Mountain View

আবারো মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে নব্য জেএমবি

প্রকাশিতঃ আগস্ট ১৭, ২০১৭ at ১:৫৮ অপরাহ্ণ


প্রথমবার ২০০১ সাল। পরে আবার ২০১৩ সালের পর দেশে জঙ্গিবাদ মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে। বেড়েছে জঙ্গি হামলার সংখ্যাও। সম্প্রতি জেএমবি’র শক্তি কমলেও গত কয়েক বছরে উত্থান হয় নব্য জেএমবি’র। এজন্য রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতা, বিচারে ধীরগতি ও রাজনীতিতে ধর্মের ব্যবহারকে দায়ী করছেন অপরাধ বিশ্লেষকরা।

২০০৫ সালের ১৭ই আগস্ট দেশে ইসলাম কায়েমের নামে ৬৩ টি জেলায় বোমা বিস্ফোরণ ঘটিয়ে প্রকাশ্যে আসে নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জামায়াতুল মুজাহেদিন বাংলাদেশ -জেএমবি। সে ঘটনায় সারাদেশে ১৬০ টি মামলা হলেও এখনো ঝুলে আছে ৫১টি মামলা।

এছাড়া ২০০৪ সালের ২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলা ও সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এম এস কিবরিয়া হত্যা মামলার বিচার ঝুলে আছে বছরের পর বছর। পুলিশের তথ্য বলছে, গত ১৮ বছরে ৮শ ৭৯টি মামলা করা হলেও বিচার সম্পন্ন হয়েছে মাত্র ১১৩টির।

অপরাধ বিজ্ঞানী অধ্যাপক শেখ হাফিজুর রহমান কার্জন বলেন, ‘বিদ্যমান যে বিচারিক ব্যবস্থা এটা যথেষ্ঠ সক্শম না।’

জঙ্গি সংশ্লিষ্ট এসব মামলার দীর্ঘসূত্রিতার জন্য সাক্ষী হাজিরে সমস্যার কথা বলেলেও, বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, মামলা পরিচালনার সব পর্যায়েই অভিজ্ঞতার ঘটাতির কারণেই এই দীর্ঘসূত্রিতা।

অপরাধ বিশ্লেষকরা বলছেন, ২০০৭ এর পর প্রশাসনের তৎপরতায় জঙ্গি তৎপরতা কমে আসলেও ২০১৩ সালের পর নতুন করে জঙ্গিদের উত্থাণ ঘটে। এপুলিশের তথ্য মতে, ১৯৯৯ , ২০০৪ , ২০০৫ , ২০০৬ এর পর ২০১৫ ও ২০১৬ সালে জঙ্গি সংশ্লিষ্ট মামলা হয় সবচেয়ে বেশি।

এই সময় হলি আর্টিজেন, মিরপুরের রুপনগর ও সিলেটের শিববাড়ির আতিয়া মহল, শোলাকিয়ায় ঈদের জামাতসহ বিভিন্ন জায়গায় আত্মঘাতি হামলা চালায় জঙ্গিরা। এর জন্য, রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতাকে দায়ী করছেন সংশ্লিষ্টরা।

কাউন্টার টেররিজম ইউনিট অতিরিক্ত কমিশনার মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাসবাদ, এগুলো অপরাজনীতির একটি অংশ। হলি আর্টিজান হামলা আমরা ঠেকাতে পারিনি। কিন্তু এখন আমরা আমাদের সক্ষমতা বৃদ্ধি করেছি।’

এরই মধ্যে শীর্ষ জঙ্গি নেতা শায়খ আব্দুর রহমান, সিদ্দিকুল ইসলাম বাংলাভাই ও মুফতি হান্নানসহ বেশ কয়েকজনকে ফাঁসিতে ঝুলানো হলেও এসব মামলার দ্রুত নিস্পত্তির জন্য প্রশাসনিক জটিলতা কাটিয়ে বিশেষ আদালত গঠন প্রয়োজন বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

এ সম্পর্কিত আরও

Mountain View