ঢাকা : ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৭, মঙ্গলবার, ৪:৩৭ পূর্বাহ্ণ
A huge collection of 3400+ free website templates JAR theme com WP themes and more at the biggest community-driven free web design site
প্রচ্ছদ > শীর্ষ সংবাদ > বন্যায় বাংলাদেশ, ভারত ও নেপালে মৃতের সংখ্যা কমপক্ষে ৮০০

বন্যায় বাংলাদেশ, ভারত ও নেপালে মৃতের সংখ্যা কমপক্ষে ৮০০

বাংলাদেশ, ভারত ও নেপালে ভয়াবহ বন্যায় মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে কমপক্ষে ৮০০। গৃহহারা হয়েছে লাখ লাখ মানুষ। ত্রাণকর্মীরা বলছেন, খাদ্যের ভয়াবহ সঙ্কট দেখা দেবে। বিস্তার ঘটবে পানিবাহিত রোগের। দক্ষিণ এশিয়ার কৃষকের কাছে মৌসুমী বৃষ্টি হলো লাইফলাইন বা জীবনদায়ক। তবে প্রতিবছর জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময়ে এ বৃষ্টি অনেক প্রাণহানী করে। ক্ষতি করে অনেক সম্পদের। সরকারি কর্মকর্তারা বলছেন, অনেক বছরের মধ্যে এবারের বন্যা সবচেয়ে ভয়াবহ। বার্তা সংস্থা রয়টার্সে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এসব কথা বলা হয়েছে। এতে বলা হয়, বন্যায় বাংলাদেশের এক-তৃতীয়াংশের বেশি পানিতে তলিয়ে আছে। এখানে মারা গেছে কমপক্ষে ১১৫ জন। আক্রান্ত হয়েছেন ৫৭ লাখেরও বেশি মানুষ। বাংলাদেশের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী সাজ্জাদ হোসেন বলেছেন, পানি আস্তে আস্তে কমতে শুরু করেছে। যদি উজানে আর বৃষ্টিপাত না হয় তাহলে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি ঘটবে। বাংলাদেশ দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের মহাপরিচালক রিয়াজ আহমেদ বলেছেন, খাদ্য সঙ্কটের উদ্বেগ বাড়ছেই। বাড়ছে বিভিন্ন রোগ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা। তিনি বলেন, বন্যার পানি কমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মহামারী শুরু হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

কিছু নদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বাংলাদেশে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ২২৫টি সেতু। এর ফলে আক্রান্ত মানুষের কাছে খাদ্য ও ওষুধ পৌঁছে দেয়া বিঘ্নিত হচ্ছে বলে দাবি করেছেন ত্রাণকর্মীরা। ওদিকে বাংলাদেশ সীমান্ত লাগোয়া ভারতের আসাম রাজ্যে কয়েক সপ্তাহের বন্যায় মৃত্যু হয়েছে কমপক্ষে ১৮০ জনের। আসামের কালিয়াবোরে বসবাস করেন লক্ষ্মী দাস নামের তিন সন্তানের মা। তিনি বলেছেন, বন্যা আমাদের সব কিছু ধুয়ে নিয়ে গেছে। আমার ছোট্ট কুড়ে ঘরটি কোথায় ছিল তাও চিহ্নিত করা যাচ্ছে না। আমাদের সঙ্গে দ্বিতীয় কাপড়টি পর্যন্ত নেই। সরকার আমাদেরকে কোনো ত্রাণ সহায়তা দিচ্ছে না। ভারি বর্ষণে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রাজ্য অরুণাচল প্রদেশ, নাগাল্যান্ড ও মনিপুরে ব্যাপক বন্যা দেখা দিয়েছে। সেখানে কমপক্ষে ৩০ জন মারা গেছে। জুলাইয়ের শুরুতে ব্রহ্মপুত্র নদের পানিতে সৃষ্ট বন্যায় ডুবে যায় আসামে বন্যপ্রাণীর অভয়ারণ্য কাজিরাঙ্গা। ওই সময় থেকে কমপক্ষে ৩৫০টি প্রাণী মারা গেছে বন্যার কারণে। এর মধ্যে রয়েছে এক শিং বিশিষ্ট ২৪টি বিলুপ্তপ্রায় গণ্ডার। ৫টি হাতি ও একটি বাঘ। আসামের বনমন্ত্রী প্রমিলা রাণি ব্রাহ্ম বলেছেন, আমরা বন্যপ্রাণীদের ক্ষেত্রে এক বিপর্যয় মোকাবিলা করছি। ওদিকে পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য বিহারে বন্যায় মারা গেছে কমপক্ষে ২৫৩ জন। সেখানকার শস্য, রাস্তাঘাট পানিতে ভাসিয়ে নিয়েছে। বন্ধ হয়ে আছে অনেক স্থানের বিদ্যুৎ সরবরাহ। বিহারের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের সিনিয়র কর্মকর্তা অনিরুদ্ধ কুমার বলেছেন, রাজ্যের ৫ লাখের মতো মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রে রয়েছেন। নেপালে বন্যায় মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে কমপক্ষে ১৪১। অন্যদিকে কিছু মানুষ তাদের বাড়িঘরে ফিরতে শুরু করেছে।

এ সম্পর্কিত আরও