শাহবাগের গোলপুকুর : হারিয়ে যাওয়া এক রঙ্গমঞ্চ

প্রকাশিতঃ সেপ্টেম্বর ১৭, ২০১৭ at ৩:১৪ অপরাহ্ণ

জাহিদুল ইসলাম নাঈম, বিডি টোয়েন্টিফোর টাইমস : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের আঙ্গিনায় প্রবেশ করলেই দৃষ্টি কাড়ে গাছপালায় আবৃত একটি পুকুর। পুকুরটিকে বর্তমানে একটি সাধারণ পুকুর মনে হলেও এর ইতিহাস কিন্তু অসাধারণ। মোঘল আমলে শাহবাগের নাম ছিল বাগ-ই-বাদশাহি। মোঘলরা অপরূপ সাজে সাজিয়েছিল এই এলাকা। পরবর্তীতে শাহবাগ এলাকা নূর হুসাইনের হস্তগত হয়। তিনি নায়েবে নাজিম নুসরাত জং এর মজলিশে কিতাব পাঠ করতেন। মূলত নুসরাত জং ই তাকে শাহবাগ এলাকাটি দান করেন। নূর হুসাইন শাহ নূরা কিংবা নূর খান নামেও পরিচিত ছিলেন। নূর খান বাজার নামক বাজারও তার প্রতিষ্ঠিত ।

ইংরেজ আমলে ধীরে ধীরে শাহবাগের গুরুত্ব কমতে থাকে। হারিয়ে যেতে থাকে এর ঐতিহ্য। নূর খানের বংশধররাও শাহবাগকে আর নিজেদের আয়ত্তে রাখতে পারেননি। নবাব আবদুল গণি নূর খানের পুত্রের কাছ থেকে শর্তসাপেক্ষে জায়গাটি ক্রয় করে নেন।এরপর শাহবাগ ফিরে পেতে থাকে তার নৈসর্গিক সৌন্দর্য। আবদুল গণি শাহবাগকে বাগের মত করেই সাজান। লেক, সরোবর, বাগিচা, উদ্যান, বাগানবাড়ি, চিড়িয়াখানা, মঞ্চ, জলসাঘর সবই ছিল এখানে। নবাবদের একান্ত প্রচেষ্টায় শাহবাগ পরিণত হয় ঢাকার কেন্দ্রবিন্দুতে।নবাবদের উদ্যোগে শাহবাগে প্রতিবছর ইংরেজি নববর্ষ পালিত হত। এখানে বসত কৃষি আর কুটির শিল্পের মেলা। যাত্রা, থিয়েটার, নাচ, গান, পুঁথিপাঠ আর উৎসবের ধুম লেগেই থাকত সর্বদা। চারুকলার আঙ্গিনার এই গোলপুকুরটির মাঝখানে ছিল একটি চবুতারা বা উঁচু চত্ত্বর। বাইজিরা চবুতারায় নাচ-গান করত। পাড়ে গোল হয়ে বসে অতিথি আর দর্শনার্থীরা সে নাচ-গান উপভোগ করত। চবুতারায় যাওয়ার জন্য দক্ষিণ দিকে ছিল লোহা ও কাঠের সেতু । ১৮৯০ সালে “এলাহিজান” নামক এক বাইজির নৃত্য চলাকালে দর্শকদের উপচে পড়া ভিড়ে সেতুসমেত ভেঙ্গে পড়ে চবুতারা। বহু লোক হতাহতও হয়েছিল তাতে।

শাহবাগে আজ আর নেই নবাবদের সেই প্রতিপত্তি, নেই তাদের ঐশ্বর্যের প্রতীক বাগানবাড়ি, বাগিচা, লেক, ঝুলানো রেলিং, ইশরাত মনজিল আর নিশাত মনজিলের মত সুরম্য অট্টালিকা। এখানে এখন আর আন্দোলিত হয় না পিয়ারুবাই, আবেদিবাই, ওয়ামিবাইদের মুক্তা ঝড়ানো খিলখিল হাসি। কালের আবর্তে সব আজ ধূসর স্মৃতি। শুধু গোলপুকুর নামে টিকে আছে তাদের এই রঙ্গমঞ্চ।

এ সম্পর্কিত আরও

no posts found