ঢাকা : ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৭, বুধবার, ২:০৬ পূর্বাহ্ণ
A huge collection of 3400+ free website templates JAR theme com WP themes and more at the biggest community-driven free web design site
প্রচ্ছদ > খেলাধুলা > বাংলাদেশের ক্রিকেটে তোলপাড় ফেলেছিল যে ৫ ঘটনা!

বাংলাদেশের ক্রিকেটে তোলপাড় ফেলেছিল যে ৫ ঘটনা!

দারুণ হইচই তৈরি হয়েছিল অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট সিরিজের দল থেকে মুমিনুল হকের বাদ পড়া নিয়ে। এন্তার বিতর্ক নির্বাচকদের এই সিদ্ধান্ত নিয়ে চলছে। ইতিহাসের পাতা উল্টে এমন ৫টি ঘটনার দিকে একটু দৃষ্টি ফেরানো যাক

ফারুক আহমেদ অধিনায়ক হয়েছিলেন বিতর্কের মধ্য দিয়ে। ফাইল ছবিফারুক আহমেদের অধিনায়কত্ব
১৯৯৩ সালের ঘটনা এটি। বাংলাদেশ তখন প্রস্তুত হচ্ছে কেনিয়ায় আইসিসি ট্রফি খেলতে যাওয়ার। সেবার আইসিসি ট্রফি বিরাট এক সুযোগ হয়ে এসেছিল বাংলাদেশের সামনে। শীর্ষ তিন দলের মধ্যে থাকলেই ১৯৯৬ সালে উপমহাদেশে অনুষ্ঠেয় বিশ্বকাপ—সমীকরণটা ছিল এমনই। হল্যান্ডে আগের আসরেই (১৯৯০) সেমিফাইনালে খেলা বাংলাদেশ বিশ্বকাপে খেলা নিয়ে আত্মবিশ্বাসীও ছিল। প্রস্তুতিতে কোনো ফাঁক রাখতে চায়নি তৎকালীন ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ড (বিসিসিবি)। কোচ হিসেবে ভারত থেকে নিয়ে আসা হয়েছিল সাবেক টেস্ট ক্রিকেটার মহিন্দর অমরনাথকে। মিনহাজুল আবেদীন নান্নু তখন বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের নেতা। দলে থাকলে অধিনায়কত্ব তিনিই করবেন—ব্যাপারটা ছিল অনেকটা এমনই। দলের অন্যতম সেরা খেলোয়াড়ও ছিলেন তিনি। কিন্তু অমরনাথের সঙ্গে সম্পর্কটা তাঁর খুব ভালো ছিল না বলে সে সময় খবর প্রকাশিত হয়েছিল। হঠাৎ করেই অধিনায়কত্ব হারান মিনহাজুল। দায়িত্ব দেওয়া হয় ফারুক আহমেদকে। ফারুকেরও ক্রিকেটীয় মস্তিষ্ক ছিল দুর্দান্ত, ঘরোয়া ক্রিকেটে আবাহনীর অধিনায়কত্ব করার অভিজ্ঞতা থাকার পরেও তাঁর নিয়োগ ছিল বিতর্কিত। ব্যাপক সমালোচনাও হয়েছিল। পরে কেনিয়ার আইসিসি ট্রফিতে ব্যর্থতার পর অধিনায়কত্ব হারিয়েছিলেন ফারুক।

মিনহাজুলকে বিশ্বকাপ দল থেকে বাদ দিয়েছিলেন নির্বাচকেরা। ফাইল ছবি’৯৯ বিশ্বকাপ দল নিয়ে তোলপাড়
১৯৯৯ সালে বাংলাদেশের প্রথম বিশ্বকাপের জন্য ৩০ জনের যে প্রাথমিক স্কোয়াড ঘোষিত হয়েছিল, সেখান থেকে বাদ পড়েছিলেন আতহার আলী খান। অথচ ১৯৯৭ আইসিসি ট্রফি জয়ের পরের দুই বছর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সবচেয়ে সফল ব্যাটসম্যান ছিলেন তিনি। ব্যাপারটা নিয়ে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েন নির্বাচকেরা। আতহারের প্রাথমিক স্কোয়াড থেকে বাদ পড়া যদি ক্রিকেটপ্রেমীদের জন্য বিস্ময়কর হয়, তাহলে ভয়াবহ ধাক্কা অপেক্ষা করছিল চূড়ান্ত স্কোয়াড ঘোষণার সময়। বিশ্বকাপের ঠিক আগে দিয়ে ১৫ জনের দল থেকে বাদ পড়েন মিনহাজুল আবেদীন। সারা দেশে শুরু হয় তোলপাড়। ব্যাপারটা গড়ায় সরকারের ওপরের মহলেও। আইসিসির ডেডলাইন পার হয়ে যাওয়ার পরেও সরকারি হস্তক্ষেপে মিনহাজুলকে দলে নেওয়া হয় বিশেষ ব্যবস্থায়। তাঁকে দলে নিতে খড়্গ নেমে আসে বিশ্বকাপ-রোমাঞ্চের অপেক্ষায় থাকা চূড়ান্ত দলের সদস্য জাহাঙ্গীর আলমের ওপর। মিনহাজুল অবশ্য তাঁর ওপর সকলের তুমুল আস্থার প্রতিদান দিয়েছিলেন। স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে বিপর্যয়ের মধ্যে খেলেছিলেন ম্যাচজয়ী ইনিংস। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ম্যাকগ্রা-ওয়ার্নদের বোলিং লাইনআপের বিপক্ষে অবিচল আস্থা নিয়ে করেন একটি ফিফটি।

