ঢাকাঃ মঙ্গলবার , ২৪ অক্টোবর ২০১৭ ৫:২৭ অপরাহ্ণ
A huge collection of 3400+ free website templates JAR theme com WP themes and more at the biggest community-driven free web design site
প্রচ্ছদ / ফিচার / ক্রমাগত ব্যর্থদের জন্য অনুপ্রেরনার গল্প যা বদলে দিতে পারে আপনাকে

ক্রমাগত ব্যর্থদের জন্য অনুপ্রেরনার গল্প যা বদলে দিতে পারে আপনাকে

প্রকাশিত :

জাহিদুল ইসলামজাহিদুল ইসলাম, বিডি টোয়েন্টিফোর টাইমস : প্রাইমারিতে দুইবার ফেল, মাধ্যমিকে তিনবার ফেল, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরিক্ষায় তিনবার ফেল, চাকরির জন্য পরিক্ষা দিয়ে ৩০ বার ব্যর্থ হয়েছি আমি। চীনে যখন কেএফসি আসে তখন ২৪ জন চাকরির জন্য আবেদন করে৷ এর মধ্যে ২৩ জনের চাকরি হয়৷ শুধুমাত্র একজন বাদ পড়ে, আর সেই ব্যক্তিটি আমি৷

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশে কিছু উচ্চ শিক্ষিত বেকার ৪/৫ বছর চেষ্টার পরও চাকরি না পেয়ে আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়। যার মধ্যে একজন ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। পড়তেন ভূগোল ও পরিবেশ বিজ্ঞাণ বিভাগে। যারা জীবনের শুরুতেই কিছু ব্যর্থতার কারণে জীবন থেকে চিরবিদায় নিতে চাইছেন তাদের জন্যই এই প্রেরনাদায়ক সাফল্যের গল্প।

এমনও দেখা গেছে চাকরির জন্য পাঁচ জন আবেদন করেছে তন্মধ্যে চার জনের চাকরি হয়েছে বাদ পড়েছি শুধুই আমি৷ প্রত্যাখ্যানের পর প্রত্যাখ্যানই দেখেছি আমি৷ হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য ১০বার আবেদন করে ১০বারই প্রত্যাখ্যাত হয়েছি৷এতক্ষণ যার কথা বলেছি তিনি হলেন পৃথিবীর অন্যতম বড় অনলাইন ভিত্তিক কম্পানি আলিবাবা ডটকমের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান জ্যাক মা৷ তার জন্ম চীনের জিজিয়াং প্রদেশে৷ফোবর্স ম্যাগাজিনের হিসেবে জ্যাক মা পৃথিবীর ৩৩ তম ধনী ব্যক্তি৷

তার মোট সম্পদের পরিমাণ ২১দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার৷ জ্যাক মার জীবনে এতবার ব্যার্থ হওয়ার পরও বড় হওয়ার, প্রতিষ্ঠিত হওয়ার আশা থেকে বিন্দু মাত্র পিছপা হন নি৷ অবিরাম চেষ্টা চিলিয়ে তিনি আজকের অবস্থানে এসেছেন৷ যেই জ্যাক মা চাকরির জন্য ৩০ বার প্রত্যাখ্যাত হয়েছিলেন সেই জ্যাক মার প্রতিষ্ঠান আলিবাবা ডটকম চীনে নতুন করে ১৪ মিলিয়ন চাকরি তৈরি করেছে৷ জ্যাক মা যখন আলিবাবা প্রতিষ্ঠা করেন তখন সবাই তাকে পাগল বলত৷ টাইম মেগাজিনে জ্যাক মা কে পাগল জ্যাক বলে অভিহিত করেছিল৷
কিন্তু জ্যাক মা আশাহত হন নি৷ তিনি চলেছেন আপন গতিতেই৷ আমাদের মত যুবকদের সামনে রয়েছে অফুরন্ত সময়৷ আর সেই সময়কে কাজে লাগিয়ে আমরাও হতে পারি পৃথিবী বাসির কাছে অনুসরণীয় ব্যাক্তি৷নিজেকে উদাহরণের প্রতীক হিসেবে গড়ে তুলতে পারি৷ পরিশেষে জ্যাক মার একটি বিখ্যাত উক্তি দিয়ে শেষ করতে চাই৷ তিনি বলেছিলেন- “আমার মনে হয় পাগল হওয়া ই ভাল৷আমরা পাগল কিন্তু নির্বোধ নই” সম্প্রতিক বছর গুলোতে বাংলাদেশে কিছু উচ্চ শিক্ষিত বেকার ৪/৫ বছর চেষ্টার পরও চাকরি না পেয়ে আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়। যার মধ্যে একজন ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। পড়তেন ভূগোল ও পরিবেশ বিজ্ঞাণ বিভাগে। যারা জীবনের শুরুতেই কিছু ব্যর্থতার কারণে জীবন থেকে চিরবিদায় নিতে চাইছেন তাদের জন্যই এই প্রেরনাদায়ক সাফল্যের গল্প।

