Mountain View

বাংলাদেশে আশ্রয় নিতে এসেছি-দেহ ব্যবসা করতে আসিনি

প্রকাশিতঃ সেপ্টেম্বর ২৫, ২০১৭ at ৮:৫১ অপরাহ্ণ

 

মেয়েটার ছবি তোলা যাচ্ছিল না। না তোলার পেছনে অবশ্য একটি কারণও আছে। মেয়েটা ঘোমটা দিয়েছিল মুখে। মেয়েটা প্রাণপনে চেষ্টা করছিল ক্যামেরা থেকে নিজেকে আড়াল করার জন্য। এক পর্যায়ে আভিজাত্যের ছাপওয়ালা মেয়েটি ক্যামেরার মুখোমুখি কথা বলতে রাজি হলো। হামিদা নাম তার। সে ও তার মা মিয়ানমারের বুচিদং টমবাজার কুতুপালং অস্থায়ী রোহিঙ্গা বস্তিতে পালিয়ে এসে ঠাঁই নিয়েছে। হঠাৎই জানালো এখানে আশ্রয় নেওয়ার পরও সে ও তার মা স্বস্তিতে নেই।

কিছু একটা ধাঁধার মত রয়ে গেলো। কিন্তু তাদের স্বস্তিতে না থাকার কারণটা আসলে কী???

রাখাইন রাজ্য থেকে মিয়ানমার সেনাবাহিনী ও রাখাইনের চলমান নরপশুর মত হামলায় অগুণিত রোহিঙ্গারা বাংলাদেশের পারিয়ে এসে আশ্রয় নিয়েছে। তাদের মধ্যে হামিদার মত অবিবাহিত তরুণীও রয়েছে অনেক। যদিও এসব তরুণীরা প্রাণ বাঁচাতে বাংলাদেশে পারিয়ে এসেছে; কিন্তু এখানেও প্রতিনিয়ত কিছু অস্বস্তি তরুণীদের তাড়া করে বেড়াচ্ছে। দেশীয় কিছু লম্পট ও দালালদের কালো হাতের জোড়ে তরুণীদের এ অস্বস্তি তাড়া করে বেড়াচ্ছে। সেজন্যই রোহিঙ্গা তুরণীরা নিরাপত্তাহীনতায় ভূগছেন।

হামিদা নিজের চোকের সামনে তার বাবাকে গুলি করে হত্যা করতে দেখেছেন। এ বিষয়ে হামিদা বলেন, “চোখের সামনে বাবাকে মরতে দেখেছি। চরম আতঙ্ক নিয়ে নিজের প্রাণ বাঁচাতে পালিয়ে এসেছি এখানে। এখানে এসেও দেখছি শান্তি নেই। এখানে লম্পটদের কালো হাত প্রতিনিয়তই তাড়া করে বেড়াচ্ছে। যার জন্য একটুও স্বস্তিতে নেই”।

তার কিছুক্ষণ পরেই হামিদা দৃঢ় কন্ঠে জানালেন, “এখানে আশ্রয় নিতে এসেছি, এখানে তো দেহ ব্যবসা করতে আসিনি”। হামিদার এমন কথায় তার মা আলেয়া খাতুনের মুখে স্পষ্ট করে বুঝা গেলো চিন্তার ছাপ। আলেয়া খাতুন উদ্বিগ্ন কন্ঠে জানালেন, “জান বাঁচাতে নিজের দেশ ছেড়ে এখানে পারিয়ে এসেছি। এখানে আসার পর থেকে সুন্দরী মেয়েকে নিয়ে দেখি বিপদ আমাদের পিছু তাড়া করেই চলছে। খুব ভয় করে; কখন জানি মেয়েটা আমার হাতছাড়া হয়ে যায়। সেজন্য মেয়ে সব সময় নিজের হাতে ধরে রাখছি”।

কেবল মাত্র হামিদাই নয়; রাখাইন থেকে পারিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের সাথে কথা বলে আরও জানা গেছে, “রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়ার পর থেকেই ভাড়া নিয়ে দালালদের সাথে বিড়ম্বনা, নগদ অর্থ, স্বর্ণলংকার ও মূল্যবান সব জিনিসপত্র এমন কী পানি-খাবার সঙ্কটে তারা ভূগছেন”। পাশাপাশি সুন্দরী তরুণীদের বাবা মা ভূগছেন চরম নিরাপত্তাহীনতায়। যে সব তরুণীরা পারিয়ে এসেছেনে তাদের অধিকাংশই তাদের স্বজন হত্যার স্বীকার। সারা যেন শোকের সাগড়ে হাবুডুবু খাচ্ছে। আবার এখানে আসার লম্পটদের কালো হাত তাদেরকে তাড়া করে বেড়াচ্ছে। এ যেন “মরার উপর চাপাতির ঘাঁ”!

এ সম্পর্কিত আরও