Mountain View

সাদা চোখে রোহিঙ্গা সংকট : ফখরুল ইসলাম হিমেল

প্রকাশিতঃ সেপ্টেম্বর ৮, ২০১৭ at ৭:৪০ পূর্বাহ্ণ

ফখরুল ইসলাম হিমেল, বিডি টোয়েন্টিফোর টাইমস : খবরে পড়লাম নাগরিকত্বের প্রমাণ না থাকলে নিজেদের দেশে রোহিঙ্গাদের ফেরৎ নেবে না মিয়ানমার। বিষয়টা হাস্যকর।। এটা বাংলাদেশে আসা রোহিঙ্গাদের ফেরত নিতে মিয়ানমারের আগাম অস্বীকার।। নাগরিকত্বের প্রমাণ কি বাংলাদেশ দিবে?এর ফলে এরা স্থায়ীভাবে বাংলাদেশে থেকে যাওয়া ছাড়া বিকল্প কোন রাস্তা পাবে না। আর, বহির্বিশ্ব (এখন যারা নিরব বা মিয়ানমারের পক্ষে) ও বিভিন্ন সংস্থা তখন বাংলাদেশের উপড় চাপ তৈরি করবে এদের স্থায়ী আবাসের জন্য।

কারণ, মিয়ানমার ইতিমধ্যে তার কৃতকর্মের জন্য কয়েকটি দেশের সমর্থন আদায় করেছে। আর কিছুদিনের মধ্যেই তারা আরো কিছু আন্তর্জাতিক সংস্থারও সমর্থন পেয়ে যাবে। আর, আমাদের পররাষ্ট্রনীতি অপেক্ষাকৃত দূর্বল, তাতে বাংলাদেশ পিছিয়ে পড়বে বৈকি! অপরাধপ্রবণ রোহিঙ্গারা যদি স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করে তাহলে আমাদের আভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি খারাপ হবে। তারা ভবিষ্যৎ-এ নানা অপরাধের সাথে জড়িয়ে পরবে। আমাদের পররাষ্ট্রনীতি খুবই দুর্বল।

তাই এই অবস্থায় বাংলাদেশের করণীয় কি তা নিয়ে সরকার রীতিমত বিভ্রান্ত। সরকারের নীতিও দ্বিমূখী। একদিক থেকে পুশব্যাক করছে অন্যদিক থেকে আশ্রয় দিচ্ছে। বাংলাদেশ ছাড়াও মিয়ানমারের সাথে সীমান্ত আছে চীন, ভারত বা থাইল্যান্ডের মত দেশের। কিন্তু রোহিঙ্গা সমস্যা কেন সশুধুমাত্র বআমাদের উপরই বর্তাবে? আমি রোহিঙ্গাদের আশ্রয়ের বিপক্ষে অবশ্যই না,বিষয়টা মানবিক। তাই, আমরা উদার হতেই পারি।

কিন্তু স্থায়ী ভাবে রোহিঙ্গাদের নিয়ে চিন্তা করাটা আমাদের জন্য উচ্চবিলাসিতাই বটে।আর, এ ঘটনায় আমাদের দেশের বন্যার্ত মানুষদের অবস্থাও গুরুত্ব হারাচ্ছে। এক্ষেত্রে মিডিয়ার ভূমিকা হতাশাজনক। তারা রোহিঙ্গা ইস্যুতে এতটাই মত্ত যে এ দিকে তাদের খেয়ালই নেই।আবেগ আর বাস্তবতার পথ কিন্তু ভিন্ন।

ইতিমধ্যেই সরকার স্বীকার করেছে এত রোহিঙ্গাদের ভাড় বহন করা সম্ভব না। আর সরকার-প্রধান এ বিষয়টাকে অগ্রাধিকারে নিয়েছে। তথাপিও, সরকারকে এখনি শক্তভাবে ভাবতে হবে, নিতে হবে সচ্ছ (visible) পদক্ষেপ।

-ফখরুল ইসলাম হিমেল শিক্ষক ও লেখক

এ সম্পর্কিত আরও

no posts found