ঢাকাঃ মঙ্গলবার , ২৪ অক্টোবর ২০১৭ ৫:৩০ অপরাহ্ণ
A huge collection of 3400+ free website templates JAR theme com WP themes and more at the biggest community-driven free web design site
প্রচ্ছদ / খেলাধুলা / সাধারণ মানের বিদেশী ক্রিকেটারদের থেকে কি শিখবে বাংলাদেশ?

সাধারণ মানের বিদেশী ক্রিকেটারদের থেকে কি শিখবে বাংলাদেশ?

প্রকাশিত :

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত সাহেব রাবিশ শব্দটা বেশ ব্যবহার করেন বিভিন্ন সময়। এই শব্দটা দেশের সকল শ্রেণীর ক্রিকেটপ্রেমীরাও ব্যবহার করতে পারে বর্তমানে, আমিও করছি। পরিস্থিতি এমনই হয়েছে এখন।

বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লীগ (বিপিএল)। এ ধরণের লীগে চারজন বিদেশী ক্রিকেটার খেলানো হয় প্রতিটি দেশের লীগে এবং বিশেষ অবস্থায় ৫জন খেলাতে পারে কোন দল, তাও যথাযথ কারণ দর্শানের মাধ্যমে। কিন্তু সবাইকে অবাক করে দিয়ে বিপিএল গভর্নিং কাউন্সি বিপিএল ২০১৭তে ৫জন বিদেশী ক্রিকেটার খেলানোর নিয়ম করেন, যাতে দেশের সকল ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব ও ক্রীড়াপ্রেমীরা অবাক। ৫জন বিদেশী ক্রিকেটার খেলানো হলে দেশীয় ক্রিকেটারদের সংখ্যা অনেক কমে যাবে। ঘরোয়া ক্রিকেটারদের তুলে আনার প্রক্রিয়াতে কিছুটা হলেও ব্যাঘাত সৃষ্টি হবে এবং প্রতিটি ম্যাচেই পূর্বের হিসেবে একজন দেশী ক্রিকেটার কম খেলার সুযোগ পাবে, দেশীয় ক্রিকেটাররা বঞ্চিতই হবে ম্যাচ খেলার অধিকার থেকে। তার উপর বরিশাল বুলস বাদ পড়ায় এবং ৫জন বিদেশী ক্রিকেটার খেলানোর নিয়ম বহাল থাকায় দেশীয় ক্রিকেটারদের, বিশেষ করে পূর্বের আসরগুলোতে দল না পাওয়া এবং উদীয়মান ক্রিকেটারদের দল পাওয়ার আশাভঙ্গ হয়েছে চূড়ান্ত ভাবে।

৫ জন বিদেশী ক্রিকেটার খেলানোর প্রসঙ্গে যুক্তি হলো, বিদেশী ক্রিকেটারদের থেকে অনেক কিছু শেখার আছে, প্রকাশ্য যুক্তি এটাই। এছাড়া আর কোন দৃশ্যমান যুক্তি নেই। কিন্তু সবগুলো দলের বিদেশী ক্রিকেটারের তালিকা দেখে অবাকই হতে হচ্ছে, মানহীন ক্রিকেটারের অভাব নেই। এদের থেকে কি শিখবে বাংলাদেশ? বাংলাদেশ ক্রিকেট কি এখনো ২০০০/০৫ সালের অবস্থানে আছে? যাদেরকে আনা হয়েছে, তাদের মধ্যে অধিকাংশ ক্রিকেটারদের চেয়ে বাংলাদেশের ঘরোয়া ক্রিকেটাররা এবং বিপিএলে দল না পাওয়া ক্রিকেটাররা অনেক মেধাবী, অভিজ্ঞ যোগ্য।

বিপিএলের ৭টি দলে সাধারণ মানের বিদেশী ক্রিকেটার যারা-

চট্টগ্রামে লিয়াম ডসন, জারমাইন ব্লাকউড, লুইস রিচি, কুমিল্লায় সোলেমান মিরে, ফাহিম আশরাফ, ঢাকায় শাহিন শাহ আফ্রিদি, বিটন, আকিল হোসেন, জো ডেনলি, ক্যামেরন ডেলপোর্ট, খুলনায় বেনি হাওয়েল, জফরা আর্চার, রাজশাহীতে ওসামা মীর, রাজা আলী রংপুরে এডাম লিথ, স্যাম ফেইন, জহির খান, সিলেটে গোলাম মোদ্দাসির, দানুস সানাকা, হাসারাঙ্গা, চতুরঙ্গা ডি সিলভা।

এছাড়াও আরো কিছু নাম আছে, যারা একটু পরিচিত হলেও নিজ নিজ জাতীয় দলের হয়ে খেলতে পারছেন না দীর্ঘদিন ধরে। তাদের নাম নাইবা বললাম।

প্রত্যেকটি ক্রিকেটারেরই স্বপ্ন থাকে নিজ জাতীয় দলে এবং দেশী বিদেশী বড় বড় লীগগুলোতে খেলার, উল্লেখিত বিদেশী ক্রিকেটাররাও বিদেশী লীগে খেলার স্বপ্ন দেখে, তবে যে দেশে খেলবে, সে দেশের নিজস্ব ক্রিকেটারদের অবহেলা করে যখন এমন বিদেশী আনা হবে, তখন তাদের মানহীন বলা ছাড়া বলার মতো আর কোন ভালো শব্দ নেই ও থাকে না।

