Mountain View

অবশেষে বাংলাদেশেও পৌঁছে গেছে ব্লু হোয়েল গেম : রক্ষা পাওয়ার দায়িত্ব আপনার

প্রকাশিতঃ অক্টোবর ৯, ২০১৭ at ৯:৩০ পূর্বাহ্ণ


আতিকুর রহমান কাযিন,স্টাফ রিপোর্টার,বিশ্বের বিভিন্ন দেশের পর এখন বাংলাদেশেও পৌঁছে গেছে ‘ব্লু হোয়েল’ গেমস। আর এই গেমসের নেশায় পড়ে রাজধানীতে আত্মহত্যা করেছে এক তরুণী। গত বৃহস্পতিবার রাতে সেন্ট্রাল রোডের বাসায় নিজের পড়ার কক্ষে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় অপূর্বা বর্ধন স্বর্ণার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

রাশিয়ার পুলিশের এক প্রতিবেদনে জানা গেছে, রাশিয়ার এক তরুণ মরণঘাতি এই গেমসটি তৈরি করেন।
অনলাইনে একটি কমিউনিটি তৈরি করে চলে এ প্রতিযোগীতা। ব্লু হোয়েল গেমস টির সর্বমোট ৫০টি ধাপ রয়েছে বলে জানা গেছে। ২০১৬ সালের নভেম্বর পর্যন্ত ইন্টারনেটে ‘মরণ নেশার’ এ গেমসস খেলে সারা বিশ্বে ১৩০ জন মারা গেছেন। এদের মধ্য বাংলাদেশের তরুণী অপূর্বা বর্ধন স্বর্ণাও পিছিয়ে ছিল না।

সাম্প্রতিক সময়ে এই গেমসটির জনপ্রিয়তা বাড়ছে দক্ষিণ এশিয়ার কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে। তবে এই গেমস টি দ্রুত বাংলাদেশের তরুণীদের মাঝে ছড়িয়ে পরতে খুব বেশি সময় লাগেনি। যাদের ফাঁদে পরতে হলো তরতাঁজা একটি জীবন অপূর্বা বর্ধন স্বর্ণার লাশটি। এমনকি গত দু’মাস ধরে ভারতজুড়ে চলছে ব্লু হোয়েল আতঙ্ক। কিন্তু অপূর্বা বর্ধন স্বর্ণা নামের ১৩ বছর বয়সী এক তরুণীর আত্মহত্যার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে এই প্রথম এমন ঘটনা শোনা গেছে ।

১৩ বছরের বয়সী এই তরুণী অপূর্বা বর্ধন স্বর্ণা ব্লু হোয়েলের কিউরেটরের নির্দেশ মতো লিখে যাওয়া একটি চিরকূটে লিখেছিলেন, আত্মহত্যার আমার আত্মহত্যার জন্য কেউ দায়ী নয়।’ লেখা শেষে গেমসের নির্দেশনা মতো একটি হাসির চিহ্ন আঁকা।

বিশেষ সূত্রে জানা গেছে, এটা কোনও অ্যাপ নয়। নয় কোনও গেমও। এটা জাস্ট একটা লিঙ্ক। আর সেটা চালান এক জন অ্যাডমিন। ওই গেম খেলতে যিনিই ঢোকেন, তাকে কয়েকটি টাস্ক দেন অ্যাডমিন। প্রত্যেক দিন সেই টাস্কগুলো শেষ করতে হয়। ওই গেম খেলতে ঢোকার পর কয়েকটা দিন কাটে মোটামুটি স্বাভাবিক ভাবেই। সেই নির্দেশনা অনুযায়ী খেলোয়াড়কে কবরস্থানে ঘুরে আসা থেকে শুরু করে নিজের হাত কাঁটতে হয়। ভয়ংকর সিনেমা দেখা, নিজেকে ক্ষত-বিক্ষত করতে করতে এক পর্যায়ে গিয়ে তাকে আত্মহত্যা করতে হয়।

গেমটির নির্মাতাকে আটক করেছিল রাশিয়ার পুলিশ। এ ধরনের মরণ গেম তৈরির কারণ সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদে ফিলিপ বোডিকিন নামের মনোবিজ্ঞানের ওই শিক্ষার্থী বলেন, যারা মারা যেতে চায় তাদের আত্মহত্যার পথকে সহজ করে দিতেই তৈরি করা হয়েছে এ গেম।

তবে বিশেষজ্ঞরা বলছে,দেশের তরুন-তরুণীর রক্ষা করতে বাংলাদেশ সরকারকেও ভারত সরকারের মতো পদক্ষেপই নিতে হবে বলে মনে করেন । তারা বলেন,সরকারকে প্রথমে এই গেমসের ওয়েব লিঙ্কটি বন্ধ করে দিতে হবে। অভিভাবকদের সচেতনতায় সরকারকে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। অন্যদিকে অভিভাবকদের উচিত হবে তার সন্তান প্রযুক্তি কিভাবে ব্যবহার করছে সেদিকে লক্ষ্য রাখা। সে যাতে কোনোভাবেই এ ধরনের খারাপ কিছুতে যুক্ত হতে না পারে সেজন্য প্রযুক্তি সম্পর্কে সচেতনতা জরুরি। গেমটি ইন্টারনেট থেকে মুছে ফেলতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে উদ্যোগ নিতে হবে বলেও মনে করেন তারা।

এ সম্পর্কিত আরও

no posts found
Mountain View