Mountain View

ক্ষুধার জ্বালা কাপড় নয়, খাবার চাই

প্রকাশিতঃ সেপ্টেম্বর ১৯, ২০১৭ at ৩:৫৬ অপরাহ্ণ

মিয়ানমার সেনাবাহিনীর চরম নির্মমতার শিকার হয়ে বাংলাদেশে ঢুকেছে লাখ লাখ রোহিঙ্গা। অসহায় আহত রোহিঙ্গাদের এই বিপর্যয়ে তাদের পাশে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ সরকার ও জনগণ।বাংলাদেশের কক্সবাজার জেলার টেকনাফ ও উখিয়ার বিভিন্ন স্থানে পাহাড় কেটে ছোট ছোট খুপরি ঘর তৈরী করে এবং জঙ্গলে ঘর তৈরী ছাড়াই গাছের নীচে মানবেতর জীবন যাপন করছে রোহিঙ্গা শরণার্থীরা। বাংলাদেশ সরকার ও দেশ-বিদেশের অতিথি পরায়ণ বাঙালী জাতি রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সাহায্যে এগিয়ে এসছেন।যার যেভাবে সামর্থ রয়েছে, সে সেভাবেই তাদেরকে সাহায্য-সহযোগিতা করছে।রোহিঙ্গা শরণার্থীদের কাপড় দিয়ে অনেকেই সাহায্য করেছে। তবে কাপড়ের জন্য তাদের কোন দরদ নেই।বেঁচে থাকার জন্য এক মুঠো খাবার চায় তারা।সোমবার (১৮ সেপ্টেম্বর) উখিয়ার কুতুপালং রোহিঙ্গা শরণার্থীদের নতুন ক্যাম্প ও ঘুনধুম সীমান্ত ক্যাম্পসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, রাস্তার দুই পাশে এবং পুরো পাহাড় জুড়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে রয়েছে বিভিন্ন পোষাক।পোষাকগুলো পড়ে থাকলেও নিচ্ছে না কোন রোহিঙ্গা শরণার্থী। তারা ছুটছে খাবারের পিছনে। ত্রাণবাহী কোন খাবারের গাড়ি দেখলেই সেখানে হুমড়ি খেয়ে পড়ছে তারা।রাস্তার দুই পাশে পড়ে থাকা কাপড় কেন নেয়া হচ্ছে না জানতে চাইলে একাধিক রোহিঙ্গা শরণার্থীরা জানান, আমরা কাপড় দিয়ে কি করবো। আমরা বেঁচে থাকার জন্য চাই খাবার।ক্ষুদার জ্বালায় রাস্তায় ঘুরছি। ত্রাণবাহী খাবারের পিছনে ছুটতে ছুটতে এখন ক্লান্ত হয়ে পড়েছি। তবুও ভীড় ঠেলে গিয়ে খাবার আনতে পারিনি।

নারী রোহিঙ্গা শরণার্থী ফাহিমা জানান, আমার বাবা-মাকে ওরা গুলি করে মেরে ফেলেছে। স্বামীর সঙ্গে ৪ সন্তান নিয়ে এখানে এসেছি। ক্ষুদার জ্বালায় বাচ্চারা কাঁদছে। ওদের মুখে খাবার দিতে পারছি না।তাহলে মা হয়ে বেঁচে থেকে কি লাভ? কোথায় খাবার পাবো। ক্যাম্পে অনেকে খাবার নিয়ে আসছে। আবার কেউ না খেয়ে আছে। ত্রাণ যে পায় সে অনেক পায়। আর যে না পায় সে মোটেও পায় না।

এ সম্পর্কিত আরও

Mountain View