Mountain View

ওয়ানডে ক্রিকেটে বাংলাদেশের সেরা পাঁচটি ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স

প্রকাশিতঃ আগস্ট ২১, ২০১৭ at ১০:৩০ অপরাহ্ণ

জুবায়ের আহমেদ: ওয়ানডে ক্রিকেটের যাত্রা ১৯৮৬ সালে বাংলাদেশ দলের অভিষেক হলেও সেরা ক্রিকেট খেলা শুরু হয় মূলত ১৯৯৯ সাল থেকেই। তারপরের বছর টেস্ট অভিষেকের মাধ্যমে পূর্ণতা পায় বাংলাদেশ ক্রিকেট, সেই থেকেই সব সেরা ক্রিকেটারের আগমন হয় বাংলাদেশ ক্রিকেটে। একে একে ব্যক্তিগত ও দলীয় সাফল্যের ভান্ডারপূর্ণ হচ্ছে এখন।

বাংলাদেশের ওয়ানডে ক্রিকেটারদের মধ্যে অনেকেই সেরা পারফর্ম করেছেন অনেক ম্যাচে। তবে সেখান থেকে সেরা পাঁচটি বেছে নেওয়াটা কষ্টকরই। তারপরও আমার দৃষ্টিতে এমন পাঁচটি ম্যাচে ব্যক্তিগত সেরা পারফরম্যান্স তুলে ধরছি, যেগুলো বাংলাদেশে তো বটেই, বিশ্ব ক্রিকেটেও আলোচনার সৃষ্টি করেছে এবং বাংলাদেশ ক্রিকেট পৌঁছেছে অনন্য উচ্চতায়।

১) ১৯৯৯ সালের বিশ্বকাপের ২৯তম ম্যাচে পাকিস্তানের মুখোমুখি হয় বাংলাদেশ। শাহরিয়ার হোসেনের ৩৯, আকরাম খানের ৪২ ও খালেদ মাহমুদের ২৭ রানের সুবাদে ২২৩ রানের লড়াকু স্কোর গড়ে বাংলাদেশ দল। ব্যাট হাতে ২৭ রান করার পর বল হাতে জ্বলে উঠেন মাহমুদ। ১০ ওভারে মাত্র ৩১ রান দিয়ে তিন উইকেট তথা টপ অর্ডারের ব্যাটসম্যান ওপেনার আফ্রিদি, ইজাজ আহমেদ ও ইনজামামকে আউট করেন। সবশেষে পাকিস্তানকে ১৬১ রানে অলআউট করে দিয়ে ৬২ রানে জয়লাভ করে বাংলাদেশ। সেই প্রথম টেস্ট খেলুরে কোন দেশকে পরাজিত করে, তাও চিরশত্র“ পাকিস্তানের সাথে।

মাহমুদ ব্যাট হাতে ২৭ এবং বল হাতে ৩ উইকেট শিকার করেছেন, এমন পারফরম্যান্স হয়তো আহামরি নয়, তবে তখনকার বাংলাদেশের হিসেবে পাকিস্তানকে মাটিতে নামিয়ে আনার কাজটি ভালো ভাবেই করেছিলেন খালেদ মাহমুদ, যা আমার দৃষ্টিতে সেরা ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সের মধ্যে অন্যতম এটি।

২) ২০০৫ সাল, ন্যাটওয়েস্ট সিরিজে অজিদের গড়া ২৪৯ রানের জবাবে মোহাম্মদ আশরাফুলের ১০০ রানের সুবাদে ৫ উইকেটের জয় পায় বাংলাদেশ, সেই সাথে তখনকার সেরা দল অস্ট্রেলিয়াকে হারানোর গৌরব অর্জন করে বাংলাদেশ। ক্রিকেট বিশ্বে নতুন করে পরিচয় লাভ করে বাংলাদেশ। মোহাম্মদ আশরাফুলের এই সেঞ্চুরীকে, বাংলাদেশের অন্যতম সেরা ইনিংস হিসেবেই ধরা হয়।

