক কয়েকজন সংসদ সদস্যের পাশাপাশি মনোনয়ন পেতে জোর লবিং করেছেন কয়েকজন তরুণ নেতাও। সব মিলিয়ে সিলেটের ৬টি আসনে মনোনয়ন দৌড়ে রয়েছেন আওয়ামী লীগের ১৭ নেতা।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ইতোমেধ্য দলের অভ্যন্তরে প্রার্থী বাছাই পক্রিয়া শুরু হয়েছে। কেন্দ্র থেকে খোঁজা হচ্ছে ক্লিন ইমেজধারী প্রার্থী, যার ধারাবাহিকতায় দলটির হাইকমান্ড বিভিন্ন মাধ্যমে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের তথ্য সংগ্রহ করছে। পাশাপাশি বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা ও সাংগঠনিক জরিপের মাধ্যমেও তাদের আমলনামা নেয়া হচ্ছে। সম্ভাব্য প্রার্থীরাও মনোনয়ন পেতে নানান কৌশলে তৎপরতা চালাচ্ছেন।

তবে ৬টি আসনেই যে আওয়ামী লীগ প্রার্থী দেবে তা এখনই ঠিক করে বলা যাচ্ছে না। কারণ গত নির্বাচনে ২টি আসন জোটের শরিক জাতীয় পার্টিকে ছেড়ে দিয়েছিল দলটি। গত নির্বাচনের ন্যায় আগামী একাদশ সংসদ নির্বাচনেও যে এর ব্যতিক্রম হবে না, এরই মধ্যে তার আভাস পাওয়া যাচ্ছে।

সিলেট ১ :

সদর ও সিটি করপোরেশনের একাংশ নিয়ে গঠিত সিলেট-১ আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। তবে ভবিষ্যতে আর নির্বাচন না করার ঘোষণা দিয়েছেন ৮৬ বছর বয়সী এই প্রবীণ রাজনীতিক। তবে তিনি এও ঘোষণা দিয়েছেন বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া যদি এই আসনটিতে নির্বাচন করেন তবে তিনিও প্রার্থী হবে। না হলে তার ভাই জাতিসংঘে বাংলাদেশের সাবেক স্থায়ী প্রতিনিধি ড. এ কে আবদুল মোমেন এই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন বলেও তিনি জানিয়েছেন। এরপর থেকে ড. মোমেন পুরোদমে দলীয় রাজনীতিতে সক্রিয় হয়ে ওঠেন।

তবে মোমেনকে ফাঁকা মাঠ দিচ্ছেন না আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ।

ছাত্র রাজনীতির ধাপ বেয়ে উঠে আসা এ নেতা চলতি বছরে বিভিন্ন জনসভায় সিলেট-১ আসনে নির্বাচন করার আগ্রহ ব্যক্ত করেছেন। এ ছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ফরাস উদ্দিনও এ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হতে পারেন বলে শোনা যাচ্ছে।

সিলেট ২ :

সিলেট-২ (বালাগঞ্জ-বিশ্বনাথ-ওসমানীনগর) আসনে শুরু হয়ে গেছে একাদশ জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতি। গত নির্বাচনে এ আসনটি জাতীয় পার্টিকে ছেড়ে দেয় আওয়ামী লীগ। ফলে এই আসন থেকে জাপার প্রার্থী ইয়াহইয়া চৌধুরী এহিয়া সাংসদ নির্বাচিত হন। রাজনৈতিক অভিজ্ঞ মহলের ধারণা এবারো হয়তো এর ব্যতিক্রম হবে না। যদি হয়ে থাকে তবে এই আসনটিতে দলীয় মনোনয় চান দুই ‘চৌধুরী’।

আর মনোনয়ন প্রত্যাশী এই দুই ‘চৌধুরী’কে নিয়েই এখন আলোচনা রয়েছে দলটির মধ্যে। এদের একজন সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শফিকুর রহমান চৌধুরী। অন্যজন যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী। তিনি যুক্তরাজ্যে বসবাসরত বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ রেহানার অত্যন্ত কাছের মানুষ হিসেবে পরিচিত।

