Mountain View

বানভাসী মানুষের মানবেতর জীবনযাপন

প্রকাশিতঃ আগস্ট ২৪, ২০১৭ at ৯:০৯ পূর্বাহ্ণ

কুড়িগ্রামের ওপর দিয়ে প্রবাহিত নদ-নদীর পানি বিপদসীমার নিচে নেমে এসেছে। তবে, পানির তোড়ে বাড়িঘর ভেসে যাওয়ায় অনেকে হয়েছেন আশ্রয়হীন। বাঁধ ও রাস্তার ধারে কোন রকমে মাথা গুঁজে মানবেতর জীবনযাপন করছেন তারা।

স্মরণকালের ভয়াবহ বন্যায় জেলার লাখ-লাখ মানুষের জীবনযাত্রাকে তছনছ করে দিয়েছে। বানের পানিতে ভেসেছে ৯টি উপজেলার ৬০টি ইউনিয়ন এবং ২টি পৌরসভার ৮ শতাধিক গ্রাম। এক সপ্তাহের বেশি সময় ধটে পানিবন্দি ছিলেন সোয়া লাখ পরিবার।

পানির তোড়ে ভেসে গেছে হাজার-হাজার বাড়িঘর। এখন পানি কমে যাওয়ায় ২শ ১৪টি আশ্রয় কেন্দ্রসহ বিভিন্ন স্থানে আশ্রয় নেয়া ২৫ হাজার পরিবারের লক্ষাধিক মানুষের অধিকাংশই বাড়ি ফিরে গেছেন। তবে বাড়িঘরহারা সহস্রাধিক পরিবারের প্রায় ৫ হাজার মানুষ এখনও রয়েছেন ৮টি আশ্রয় কেন্দ্রে। এর বাইরে শত-শত পরিবার বাঁধ-সড়কে আশ্রয় নিয়ে আছেন।

বানভাসি মানুষেরা বলেন, বাড়িঘর কিছুই নাই। ঘরদোরের কি অবস্থা হবে তা বলা যাচ্ছে না। কিভাবে চলবে জানি না। খুব কষ্টে আছি। আমরা কোন ত্রাণ পায়নি।

সদর উপজেলার যাত্রাপুর ইউনিয়নের বলদিপাড়া ও গারুহারা গ্রামের শতাধিক পরিবারের বাড়িঘর পানির তোড়ে ভেসে গেছে। সড়কে বসবাসকারী এই পরিবারগুলোকে কোন সহায়তা দেয়া হয়নি বলে জানালেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি।

তারা বলেন, এই বন্যায় অনেক ঘরবাড়ি ভেসে গেছে। খুব কষ্টের মধ্যে তারা রাস্তায় আছেন। ঘরবাড়ি করার জন্যে তাদের কোন সাহায্য করতে পারছি না।

অবশ্য গৃহ নির্মাণে নগদ টাকা ও টিন সহায়তা দেয়ার জন্য অগ্রাধিকার তালিকা তৈরির কাজ চলছে বলে জানালেন জেলা প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তা।

জেলা প্রশাসক বলেন, টিন এবং নগদ টাকা দিয়ে সহায়তা করার জন্যে তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। আমাদের কার্যক্রম চলছে। পাশাপাশি যাদের ত্রাণ দরকার আছে তাদের ত্রাণ দেওয়া অব্যাহত থাকবে।

জেলায় বন্যায় ১ লাখ ১৩ হাজার ৬শ ১৮টি বাড়িঘর কমবেশি নষ্ট হয়েছে। এর মধ্যে সাড়ে ২৪ হাজার সম্পূর্ণ এবং ৮৯ হাজার আংশিক নষ্ট হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলার ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা।

এ সম্পর্কিত আরও

Mountain View