রোহিঙ্গাদের সঙ্গে আসছে ইয়াবার চালান

প্রকাশিতঃ সেপ্টেম্বর ১৯, ২০১৭ at ৬:২৭ অপরাহ্ণ

 

মিয়ানমারের চলমান সহিংসতার সুযোগে সে দেশের প্রভাবশালী ইয়াবা কারবারিরা ইয়াবার চালান নিয়ে পালিয়ে এসে এ দেশের ইয়াবা গডফাদারদের আশ্রয়ে এলাকায় অবস্থান নিচ্ছে। ইতোমধ্যে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার হাতে বেশ কয়েকটি বড় বড় চালান ধরাও পড়েছে। অনুপ্রবেশকারী ওই রোহিঙ্গারা পালিয়ে আসার আগে থেকে ইয়াবা ব্যবসা করত সীমান্তের চিহ্নিত ইয়াবা সম্রাটদের সঙ্গে। মিয়ানমারের বর্বরোচিত হামলার শিকার হয়ে রোহিঙ্গা জনগোষ্টি এ দেশে পালিয়ে আসার সময় সীমান্তে বিজিবি-পুলিশ মানবিক দৃষ্টিকোন থেকে অনুপ্রবেশরত রোহিঙ্গাদের তেমন একটা তল্লাশি চালায় না। সে সুযোগকে কাজে লাগাতে মিয়ানমারের ইয়াবা সরবরাহকারী কতিপয় রোহিঙ্গা বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের সময় ইয়াবার চালান আনছে বলে জানা গেছে।

রোহিঙ্গাদের মাধ্যমে ইয়াবা চালান পাঠিয়ে ফোনের মাধ্যমে এপারের ইয়াবা গডফাদারদের জানিয়ে দেয় যে নির্দিষ্ট ঘাট বা পয়েন্ট দিয়ে অমুক লোকের মাধ্যমে মাল পাঠিয়েছি। প্রতিদিনের চলমান রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের ঘাটে আগত রোহিঙ্গাদের অনেককে আত্মীয় পরিচয়ে এদেশের ইয়াবা গডফাদাররা ভাগিয়ে এনে তাদের নিকটাত্মীয় ও নিজ বাসা বাড়িতে স্থান দিচ্ছে বলে এলাকাবাসী অভিযোগ তুলেছেন। হ্নীলা পশ্চিম সিকদারপাড়ার এক ব্যক্তি জানিয়েছেন ইয়াবা গডফাদার ফুতিয়া মিস্ত্রি ও জোবায়ের মাহমুদের কাছে অনুপ্রবেশকারী রোহিঙ্গাদের মাধ্যমে ১০ লক্ষ পিস ইয়াবার চালান এসেছে। এভাবে সীমান্তের বড় বড় রাঘব বোয়াল ইয়াবা গডফাদাররা মিয়ানমার থেকে প্রতিদিনই ইয়াবা বহনকারীদের মাধ্যমে ইয়াবা নিয়ে এসে তাদের নিজ বাড়ীতে আশ্রয় প্রশ্রয় দিচ্ছে। টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপ, উনচিপ্রাং, উখিয়ার রহমতেরবিল, আঞ্জুমানপাড়া, বালুখালী, নাইক্ষ্যংছড়ির তুমব্র“ ও পশ্চিমকুল পয়েন্ট দিয়ে অনুপ্রবেশকারী কতিপয় রোহিঙ্গা বড় বড় ইয়াবার চালান বহন করছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

এদিকে চলমান রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ নিয়ে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার ব্যস্ততম সময়ের কারনে ইয়াবা বিরোধী অভিযান কিছুটা শীতিল হওয়ায় এপারের তালিকাভূক্ত ইয়াবা গডফাদারদের অপতৎপরতা বৃদ্ধি পেয়েছে। এ সব চিহ্নিত ইয়াবা গডফাদারদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া জরুরী বলে মত প্রকাশ করেছেন সচেতন মহল। স্থানীয় প্রশাসন রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ ইস্যুতে উখিয়া-টেকনাফের কারও বাড়ীতে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেয়ার প্রমান পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে ঘোষণা দিলেও গডফাদাররা এসবের তোয়াক্কা করছেনা। টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী অফিসার জাহিদ হোসেন ছিদ্দিক বলেন, নবাগত রোহিঙ্গদের জন্য উখিয়া ও টেকনাফের একাধিক অস্থায়ী রোহিঙ্গা ক্যাম্প স্থাপন করা হচ্ছে। কেউ নিজেদের স্বার্থের জন্য রোহিঙ্গদের আশ্রয় দিলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। টেকনাফ মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ মইন উদ্দিন খান বলেন, যারা অনুপ্রবেশকৃত রোহিঙ্গাদের নিজেদের স্বার্থের জন্য আশ্রয় দেয় তাদের বাসা বাড়ী তল্লাশী করে প্রমান পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। টেকনাফের হ্নীলা দমদমিয়া থেকে বিজিবি অভিযান চালিয়ে ১০ হাজার পিস ইয়াবা বড়ি উদ্ধার করেছে। সোমবার ভোর রাতে দমদমিয়া ওমর খাল এলাকা থেকে ইয়াবাগুলো উদ্ধার করা হয়।

এ সম্পর্কিত আরও