সিলেট ৩ :

দক্ষিণ সুরমা-ফেঞ্চুগঞ্জ ও বালাগঞ্জের একাংশ নিয়ে গঠিত সিলেট-৩ আসন। দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসনে ভোট ছাড়াই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় দ্বিতীয়বারের মতো সাংসদ নির্বাচিত হন মাহমুদ উস সামাদ। তিনি এবারও আওয়ামী লীগের প্রার্থী হতে চান।

কিন্তু মনোনয়ন লড়াইয়ে তাকে চ্যালেঞ্জে ফেলতে পারেন যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের ত্রাণ বিষয়ক সম্পাদক হাবিবুর রহমান হাবিব ও সুপ্রিম কোর্টের সহকারী এটর্নি জেনারেল আব্দুর রকিব মন্টু। দীর্ঘদিন ধরে এই দুইজন এলাকায় এসে কাজ করছেন।

তাছাড়াও এ আসনে মনোনয়ন চাইবেন বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক (ময়মনসিংহ বিভাগ) অ্যাডভোকেট মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ, তিনি সিলেট-১ আসনেও প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়ে রেখেছেন।

সিলেট ৪:

জৈন্তাপুর-গোয়াইনঘাট ও কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা নিয়ে গঠিত এই সংসদীয় আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ইমরান আহমদ। গত নির্বাচনে তিনি দলটির বিদ্রোহী প্রার্থী প্রবাসী আওয়ামী লীগ নেতা ফারুক আহমদকে হারিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি এবার দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী। তবে মনোনয়ন পাওয়ার জন্য ইমরানকে এবার অন্তত দু‘জন শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বীর মোকাবিলা করতে হবে।

ফারুক আহমদ ছাড়াও গোয়াইনঘাট ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ আওয়ামী লীগ নেতা মো. ফজলুল হক নির্বাচনে অংশ নিতে প্রস্তুতি নিচ্ছেন। অধ্যক্ষ ফজলুল হক গত নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন চেয়েছিলেন, কিন্তু পাননি। আর ফারুক মনোনয়ন না পেয়ে দলের উপর অভিমান করে বিদ্রোহী হয়ে নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন।

সিলেট ৫ :

জকিগঞ্জ ও কানাইঘাট উপজেলা নিয়ে গঠিত সিলেট-৫ আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য সেলিম উদ্দিন আহমদ। এবারো হয়তো জোটের শরিক হিসেবে আবারো জাপাকে এই আসন ছেড়ে দিতে পারে আওয়ামী লীগ। যদি এর ব্যত্যয় ঘটে তবে এই আসন থেকে দলটির মনোনয়ন চান দুই নেতা। এর মধ্যে একজন সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা মাসুক উদ্দিন আহমদ। তিনি দশম নির্বাচনে মনোনয়ন পেলেও দলের হাইকমান্ডের নির্দেশে মনোনয়ন প্রত্যাহার করে মহাজোটের প্রার্থীকে আসন ছেড়ে দেন।

দলীয় সূত্রমতে, আসনটি জাপাকে ছেড়ে না দিলে মাসুক উদ্দিন আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাচ্ছেন, এটা প্রায় নিশ্চিত। তবে এ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হতে চেষ্টা চালাচ্ছেন যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য আহমদ আল কবির। দুজনেই নির্বাচনী এলাকার মানুষের সাথে সম্পর্ক নিবিড় রাখার চেষ্টা করছেন।

সিলেট ৬:

গোলাপগঞ্জ ও বিয়ানীবাজর উপজেলা নিয়ে গঠিত সিলেট-৬ আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। এবারও দলটির মনোনয়ন প্রত্যাশী তিনি।

তবে এই আওয়ামী লীগের আরও দুই নেতা নির্বাচন করেত আগ্রহী। নাহিদের পাশাপাশি নৌকার মনোনয়ন পেতে মাঠে রয়েছেন কানাডা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি সারওয়ার হোসেন ও যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুল হাসিব মামুন।

এ সম্পর্কিত আরও

Mountain View