চালের দামে দিশাহারা নিম্ন আয়ের মানুষ

প্রকাশিতঃ সেপ্টেম্বর ১৮, ২০১৭ at ১২:৫৩ পূর্বাহ্ণ

চালের দামে দিশাহারা বগুড়াসহ উত্তরাঞ্চলের চালের দাম লাগামহীন বৃদ্ধি পাচ্ছে। এক সপ্তাহের ব্যবধানে মোটা চাল কেজিতে ৮-১০ টাকা বেড়েছে। কোয়ালিটি ভেদে গরিবের মোটা চাল ৫৩ থেকে ৫৮ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। ব্যবসায়ীরা বলছে পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে চালের দাম বাড়ায় এর প্রভাব আমাদের দেশেও পড়েছে। এতে দিশাহারা হয়ে পড়েছে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষ। এদিকে মোটা চালের আমদানি এখানকার বাজারে খুব কম। ব্যবসায়ীরা বলছে মিল থেকে মোটা চাল আসছে না। কোয়ালিটি ভেদে ৫৩-৫৮ টাকায় এখনো বিক্রি হচ্ছে মোটা চাল। ছোট ব্যবসায়ী বলছে মহাজনদের হাতে চাল থাকলেও তারা গুদামজাত করে ইচ্ছামতো দাম বাড়াচ্ছে। অপরদিকে চালের দাম বৃদ্ধির কারণ হিসেবে বাজার বিশেষজ্ঞরা দেশের বড় মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানিগুলোকেও দুষছেন। তারা বলছেন, আমাদের দেশের মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানিগুলোকে সরকারিভাবে মনিটরিং করা হচ্ছে না। এর ফলে তারা চাল প্যাকেটজাত করে ইচ্ছামতো দামে বিক্রি করছে। এর প্রভাব চালের বাজারে চরমভাবে প্রভাব ফেলেছে। এদিকে উত্তরের আট জেলায় দুই দফা বন্যায় কৃষকের অর্ধলাখ হেক্টর জমির ফসল নষ্ট হয়েছে। এর মধ্যে রোপা আমন উল্লেখযোগ্য। বন্যায় বিপুল পরিমাণ জমির ধান নষ্ট হওয়া কারণে যাদের ঘরে পূর্বের ধান আছে তারা সেই ধান বাজারে ছাড়ছে না। অপরদিকে মৌসুমের শুরুতে এক শ্রেণির স্টক ব্যবসায়ী কমদামে ধান কিনে রেখেছে। তারা বন্যার এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে বেশি দামে এসব ধান বিক্রি করছে। ফলে উত্তরাঞ্চলের সাধারণ মানুষ চাল আতঙ্ক আছে। সিন্ডিকেটদের দৌরাত্ম্য এখনই থামানো না গেলে বাজার পরিস্থিতি আরো অস্বাভাবিক হতে পারে। অপরদিকে প্রাণ, এসিআই, স্কোয়ারসহ মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানিগুলো কৃষকের ধান মৌসুমের শুরুতে কমদামে কিনে গোডাউনজাত করে এখন চাল করে ইচ্ছামতো দামে বিক্রি করছে। এর প্রভাবও চরমভাবে বাজারে পড়েছে বলে দাবি করছেন মিলমালিক নেতৃবৃন্দ। বাজারে বিআর-২৮ ৫৩ টাকা কেজি হলেও প্রাণের লেবেলে সেই চাল বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকার উপরে। এসব কোম্পানির বিরুদ্ধে আরো অভিযোগ হলো তারা ডিপার্টমেন্টাল স্টোরগুলো ছাড়া খোলাবাজারে চাল বিক্রি করে না। ডিপার্টমেন্টাল স্টোরগুলোতে তারা খোলা বাজার থেকে প্রত্যেক আইটেম চালেই ১০-১২ টাকা কেজিতে বেশি বিক্রি করছে। ক্রেতা এবং খুচরা বিক্রেতারা অভিযোগ করেন এসব বড় কোম্পানি বিআর-২৮ চাল মিনিকেট হিসেবে প্যাকেটজাত করে বিক্রি করছে। তাতে এই দাম বেড়ে ৬০ টাকা পর্যন্ত হচ্ছে। খাদ্য বিভাগের কর্মকর্তারা বললেন মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানিগুলোর চাল বেশি দামে বিক্রির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার এখতিয়ার নেই। