Mountain View

সু চির শর্ত মেনে রাখাইনে ফিরতে পারবেন মাত্র ৭৫৪৮ জন রোহিঙ্গা!

প্রকাশিতঃ সেপ্টেম্বর ২১, ২০১৭ at ৫:৩৭ অপরাহ্ণ

 

বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন মিয়ানমারের রাষ্ট্রীয় উপদেষ্টা অং সান সু চি। এক্ষেত্রে ১৯৯৩ সালে বাংলাদেশ-মিয়ানমারের মধ্যে স্বাক্ষরিত চুক্তিকে ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করার ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি। তবে ওই চুক্তি অনুযায়ী কেবল মিয়ানমারের বৈধ কাগজপত্রসহ বাংলাদেশে নিবন্ধিতরাই ফিরতে পারবেন রাখাইনে। বাংলাদেশের এক সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে উদ্ধৃত করে অস্ট্রেলিয়াভিত্তিক সংবাদমাধ্যম এবিসি নিউজ পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের মধ্যে ৫৮০০ জন নিবন্ধন করেছেন বলে খবর দিয়েছে। তারাও সবাই রাখাইনে ফিরতে পারবেন, এমন নয়। কেননা নিবন্ধিত হওয়া রোহিঙ্গাদের মধ্যে নাগরিকত্বের প্রমাণ থাকা ব্যক্তিরাই কেবল ফিরে যেতে পারবেন। ফ্রন্টিয়ার মিয়ানমারের ২০১৫ সালের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী রাখাইনে তখন থাকা ১০ লাখ রোহিঙ্গার মধ্যে ন্যাশনাল ভেরিফিকেশন কার্ড পেয়েছিলেন ৭৫৪৮জন। এর বাইরে আর কোনও কাগজপত্রই রোহিঙ্গাদের নেই। তাই ৭৫৪৮ জনের বেশি মানুষের নিবন্ধন সত্ত্বেও মিয়ানমারে ফেরার সুযোগ নেই।

২৫ আগস্ট নিরাপত্তা বাহিনীর চেকপোস্টে বিদ্রোহীদের হামলার পর ক্লিয়ারেন্স অপারেশন জোরদার করে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। তখন থেকেই মিলতে থাকে বেসামরিক নিধনযজ্ঞের আলামত। পাহাড় বেয়ে ভেসে আসতে শুরু করে বিস্ফোরণ আর গুলির শব্দ। পুড়িয়ে দেওয়া গ্রামগুলো থেকে আগুনের ধোঁয়া এসে মিশতে শুরু করে মৌসুমী বাতাসে। মায়ের কোল থেকে শিশুকে কেড়ে নিয়ে শূন্যে ছুড়ে দেয় সেনারা। কখনও কখনও কেটে ফেলা হয় তাদের গলা। জীবন্ত পুড়িয়ে মারা হয় মানুষকে।
ওই সহিংসতা থেকে বাঁচতে এ পর্যন্ত ৪ লাখ ২০ হাজারের বেশি মানুষ বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে।

১৯৯২ সালেও এক সহিংসতাকে কেন্দ্র করে হাজার হাজার রোহিঙ্গা পালিয়ে এসেছিলো বাংলাদেশে। তারপর ১৯৯৩ সালে একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিলো বাংলাদেশ মিয়ানমারের মধ্যে। সু চি বলেছেন, সেই চুক্তি অনুসরণ করেই রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে আনা যেতে পারে। সেসময় বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক নিবন্ধিত রোহিঙ্গারাই শুরু দেশে ফিরে যেতে পেরেছিলো। ফলে সেই নিয়ম অনুসরণ করা হলে অনেক রোহিঙ্গাই দেশে ফিরতে পারবে না। এবিসি নিউজের দাবি, এতে করে নতুন আসা রোহিঙ্গাদের ৯৯ শতাংশই এই চুক্তিতে পড়বেন না। এক বাংলাদেশি কর্মকর্তার বরাতে সংবাদমাধ্যমটি জানায়, নতুন ৪ লাখ রোহিঙ্গার মধ্যে মাত্র ৫ হাজার ৮০০ জন নিবন্ধন করেছেন।

সু চির প্রতিশ্রুতিকে অসম্ভব শর্ত সমন্বিত ‘মিথ্যে আশা’ বলে মনে করেছেন বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গারা। এবিসি নিউজ কথা বলেছে বেশ কয়েকজন রোহিঙ্গাদের সঙ্গে। খুব অল্পসংখ্যক রোহিঙ্গাই দেশে ফিরতে চেয়েছেন। ইসলাম হুসেন নামে এক রোহিঙ্গা বলেন, ‘এখানে থাকা হয়তো সত্যি কঠিন। কিন্তু আমাদের কেউ ধর্ষণের শিকার হচ্ছে না। হত্যার আতঙ্কে থাকতে হচ্ছে না আমাদের।’

এ সম্পর্কিত আরও