Mountain View

একটা সুযোগ তুষার ইমরানের প্রাপ্যই

প্রকাশিতঃ সেপ্টেম্বর ২৫, ২০১৭ at ১০:১২ পূর্বাহ্ণ

জাতীয় দলে সুযোগ পাওয়ার একমাত্র মাধ্যম ঘরোয়া ক্রিকেট। এটা প্রতিষ্ঠিত সত্য প্রতিটি দেশের, প্রতিটি খেলায়। কিন্তু বাংলাদেশে বর্তমানে এই নিয়মের ব্যত্যয় ঘটছে প্রচুর। সুযোগ পাওয়াটা সিনিয়র জুনিয়র কোটায় ভাগ হয়ে গেছে অর্থাৎ ঘরোয়া ক্রিকেটে ভালো খেললে জুনিয়ররা সুযোগ পাবে কিন্তু সিনিয়ররা না। এই দ্বিমুখী নীতিই এখন বাংলাদেশ ক্রিকেটে প্রতিষ্ঠিত।

সিনিয়র জুনিয়র বিষয়টা একটু পরিস্কার করি, জাতীয় দলে কিছুম্যাচ খেলে গেছেন এমন ক্রিকেটার বাদ পড়লেই তার ক্যারিয়ার শেষ, তাদেরকেই সিনিয়র বুঝাতে চেয়েছি, আর যারা একেবারেই তরুন, তাদেরকে জুনিয়র বুঝাতে চেয়েছি।

২০০৭ সালের মধ্যে অর্থাৎ ২৩ বছর বয়সেই ৪১টি ওয়ানডে ও ৫টি টেস্ট খেলা তুষার ইমরানের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার শেষ হয়। অথচ ২০০৭ সালের পর অদ্যাবধি পর্যন্ত ঘরোয়া ক্রিকেটের অন্যতম সেরা পারফরম্যার হলেও তুষারের নামটাও প্রকাশ্যে মুখে আনেনি কোনদিন নির্বাচক এবং সংশ্লিষ্টরা।

এছাড়াও বাদ পড়া অলক কাপালি, শাহরিয়ার নাফিজ, এনামুল হক বিজয়, সোহাগ গাজী, নাঈম ইসলাম, আল আমিন হোসাইন, জুবায়ের হোসেন লিখন সহ আরো অনেক ক্রিকেটারতো আছেই এই তালিকায়।

বেশ কয়েক বছর ধরে প্রতি বছরই প্রথম শ্রেণীর ম্যাচের লীগগুলোতে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকের তালিকার উপরের দিকেই থাকে, কিন্তু তার পাপ হলো সে জাতীয় দলে ব্যর্থ ছিলো ২০০৭ সালের আগে, তাই তাকে এখন বিবেচনায় আনা যাবে না।

চলতি জাতীয় ক্রিকেট লীগে মাত্র ১টি ম্যাচ শেষ হয়েছে এবং একটি চলমান আছে, যা আজকে শেষ হবে। খুলনা বিভাগের হয়ে ২টি ম্যাচেই অংশগ্রহণ করেছেন তুষার ইমরান। প্রথম ম্যাচে ৫৪ রানের ইনিংস খেলার পর চলতি দ্বিতীয় ম্যাচের ১ম ইনিংসে ১৩২ ও ২য় ইনিংসে ৫৭ রান করে অপরাজিত থাকেন।

গতকালই লেখেছিলাম, রান নিজেই তুষার ইমরানকে খোঁজে শিরোনামে একটি লেখা। এই শিরোনামটির এক একবর্ণও মিথ্যে নয়, তা ২য় ইনিংসে ৫৭ রানে অপরাজিত থাকাই প্রমাণ করে।

জাতীয় দল তিন ফরম্যাটেই ভালো খেললেও বেশ কয়েকজন পারফরম্যার আছেন, যারা ব্যর্থ হচ্ছেন, শুধুমাত্র সিনিয়রদের ভালো ক্রিকেট খেলার জন্যই জাতীয় দল সাফল্য পাচ্ছে। তাই ব্যর্থদের বিশ্রামে দিয়ে সিনিয়রদের কাজে লাগানোর কোন বিকল্প ছিলো না।

তাছাড়া ঘরোয়া ক্রিকেটে রানের বন্যা বইয়ে দিলেও জাতীয় দলে সুযোগ না পেলে তা অবিচারের সামিল এবং ন্যায় বিচারের লঙ্ঘনও। সর্বোপরি ক্রিকেটের জন্য তা কখনোই শুভ নয়। পরবর্তী প্রজন্মের কাছে ভুল বার্তা পৌঁছাবে এর মাধ্যমে। এখন যারা তরুন হিসেবে সুযোগ পাচ্ছে, ওরাও ব্যর্থ হতে পারে, তখন যদি এদেরকেও এভাবে বসিয়ে দেওয়া হয়, তা কখনোই সঠিক সিদ্ধান্ত নয়।

টেস্টে তুষারের ফর্মটা জাতীয় দলের জন্য খুবই প্রয়োজন ছিল। আরেকটা সুযোগ তার প্রাপ্যই। শুধুই বিসিবি ও নির্বাচকদের স্বদিচ্ছার উপর নির্ভর করে বিষয়টা।

জুবায়ের আহমেদ
ক্রীড়া লেখক

এ সম্পর্কিত আরও