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বিষয়টি দেখেন। কিছু করার থাকলে তারাই করতে পারবেন। এর প্রভাব পড়েছে সরকারি খাদ্যগুদামেও। বাজারে চালের দাম বাড়ায় সরকারের বেঁধে দেয়া ৩৪ টাকা কেজিতে চাল দিতে অধিকাংশ মিলার নারাজ। এবার উত্তরাঞ্চলের এক-তৃতীয়াংশ মিলার খাদ্য অফিসের সঙ্গে চাল দিতে চুক্তিবদ্ধ হয়নি। এতে সরকারি খাদ্যগুদামে লক্ষ্যমাত্রা পূরণ না হওয়ার আশঙ্ক করছেন কর্মকর্তারা। চালের চলমান অস্থির বাজার এর জন্য দায়ী। ছোট ছোট মিলারদের লোকসানে খাদ্যগুদামে চাল দিতে বাধ্য করা হলেও রাঘববোয়ালরা এক কেজি চালও গুদামে এখন পর্যন্ত দেয়নি। তারা সরকারি গুদামে চাল দেয়ার পরিবর্তে খোলা বাজারে কেজিতে প্রায় ২৫ টাকা বেশিতে চাল বিক্রি করছে। খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, উত্তরাঞ্চলের অধিকাংশ মিল এখন চালু। তার পরেও মোটা চাল কিনতে গুনতে হচ্ছে ৬০ টাকার বেশি। চালের মূল্য বৃদ্ধি লাগামহীন ভাবে সামনের দিকে যাচ্ছে। কোনো মহল থেকেই সেই লাগাম টেনে ধরা হচ্ছে না। দিন দিন পরিস্থিতি আরো নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে। নওগাঁ, জয়পুরহাট, গাইবান্ধা, দিনাজপুর, বগুড়া ঘুরে চালের বাজারে এমন চিত্র দেখা গেছে। এ অঞ্চলের কৃষকরা ধান কাটা শুরু থেকেই বাজারে ধান বিক্রি করছেন। বর্তমানে কৃষকের ঘরে ধান নেই। রাঘববোয়াল মিলার এবং স্টক ব্যবসায়ীদের হাতে গুদামজাত হয়ে আছে উত্তরাঞ্চলের বেশিরভাগ ধান। দেশের হাওর অঞ্চলের দুর্যোগকে পুঁজি করে অসাধু মিলার এবং স্টক ব্যবসায়ীরা সেই ধান চাল করে উচ্চমূল্যে বাজারে ছাড়ছে। এতে রাতারাতি হাতে গোনা কিছু ব্যবসায়ী হাজার কোটি টাকার মালিক বনে যাচ্ছে। অসাধু ব্যক্তিরা দেশের মানুষকে জিম্মি করলেও সরকার তাদের কিছু বলছে না। খুচরা ব্যবসায়ীদের অভিযোগ অসাধু স্টক ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সরকারের উচ্চপর্যায়ের আঁতাত আছে। বিভিন্ন মহল থেকে চালের বাজারে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি জন্য মিলারদের ঘাড়ে দোষ চাপালেও মিলাররা বলছেন তারা অসহায়। ধানের দাম বেশি এবং সরকারি ভাবে বাজার মনিটরিং না থাকায় চালের বাজার অস্বাভাবিক হচ্ছে। তারা অভিযোগ করেন, দেশের বড় বড় মাল্টিন্যাশনাল কোম্পিগুলোর কারণে চালের বাজার বেশি। ওই সব রাঘববোয়াল কোম্পানির বিরুদ্ধে কেউ কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না। এমনকি কোনো কথাও বলছে না।
বগুড়া জেলা চাল ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি শাহ মো. আবুল কালাম আজাদ বলেন, এক সপ্তাহের ব্ আয়ের মানুষ

এ সম্পর্কিত আরও