‘জীবন যেন একটি চকলেটের বাক্স। তুমি কখনোই জানতে পারবে না যে কী পেতে যাচ্ছ।’— বিশ্বখ্যাত হলিউড অভিনেতা টম হ্যাঙ্কসের ফরেস্ট গাম্প চলচ্চিত্রের এই সংলাপটি চীনা ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান আলিবাবার প্রতিষ্ঠাতা জ্যাক মার ভীষণ প্রিয়। শুধু প্রিয়ই নয়, জ্যাক মা’র জীবনের পরোতে পরোতে যেন এই সংলাপের প্রতিফলন। কারণ বহু ব্যর্থতার পর আকাশ ছোয়া সাফল্যের যে নজির বিশ্বের ৩৩তম ধনী এই ব্যবসায়ী স্থাপন করেছেন, তা এই সংলাপের মধ্যেই লুকায়িত।

অনলাইন কেনাকাটা সম্পর্কে যারা জানেন, তাঁদের কাছে জ্যাক মা বর্তমান বিশ্বের সফলতম ব্যবসায়ী ও শীর্ষ ধনীদের একজন। অথচ এই মানুষটাই একটা লম্বা সময় ধরে ব্যর্থতার পর ব্যর্থতার হিসাব মিলিয়েছেন। সুইজারল্যান্ডের দাভোসে অনুষ্ঠিত বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামে সম্মেলনের সময়ে দেওয়া এক টিভি সাক্ষাৎকারে জ্যাক মা’র নিজেই তাঁর অতীত জীবনের যাবতীয় ব্যর্থতা এবং ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প বলেন।
চলুন জেনে নি জ্যাক মা’র সেসব ব্যর্থতার গল্প: জীবনে প্রথম প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষায় জ্যাক মা দুইবার ফেল করেন। জীবনের প্রথম পদক্ষেপেই ব্যর্থতা ঘিরে ধরে তাঁকে। মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ব্যর্থতার সংখ্যা আরও বেশি, এখানে তিনবার ফেল করেছেন। তারপর পুলিশের চাকরির জন্য আবেদন করে প্রত্যাখ্যাত হয়েছেন।

আর্নল্ড শোয়ার্জনেগারের সাথে জ্যাক মা
আর্নল্ড শোয়ার্জনেগারের সাথে জ্যাক মা

শিক্ষা জীবনে এতসব ব্যর্থতা থাকলেও জ্যাক মা’র স্বপ্ন ছিল বড়। তিনি বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয় হার্ভার্ডে পড়াশোনার স্বপ্ন দেখেন। চেষ্টাও করেন, কিন্তু যথারীতি ব্যর্থ হন। তবুও দমে যাননি তিঁনি। চেষ্টা করেছেন বারবার; একবার-দুবার নয়, দশ-দশবার আবেদন করেছেন হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে। কিন্তু সাফল্যের সোনার হরিণ দেখা দেয়নি। তবে একটি জেদ জেঁকে বসেছিল তাঁর মাথায় তিঁনি বলেন: ‘তখন আমার মনে হয়েছিল, একদিন হয়তো সেখানেই আমি পড়াতে যাব।…আর সেটি খুবই সম্ভব।’

হার্ভার্ডের মতো বিশ্বসেরা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া না হয় জ্যাক মা’র জন্য দুঃসাধ্য ব্যাপার, তাই বলে ফাস্টফুডের দোকানে একটা চাকরি জোঠানোও কী খুব কঠিন? জ্যাক মা বলেন, ‘কেএফসি যখন আমাদের শহরে ব্যবসা করতে এলো, তখন ২৪ জন তাঁদের কাছে চাকরির জন্য গিয়েছিলেন। তাঁদের মধ্যে আমিও ছিলাম। কিন্তু কেএফসি বাকি ২৩ জনকে চাকরি দেয়, বাদ পড়েছি শুধু আমি।’

জীবনব্যাপির এতএত ব্যর্থতার পরও দমে যাননি জ্যাক মা। বিজয়ের হাসিটা তিনি হেসেই ছেড়েছেন।
সাক্ষাৎকারে জ্যাক মা আরও জানান, একপর্যায়ে এমনকি তিনি নিজের নামটাও পাল্টে ফেলেন। এক বন্ধুর পরামর্শে মা ইয়ান থেকে তিনি ধারণ করেন নতুন নাম, জ্যাক মা।

লেখার শেষে একটি কথাই বলতে চাই, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় উইনস্টন চার্চিল তার হতাশাগ্রস্থ সেনাদের উদ্দ্যেশ্যে এ বিশেষ বক্তেব্যে একটি কথায় বলেছিলেন, ‘ Never Give up’ অর্থাত হাল ছেড়ো না। কেননা যেকন কিছুর চেয়েও জীবনের মূল্য অনেক অনেক বেশ্ সেখানে সফল ও সুখী হওয়াটাই চূড়ান্ত লক্ষ্য। তাই হাল ছেড়ে না দিয়ে ক্রমাগত চেষ্টা করে যাওয়াটাই আসল। কারন ভাগ্য বিধাতা সবসময়ই পরিশ্রমীদের পাশে থাকেন।

এ সম্পর্কিত আরও

Check Also

ট্রিবিউট টু দি লিজেন্ডঃ পেলের যে ১২ টি রেকর্ড অবিনশ্বর থাকবে

ফুটবল সম্রাট পেলের আজ জন্মদিন। জন্মদিন উপলক্ষে তার কিছু অবিস্মরণীয় রেকর্ড তুলে ধরছি। সারা বিশ্বের …

Leave a Reply