শ্রদ্ধা, কৃতজ্ঞতা আর ভালোবাসার নিদর্শন

প্রকাশিতঃ সেপ্টেম্বর ২৩, ২০১৭ at ১১:১৫ পূর্বাহ্ণ

আজমুল আজিজ, বিডি টোয়েন্টিফোর টাইমস :  আমার রুমে ছাত্রলীগের একজন সেন্ট্রাল নেতা থাকেন। তার এলাকার ছোট ভায়েরা ভার্সিটির ভর্তি পরিক্ষা দিতে এসেছে। রাতে ঘুমানোর সময় নিজে ফ্লোরে ঘুমিয়ে তাদেরকে বেডে ঘুমাতে বলেন। পরের দিন তাদের সাথে চা খেতে গিয়ে গল্পের এক পর্যায়ে কেঁদে কেঁদে বলতেছিল ভাই এলাকায় গেলে সাধারণ মানুষ দূরের কথা উপজেলার চেয়ারম্যান পর্যন্ত তাকে সন্মান করে।

আর সেই ভাই আমাদেরকে বেডে ঘুমিয়ে তিনি নিচে ঘুমালেন। শ্রদ্ধা হৃদয়ে যা ছিল, সেটা তো উনিই নিয়ে নিয়েছেন, বাকী জীবন মানুষকে কি দিব? ছেলেটার কথা শুনে আমি বাকরুদ্ধ। ইচ্ছা হচ্ছিল ওকে জড়িয়ে ধরে নিজেও কেঁদে ফেলি। মানুষ মানুষকে কিভাবে এত শ্রদ্ধা করতে পারে।

গত বছরের কথা ;এক রিক্সাচালকের সাথে কথা হচ্ছিল। ওনাকে প্রাই দেখি বঙ্গবন্ধু হলের গেটে রিক্সা নিয়ে দাড়িয়ে থাকে।লোকটা অনেক ভদ্র টাইপের।একদিন উনাকে বললাম এত জায়গা থাকতে আপনি অধিকাংশ সময় আমাদের হল গেটে সময়  কাটান কেন? উনি কি বলেছিলেন শুনতে চান?

ভাইটি বলতেছিলেন আমার মায়ের অপারেশনের সময় বঙ্গবন্ধু হলের মামুন নামের একটা ছেলে ব্লাড দিয়েছিল। মামুন ভায়ের নাম্বারটা হারিয়ে ফেলেছি। মামুন ভাইরে খুজি।দিনের অধিকাংশ সময় বঙ্গবন্ধু হলের এই রোডটাতে অনেকবার আসি।কিন্তু মামুন ভায়ের দেখা পাই না।

আমরা নিজেরা নিজেদেরকে কতবার বকা দেই যে আমরা বাঙ্গালীরা অকৃতজ্ঞ জাতি। ব্যাপারটা সত্তিই কি তাই?এর বেশি কৃতজ্ঞতা স্বরুপ আর কি থাকতে পারে! পরিক্ষা দিতে আসা ছোট ভাইটির শেষ কথা ছিল; এ জন্যই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দেশ সেরা। এই দেশেই অনেক বেশি কৃতজ্ঞ মানুষ আছে। হয়তো আমরা ভুল মানুষের কাছে কৃতজ্ঞতা আশা করি।

এ সম্পর্কিত আরও

no posts found