Mountain View

‘ওদের কাঁন্না শুনলে কলিজাটা ছিঁড়ে যায়’

প্রকাশিতঃ আগস্ট ২১, ২০১৭ at ৩:৪৯ অপরাহ্ণ

‘ছোট মেয়ের বয়স ২ আর বড় মেয়েটির বয়স ৮ বছর। এই বয়সে গ্রামের অন্যদের মত বড় মেয়েটির স্কুলে গিয়ে লেখাপড়া করার কথা। কিন্তু তার রোগের কারণে স্কুলে যাওয়াতো দূরের কথা ঘৃণায় অন্য শিশুরা তাদের কাছে আসতে চায়না। বাবা হয়েও ঠিকমত আদর করে ওদের কোলে নিতে পারছিনা। ওদের দুজনের কাঁন্না শুনলে আমার কলিজাটা ছিঁড়ে যায়। সন্তানের কষ্ট দেখে বার বার মন চায় নিজের কিডনি বিক্রি করে ওদের চিকিৎসা করাই।’ এভাবেই বলছিলেন পিরোজপুরের স্বরূপকাঠিতে বিরল রোগে আক্রান্ত মারিয়া ও মুনিয়ার বাবা মো. মহসিন।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে আকুল আবেদন করে মহসিন বলেন, ‘আমার সন্তান দুটিকে চিকিৎসার ব্যবস্থা করে পৃথিবীতে বেঁচে থাকার সুযোগ করে দিন।’

স্বরূপকাঠি উপজেলার সোহাগদল ইউনিয়নের হাওলাদার বাড়ি এলাকার রিকশা চালক মো. মহসিন ও রোজিনা দম্পতির বড় মেয়ে মারিয়ার বয়স ৮ বছর আর ছোট মেয়ে মুনিয়ার বয়স ২ বছর। জন্ম থেকেই তারা দুই বোন বিরল রোগে আক্রান্ত। তাদের শরীরের পুরো অংশের চামড়া ফাঁটা। ফাটা অংশ দিয়ে রক্ত এবং পানি বের হচ্ছে প্রতিনিয়ত। শরীরের বিভিন্ন স্থানের চামড়া উঠে যাচ্ছে। সারা শরীর চুলকানে বা যন্ত্রণা করলেও চিৎকার ছাড়া কোন কিছুই করতে পারছেনা তারা। শোয়া বা বসা কোন কিছুই সঠিকভাবে করতে পারছে তারা।

মারিয়া ও মুনিয়ার বাবা মো. মহসিন পেশায় একজন রিকশাচালক। রিকশা চালিয়ে যে সামান্য টাকা তিনি আয় করেন তা দিয়ে তিনি তার সংসারই চালাতে পারেন না। তার ওপর দুটি মেয়ের এই রোগের চিকিৎসার জন্য তিনি তার কিছু জমি ও জীবিকা নির্বাহের রিকশাটিকেও বিক্রি করতে বাধ্য হয়েছেন। কিন্তু তার অর্জিত টাকা মেয়েদের চিকিৎসা খরচের কাছে অতি নগণ্য বলে সঠিকভাবে মেয়েদের চিকিৎসাও তিনি করাতে পারছেন না।

এ ব্যাপারে উপজেলা স্বাস্থ্য ও প.প. কর্মকর্তা ডা. তানভীর আহম্মেদ সিকদার জানান, ‘শিশু দুটি ‘ইছথিওসিস’ নামক এক ধরনের চর্মরোগে আক্রান্ত। এ রোগের চিকিৎসা দেয়া তাদের আয়ত্তের বাইরে।’

এ সম্পর্কিত আরও

Mountain View