পাঁচজন করে বিদেশী ক্রিকেটার খেলানোর নিয়মের কারনে প্রতিটি দলই তথা ৭টি দল বাড়তি মোট ১৪জন বিদেশী ক্রিকেটারদের দলভুক্ত করেছে। এর ফলে দল পাননি দেশের বেশ কয়েকজন অভিজ্ঞ ও উদীয়মান ক্রিকেটার।

বিদেশী যেসব খেলোয়াদের নাম উপরে উল্লেখ করা হয়েছে, তাদের চেয়ে বাংলাদেশী ক্রিকেটার তথা সামসুর রহমান, জুনায়েদ সিদ্দিকী, এনামুল হক জুনিয়র, সোহরাওয়ার্দী শুভ, শাহাদাত হোসাইন, জুবায়ের হোসেন লিখন, নাজমুল হাসান মিলন, ডলার মাহমুদ, সৈয়দ রাসেল, মাহবুবুল আলম রবিন আরো ভালো নয় কি???

বিশেষ করে সর্বশেষ ঢাকা প্রিমিয়ার লীগ খেলা সৈয়দ রাসেলের নামই ছিলো না বিপিএলের প্লেয়ার ড্রাফটে, যা হাস্যকর। সেই সাথে টি২০ ক্রিকেটে অন্যতম সেরা ক্রিকেটার সামসুর রহমান, জুনায়েদ সিদ্দিকী, ডলার মাহমুদ, মাহবুবুল আলম রবিনরা দল পাননি, তা কখনোই মেনে নেওয়ার মতো নয়। এমন হতাশার মধ্যেই যখন উল্লেখিত বিদেশী ক্রিকেটাররা দল পেয়েছে এবং খেলার সুযোগ পাবে, এই দৃশ্যটি তাদের জন্য সুখকর হলেও বাংলাদেশের ক্রিকেটপ্রেমীদের জন্য এবং বাদ পড়া ক্রিকেটারদের জন্য খুবই কষ্টের এবং হতাশার। বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিল যদি ৫ জন বিদেশী ক্রিকেটার খেলানোর নিয়ম না করতো তাহলে সৈয়দ রাসেল, সামসুর রহমান, জুনায়েদ সিদ্দিকী, ডলার মাহমুদ, মাহবুবুল আলম, সোহরাওয়ার্দী শুভ, জুবায়ের হোসেন, মাহবুবুল করিম, শাহাদাত হোসাইন, রাসেল আল মামুন, এনামুল হক জুনিয়ররা দল পাওয়ার পাশাপাশি আরো কয়েকজন উদীয়মান ক্রিকেটারদের দলভুক্ত করা যেতো।

সাধারণ মানের বিদেশী ক্রিকেটার হিসেবে যাদের নাম উল্লেখ করেছি, তাদেরকে অধিকাংশ ক্রিকেটপ্রেমীরা চিনেই না, চেনার কথাও নয়, কেননা, ওরা বড় কোন ক্রিকেটার নয়, অভিজ্ঞ ক্রিকেটারও নয়, তাদের চেয়ে বরং আমাদের ঘরোয়া এবং জাতীয় দল থেকে বাদ পড়ে থাকা ক্রিকেটাররাই অনেক অভিজ্ঞ ও মান সম্পন্ন। কাজেই ৫ বিদেশী খেলিয়ে বাংলাদেশী ক্রিকেটারদের কোনই কাজে আসবে না। বিদেশীদের হয়তো সন্তুষ্ট করা সম্ভব হয়েছে, এ ছাড়া আর কিছুই নয়।

আইপিএল, সিপিএল, কাউন্ট্রি কিংবা পিএসএলেও আমাদের হাত গুণা ২/১ জন ক্রিকেটার সুযোগ পায়। আমাদের তেমন মূল্যায়ণ করা হয় না, অপর দিকে বিপিএলে সে দেশগুলোর সাধারণ মানের ক্রিকেটারদের দূরবীন দিয়ে খুঁজে খুঁজে আনা হয়, অবহেলা করা হয় দেশের ক্রিকেটারদের, যা কাম্য নয়।

বরিশাল বুলস বাদ না পড়লে হয়তো উল্লেখিত দেশী ক্রিকেটাররা দল পেতেন, বরিশালের বাদ পড়া দূর্ভাগ্যজনকই বটে। কিন্তু বরিশাল বাদ পড়ার পরেও ৫জন বিদেশী ক্রিকেটার খেলানোর নিয়ম বহাল রাখা এবং দেশী ক্রিকেটারদের কথা না ভাবা, দেশের ক্রিকেটারদের প্রতি চরম অবজ্ঞার সামিল, যা কাম্য ছিলো না কখনোই।

চোখ রাখুন সবাই আসন্ন বিপিএলে, ৫ বিদেশী খেলানোর ফলাফল দেখুন। বিদেশী মানহীন ক্রিকেটাররা বিপিএল খেলবে আর দেশের অনেক অভিজ্ঞ ও যোগ্য ক্রিকেটার দল না পেয়ে হতাশা গ্রস্থ হয়ে সময় পার করবে, বিপিএলের সাথে এটাও মনে রাখুন।

জুবায়ের আহমেদ

ক্রীড়া লেখক

এ সম্পর্কিত আরও

Check Also

গোলরক্ষকের প্রাণ বাঁচিয়ে প্রতিপক্ষের স্ট্রাইকার পেলেন ফিফার পুরস্কার

গোল দিতেই ছুটে আসছিলেন স্ট্রাইকার। সুযোগ পেয়েও তিনি গোল দেননি। মাটিতে লুটিয়ে পড়া প্রতিপক্ষের গোলরক্ষকের …