Mountain View

সৌম্য সরকারের বার বার ব্যর্থ হওয়ার আসল কারন ফাস করা হলো, দেখেনিন

প্রকাশিতঃ সেপ্টেম্বর ২২, ২০১৭ at ৭:৫০ পূর্বাহ্ণ


স্পোর্টস ডেস্ক,বিডি টোয়েন্টিফোর টাইমসঃ একটি পরিসংখ্যানে থেকে দেখা গেছে যে ২০১৫ সালের বিপিএলের আগে সৌম্য সরকারে পার্ফরম্যান্স ভালো ছিল। তারপর থেকে আর খুজে পাওয়া যাচ্ছে সেই সৌম্য সরকারকে।বিপিএল ২০১৫ আসরের আগে সৌম্য সরকারের পারফর্মেন্স যেমন ছিলো তা দেখেনিন-১। জিম্বাবুয়ে সিরিজ: ২০(১৮)২। বিশ্বকাপ:আয়ারল্যান্ডের সাথে করেছেন ২৮(২৫) রান।শ্রীলঙ্কার সাথে করেছেন ২৫(১৫)।স্কোটল্যান্ডের সাথে করেছেন ২(৫)।ইংল্যান্ডের সাথে করছেন ৪০(৫২)।নিউজিল্যান্ডের সাথে ৫১(৫৮)।ইন্ডিয়ার সাথে করেছেন ২৯(৪৩)।৩। পাকিস্থান সিরিজ: ২০(৩৬) + ১৭(১১)+ ১২৭*(১১০)৪। ভারত সিরিজ: ৫৪(৪০)+ ৩৪(৪৭) + ৪০(৩৪)৫। সাউথ আফ্রিকা সিরিজ: ২৭(২৭)+৮৮*(৭৯) + ৯০(৭৫)১৬ ম্যাচ খেলে টোটাল রান: ৬৯২গড়: ৪৯.৪২স্ট্রাইকরেট: ১০২.৫১সৌম্য সরকারবিপিএল ২০১৫ আসরের পরে সৌম্য সরকারের পারফর্মেন্সঃ
১। আফগানিস্থান সিরিজ০(৩)+২০(৩১)+১১(১১) ২। নিউজিল্যান্ড সিরিজ: ১(৮)৩। শ্রীলংকা সিরিজ: ১০(১৩)+৩৮(৪৪)৪।

ত্রিদেশীয় সিরিজ:আয়ারল্যান্ডঃ ৫(৭)নিউজিল্যান্ডঃ ৬১(৬৭)আয়ারল্যান্ডঃ ৮৭(৬৮)নিউজিল্যান্ডঃ ০(১)৫। চ্যাম্পিয়নস ট্রফিঃইংল্যান্ডঃ ২৮(৩৪)
অস্ট্রেলিয়াঃ ৩(১১)নিউজিল্যান্ডঃ ৩(১৩)ইন্ডিয়াঃ ০(২)১৪ ম্যাচ খেলে সৌম্যের রান, ২৬৭ রান!গড়: ২০.৫৩স্ট্রাইকরেট : ৮০.৪২আয়ারল্যান্ড সিরিজের ওই ২টা ম্যাচ বাদ দিলে মোট রান : ১১৯, গড়:৯.৯১!! স্ট্রাইকরেট : ৬০.৪০১০০ স্ট্রাইকরেটের উপরে ব্যাট করা একটা ৫০ গড়ের ব্যাটসম্যানের হঠাৎ করে ওডিআইতে এতো খারাপ পারফর্মেন্স হওয়ার কারন টা কি, কেউ কি ধরতে পেরেছেন? কি এমন হলো যে ছেলেটার আত্ববিশ্বাস একদম তলানিতে চলে গেলো? উত্তরটা খুবই সহজঃ বিপিএল-২০১৫!নিম্ন মাণের স্লো উইকেটে ম্যাচ খেলা আর সেই উইকেটে তার সভাব সুলভ ব্যাটিং করতে না পারাটাই তার আত্ববিশ্বাসে চির ধরায়।সেই বছর বিপিএলের গড় স্কোর ছিল মাত্র ১১৮। ম্যাচের পর ম্যাচ একই পিচে খেলা চলার জন্যে উইকেটে ছিল না ব্যাটসম্যানদের জন্যে কোনো সাহায্য। তারপরও বিপিএলের প্রথম কয়েকটা ম্যাচে বিগত সাউথ আফ্রিকা সিরিজের ফর্ম ঠিকি ধরে রেখেছিলেন সৌম্য। দল রান না পেলেও প্রথম ৪ ম্যাচে সৌম্য ছিলেন উজ্জ্বল, ২৮.২৫ গড়ে ১৩৮ স্ট্রাইকরেটে ১টা ফিফটি সহকরেন ১১৩ রান। কিন্তু পরের ম্যাচে গিয়ে তার দল অল আউট হয় মাত্র ৮৪ রানে, সৌম্য আউট হয় ৫ রানে, সিমন্স করেন ১ রান, মিসবাহ ৩ রান, পেরারা ২ রান। যে উইকেটে লিন্ডেন সিমন্স, থিসারা পেরারাদের মতো ব্যাটসম্যানের স্ট্রাইকরেট ছিল ৮০ এর নিচে, সেই উইকেটে রান করা কতোটা কঠিন, সেটা মনে হয় বলে বোঝানোযাবে না।

আর সেই ম্যাচ থেকেই সৌম্যের গ্রাফটা হয় নিন্মমুখি।পরের ৭ ম্যাচে সৌম্যের ব্যাট থেকে ৮২.৬০ স্ট্রাইকরেটে আসে মাত্র ৫৭ রান; গড় মাত্র ৮.০১! অবশ্য শুধু সৌম্য না, সেই বিপিএলে আফ্রিদি, ড্যারেন সামি, সাঙ্গাকারার স্ট্রাইকরেট রেট ছিল ১০০ এর আশে পাশে, যা অকল্পনীয়!! পরিসংখ্যান আর ইতিহাস বলছে বিপিএলের এই বাজে উইকেটের জন্যেই সৌম্য তার আত্ববিশ্বাস হারিয়ে ফেলেছে, যার ফলাফল পরবর্তী সিরিজে প্রকট ভাবে চোখে পড়েছে।পরবর্তী সিরিজ গুলোতে শট খেলতে গিয়ে আত্ববিশ্বাসের অভাব দেখা গেছে, যার একমাত্র কারন বিপিএলে রান না পাওয়া ছাড়া আর কিছু হতে পারে না।প্রতিভাবান প্লেয়ার তুলে আনার জন্যে যে বিপিএল আয়োজন করা হয়, এক মাঠে টানা খেলা পরিচালনা আর বাজে উইকেটের কারনে সৌম্যের আত্ববিশ্বাস হারানোর জন্যে সেই বিপিএল আজ প্রশ্নবিদ্ধ। সব সমালোচনা আর অতীতকে পেছনে ফেলে সাউথ আফ্রিকা সিরিজে আবারো সেই চিরচেনা আত্ববিশ্বাসী সৌম্যকে দেখা যাবে, সেই আশা ১৬ কোটি মানুষের।

এ সম্পর্কিত আরও