গ্রিনিজ বিদায় নিয়েছিলেন অপমান সয়েই। ফাইল ছবিগর্ডন গ্রিনিজের বরখাস্ত হওয়া
’৯৯ বিশ্বকাপেরই ঘটনা এটি। গোটা টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করার পর ক্যারিবীয় কিংবদন্তি ব্যাটসম্যান গর্ডন গ্রিনিজ বরখাস্ত হয়েছিলেন পাকিস্তানের বিপক্ষে শেষ ম্যাচের ঠিক আগে দিয়ে। নর্দাম্পটনের সেই ম্যাচে বাংলাদেশ পায় অবিস্মরণীয় জয়। অথচ তিন বছরেরও বেশি সময় ধরে বাংলাদেশকে প্রশিক্ষণ দেওয়া গ্রিনিজ সে ম্যাচে ড্রেসিংরুমে থাকতে পারেননি। বোর্ডের সঙ্গে মতের অমিল হওয়াতেই তাঁর বিরুদ্ধে এমন অবমাননাকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। এই গ্রিনিজকেই ১৯৯৭ আইসিসি ট্রফি জয়ের পর বাংলাদেশের নাগরিকত্ব দিয়ে সম্মানিত করা হয়েছিল। গ্রিনিজ সেই সম্মানের মর্যাদা অবশ্য বরখাস্ত হয়ে বিদায় নেওয়ার পরেও রেখেছিলেন। পরবর্তী সময়ে তিনি বাংলাদেশ সফরে এসেছিলেন বাংলাদেশের সবুজ পাসপোর্ট ব্যবহার করেই।

গণমাধ্যমের চাপে অভিষেক টেস্টের দলে ফিরেছিলেন হাবিবুল। ফাইল ছবিঅভিষেক টেস্টের দল থেকে হাবিবুলের বাদ পড়া
এই ঘটনাটিও অনেকটা ’৯৯ বিশ্বকাপ দল থেকে মিনহাজুলের বাদ পড়ার মতো। প্রথমে নির্বাচকেরা বাংলাদেশের অভিষেক টেস্টের দল থেকে বাদ দিয়েছিলেন হাবিবুল বাশারকে। পরে গণমাধ্যমের তীব্র সমালোচনার মুখে দলে ফেরানো হয়। টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের পক্ষে প্রথম ফিফটি করে ক্রিকেটপ্রেমীদের আস্থার প্রতিদানও দিয়েছিলেন হাবিবুল। ২০০০ সালের নভেম্বরের আগে বেশ ভালো ফর্মেই ছিলেন। কিন্তু কোনো এক রহস্যজনক কারণে তাঁকে অভিষেক টেস্টের দল থেকে বাদ দিয়ে দেওয়া হয়। টেস্ট ক্রিকেটের রোমাঞ্চ ছাপিয়ে হাবিবুলের বাদ পড়া নিয়ে শুরু হয় সমালোচনা-বিতর্ক। এ নিয়ে পত্রপত্রিকায় ব্যাপক লেখালেখির পর হাবিবুল বাশার দলে ফেরেন। পরে বাংলাদেশের অন্যতম সফল অধিনায়ক হয়ে ওঠেন।

মাশরাফি সেদিন কেঁদেছিলেন। সেই কান্না ছুঁয়ে গিয়েছিল দেশের মানুষকে। ফাইল ছবিদলে নেই মাশরাফি
২০১১ বিশ্বকাপ তখন দোরগোড়ায়। ঘরের মাঠে বিশ্বকাপ—অন্য রকম এক রোমাঞ্চই কাজ করছিল বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের মধ্যে। কিন্তু মাশরাফি বিন মুর্তজার দুর্ভাগ্য, বিশ্বকাপ শুরুর প্রায় মাস দেড়েক আগে ঘরোয়া ক্রিকেটের একটি ম্যাচে আহত হলে বিশ্বকাপ খেলা অনিশ্চয়তার মুখে পড়ে যায় তাঁর। মাশরাফি অসম্ভব পরিশ্রম করে নিজেকে খেলার জন্য পুরোপুরি ফিট অবস্থায় নিয়ে আসেন বিশ্বকাপ দল ঘোষণার আগে। কিন্তু বিশ্বকাপ দল ঘোষণার দিনটা তাঁর ক্যারিয়ারের সবচেয়ে হতাশার দিন হয়ে আসে। তাঁকে বাদ দেওয়া হয় বিশ্বকাপ দল থেকে। নির্বাচকেরা মাশরাফির বাদ পড়ার কারণ হিসেবে ফিটনেস-ঘাটতির কথা বললেও মাশরাফি দাবি করেছিলেন, বিশ্বকাপ খেলার জন্য তিনি পুরোপুরি ফিট। ব্যাপারটা ক্রিকেটপ্রেমীদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সঞ্চার করেছিল। বিশ্বকাপের ঠিক পরপরই অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজে মাশরাফিকে দলে ফেরানো হয়েছিল। ঘরের মাঠের বিশ্বকাপে খেলা হয়নি মাশরাফির।

এ সম্পর্কিত আরও