৩) ২০১৩ সালে নিউজিল্যান্ডের সাথে ঘরের মাটিতে ওয়ানডে সিরিজের ১ম ম্যাচে মুশফিকের ৯০, নাঈম ইসলামের ৮৪ রানের সুবাদে ২৬৫ রান করে বাংলাদেশ দল। ২৬৬ রানের জবাবে নিউজিল্যান্ড ২০ ওভারে ৩ উইকেট হারিয়ে ৮২ রান তোলার পর বৃষ্টি শুরু হলে শেষে ৩৩ ওভারে কিউইদের সামনে ২০৬ রানের টার্গেট দেওয়া হয়। ইলিয়ট এর ৭১ ও এন্ডারসনের ৪৬ রানে ভর করে যখন জয়ের স্বপ্ন দেখে কিউইরা তখনই ইতিহাস সেরা বোলিং করেন রুবেল হোসাইন। দ্বিতীয় বাংলাদেশী বোলার হিসেবে হ্যাট্রিক করেন এবং সবশেষে মাত্র ৫.৫ ওভারে ২৬ রান দিয়ে বাংলাদেশের ওয়ানডে ইতিহাসের সেরা বোলিং করে ৬ উইকেট শিকার করেন। এমন দাপুটে বোলিং বাংলাদেশের কোন বোলারই আজ পর্যন্ত করতে পারেননি ওয়ানডেতে।

৪) জিম্বাবুয়ের সাথে তামিম ইকবালের দেশের সেরা ও ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ রানের ইনিংস তথা ১৫৪ রানের ইনিংসটি বাংলাদেশ ক্রিকেটের অন্যতম ব্যক্তিগত সেরা পারফরম্যান্স। ২০০৯ সালে সিরিজের ৪র্থ ম্যাচে চার্লস কভেন্ট্রির ১৯৪ রানে ভর করে ৩২৬ রানের পাহাড় গড়ে বাংলাদেশ। তামিমের ১৫৪ রানে ভর করে ৪ উইকেটের ইতিহাস সৃষ্টিকারী জয় পায় বাংলাদেশ, এই ম্যাচেই সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জেতার নতুন রেকর্ড সৃষ্টি হয় বাংলাদেশের।

৫) ২০১৫ সালের বিশ্বকাপে রিয়াদের সেঞ্চুরী। ইংল্যান্ডের সাথে বিশ্বকাপের ৩৩তম ম্যাচে রিয়াদ ক্যারিয়ারের প্রথম ও প্রথম বাংলাদেশী হিসেবে বিশ্বকাপে সেঞ্চুরী করেন। পরে রুবেলের দূর্দান্ত বোলিংয়ে ১৫ রানে জয়লাভ করে বাংলাদেশ। রিয়াদের এ সেঞ্চুরীটি ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সের মধ্যে অন্যতম।

অনেকের দৃষ্টিতে সাকিব আল হাসানের একই ম্যাচে সেঞ্চুরী ও ৪ উইকেট প্রাপ্তি, ২০১৫ সালের বিশ্বকাপে নিউজিল্যান্ডের সাথে রিয়াদের সেঞ্চুরী, ২০০৭ সালের বিশ্বকাপে আফ্রিকার সাথে আশরাফুলের ৮৭, ২০০৭ সালের বিশ্বকাপে মাশরাফির ম্যাচসেরা ৪ উইকেট, কেনিয়ার সাথে মাশরাফির ক্যারিয়ার সেরা ৬ উইকেট, চ্যাম্পিয়ন ট্রফিতে সাকিব-রিয়াদের সেঞ্চুরী, তাইজুলের অভিষেকেই হ্যাট্রিক সহ ৪ উইকেট পাকিস্তানের সাথে তামিমের ব্যাক টু ব্যাক সেঞ্চুরী, পাকিস্তানের সাথে সৌম্যের সেঞ্চুরী, ২০০৮ সালের এশিয়া কাপে ভারতের সাথে মাত্র ৮৬ বলে অলকের সেঞ্চুরী, পাকিস্তানের সাথে মুশফিকের দ্রুততম সেঞ্চুরীকেও সেরা মনে হতে পারে, তবে আমার দৃষ্টিতে উল্লেখিত ৫টি পারফরম্যান্স বাংলাদেশ ক্রিকেটকে অনেক এগিয়ে এনেছে বিশ্ব দরবারে।

এ সম্পর্কিত আরও

Mountain View